সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আল-অ্যারাবিয়া ও আল-জাজিরায় প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়া তীব্র আতঙ্ক এবং যাত্রীদের ছোটাছুটির দৃশ্য ফুটে উঠেছে। আকস্মিক সেই আগুনের ঝলকানির ভিডিওতে বিমানবন্দরের অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হওয়ার চিত্রও দেখা গেছে। হঠাৎ আগুনের ঝলক দেখা দেওয়ার পর যাত্রীদের মধ্যে ছোটাছুটি শুরু হয়। হামলায় বিমানবন্দরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সৌদি আরব হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না কেন। আল-অ্যারাবিয়ার প্রকাশ করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বিমানবন্দরের একটি ফটকের সামনে যাত্রীরা ভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (জিএসিএ) তথ্য অনুযায়ী, নিহত ১২ জনের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক রয়েছেন। এছাড়াও ভুক্তভোগীদের তালিকায় দুই বাংলাদেশি ছাড়াও একজন করে ফিলিস্তিনি, মার্কিন, মিসরীয়, জর্ডানি, সিরীয় ও সুদানি নাগরিকের নাম পাওয়া গেছে। হামলার পরপরই কিং খালিদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়, যাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহত ২, আইসিইউতে ৪ বাংলাদেশি: ঢাকায় আটকে পড়েছেন ৩ হাজার প্রবাসী।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য বলছে, এই হামলার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দরের প্রায় ২৯১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া, ফ্লাইদুবাই, লুফথানসা গ্রুপ এবং পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই রুটে তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভ্রমণের আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত পাঁচ দিনের মধ্যে কিং খালিদ বিমানবন্দরে এটি চতুর্থ হামলার ঘটনা। এসব হামলার পেছনে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক এই হামলাগুলোর মধ্যে শনিবারের ঘটনাটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর পরের দিন, রবিবারও বিমানবন্দরে আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত ও অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
বর্তমানে রিয়াদের বিমানবন্দরগুলোতে একের পর এক এমন হামলার ঘটনায় সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার হলো বিমান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এই সপ্তাহে হুথিরা কতবার সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















