দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহু বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন। বর্তমানে ৮৪ বছর বয়সেও তিনি সমানতালে অভিনয়ে সক্রিয়। তবে তার অভিনয় জীবনের অন্যতম আক্ষেপ রয়ে গেছে অস্কারজয়ী পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের নির্দেশনায় ‘ফেলুদা’ চরিত্রে অভিনয় করতে না পারা। সত্যজিৎ রায় ব্যক্তিগতভাবে চেয়েছিলেন অমিতাভ যেন তার কাজে অংশ নেন, কিন্তু নানা বাস্তব জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। বয়স ৮৪ পেরোলেও এখনো অভিনয়ে সরব। অভিনয় নিয়ে নানামুখী পরীক্ষণও চালিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ সময়ের জন্য তাকে আমাদের প্রয়োজন ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, সেই সময় তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন। লজিস্টিকস ব্যাপারগুলো কোনোভাবেই সামঞ্জস্য করা সম্ভব হয়নি। ”। বাংলা সাহিত্যে দারুণ জনপ্রিয় সত্যজিৎ রায়ের কিংবদন্তি গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদা; পুরো নাম— প্রদোষচন্দ্র মিত্র।
আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে দূরদর্শনের জন্য সত্যজিৎ রায় ফেলুদার উপন্যাস ‘যত কাণ্ড কাঠমান্ডুতে’ অবলম্বনে ‘কিসসা কাঠমান্ডু কা’ নামে একটি হিন্দি সিরিজ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন। এ বিষয়ে সত্যজিতের পুত্র সন্দীপ রায় জানান, তারা অমিতাভকে নিয়ে কাজের ব্যাপারে আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ শুটিং শিডিউল এবং লজিস্টিকসজনিত জটিলতার কারণে অমিতাভ তখন সময় দিতে পারেননি। ফলে চরিত্রটিতে শেষ পর্যন্ত অভিনয় করেন শশী কাপুর। অমিতাভ বচ্চন নিজেও একাধিক সাক্ষাৎকারে এই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার বিষয়টি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। যার নাম ঠিক করেন—‘কিসসা কাঠমান্ডু কা’।
বচ্চন পরিবারের সঙ্গে সত্যজিতের সম্পর্ক বেশ পুরোনো। ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বরে ফেলুদার প্রথম গল্প ‘ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি’ প্রকাশের পর এই গোয়েন্দা চরিত্রটি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ওঠে। এরপর থেকেই ফেলুদা নিয়ে বিভিন্ন নির্মাণে সৌমিত্র চ্যাটার্জি, সব্যসাচী চক্রবর্তী, আবির চ্যাটার্জি ও টোটা রায়চৌধুরীর মতো অভিনেতারা কাজ করেছেন। অন্যদিকে, ১৯৬৩ সালে সত্যজিতের ‘মহানগর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে জয়া ভাদুরি ওরফে জয়া বচ্চন প্রথম বড় পর্দায় অভিনয়ের সুযোগ পান।
পর্দায় ফেলুদা হতে না পারলেও সত্যজিতের সঙ্গে অমিতাভের কাজের অভিজ্ঞতা একেবারে শূন্য নয়। ১৯৭৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সত্যজিতের মাস্টারপিস চলচ্চিত্র ‘শতরঞ্জ কে খিলাড়ি’-তে অমিতাভ বচ্চন ন্যারেটর বা কথকের ভূমিকায় কণ্ঠ দিয়েছিলেন। ক্ষয়িষ্ণু নবাবি পটভূমিতে তার গম্ভীর কণ্ঠস্বরের জাদু সিনেমাটিতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছিল, যা আজও দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত। ১৯৭৭ সালে মুক্তি পায় এটি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 















