বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর কারণ নিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। গোয়ার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই এই বরেণ্য অভিনেতা মারা গেছেন। তার মৃত্যুর ঘটনাটি ‘মেডিকো-লিগ্যাল’ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হয়েছিল। রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকালে সরকারি গোয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক জানিয়েছে ন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিনেতা নানা পাটেকর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অ্যাথেরোস্ক্লেরোটিক করোনারি আর্টারি ডিজিজ’-এর কারণে তার হৃৎপিণ্ডের বাঁ দিকের প্রধান ধমনিতে রক্ত জমাট বেঁধেছিল। এর ফলে তীব্র হার্ট অ্যাটাকের কবলে পড়েন তিনি। ধমনিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হৃৎপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল, যা তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ধমনি হৃদযন্ত্রের একটি বড় অংশে রক্ত সরবরাহ করে।
নানা পাটেকরের ছেলে মালহার পাটেকরের ভাষ্যমতে, গত ৮ অক্টোবর অভিনেতা বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তার বাড়িতে একটি মেডিকেল টিম পৌঁছালেও তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে মণিপাল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নানা পাটেকরের ছেলে মালহার পাটেকরের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে জানায়, গত ৮ অক্টোবর নানা পাটেকর বুকে তীব্র ব্যথার কথা জানান। তারা গিয়ে অচেতন অবস্থায় পান তাকে এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে সুস্থ করার চেষ্টা করেন।
১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের মুরুদ-জঞ্জিরায় জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পীর কর্মজীবন ছিল প্রায় পাঁচ দশকের। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক ঘটে তার। পরবর্তীতে ‘ক্রান্তিবীর’, ‘পারিন্দা’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’ ও ‘নাটসম্রাট’-এর মতো অসংখ্য কালজয়ী সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। এছাড়া ১৯৯১ সালে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ পরিচালনার মাধ্যমে নির্মাণেও নিজের মুন্সিয়ানার পরিচয় দেন। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী এই তারকাকে ২০১৩ সালে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি জগতে পা রাখেন। ছোটবেলা থেকেই নাটকের প্রতি তার আগ্রহ ছিল।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 














