বলিউডের শক্তিশালী অভিনেতা নানা পাটেকর সম্প্রতি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি অগণিত দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন এবং পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও পদ্মশ্রীর মতো মর্যাদাপূর্ণ সম্মান। কর্মজীবনের শুরুতে মাত্র ৩৫ রুপি মাসিক বেতন ও সামান্য খোরাকিতে জীবন শুরু করা নানা পাটেকর নিজ শ্রম ও মেধার জোরে চলচ্চিত্র জগতে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছিলেন। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেও কাজের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন নানা পাটেকর। বলিউডের শীর্ষ তারকা হওয়ার পরও সাধারণ জীবনযাপন করার জন্য পরিচিত ছিলেন নানা পাটেকর।
তার অর্জিত মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৬ থেকে ১০১ কোটি টাকা। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে প্রতিটি সিনেমার জন্য তিনি প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিতেন। মূলত হিন্দি ও মারাঠি ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে এই সম্পদ গড়ে তুললেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাদামাটা একজন মানুষ। পরবর্তীতে রুপালি জগতে পা রেখে খ্যাতির পাশাপাশি অনেক সম্পদের মালিক হন।
মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে ১ বেডরুমের একটি সাধারণ ফ্ল্যাটেই দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন এই অভিনেতা। কয়েক দশক আগে প্রায় ৭৫০ বর্গফুটের এই ফ্ল্যাটটি তিনি ১ কোটি ১০ লাখ রুপিতে ক্রয় করেছিলেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি রুপি। মায়ের মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি তার সাথেই এই ফ্ল্যাটে থাকতেন এবং পরবর্তীকালেও এই বাসাতেই জীবন অতিবাহিত করেছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজের সাধারণ এই বাড়ি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার কথা জানান এই অভিনেতা।
বিলাসবহুল জীবনের পরিবর্তে প্রকৃতির সান্নিধ্য বেশি পছন্দ করতেন নানা পাটেকর। পুনের ডনজে গ্রামে ২৭ একর জমির ওপর তিনি একটি সুবিশাল ফার্মহাউজ গড়ে তোলেন। সেখানে সাতটি ঘর ও একটি বড় হলঘর রয়েছে, যেখানে তিনি ধান, গমসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করতেন। এছাড়া খামারবাড়িতে গরু ও বিভিন্ন পশুপাখি ছিল এবং এখানকার আয়ের একটি অংশ স্থানীয় কৃষক ও শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করতেন। এই ফার্মহাউজ থেকেই তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। খামাবাড়িতে ধান, গমের মতো ফসল ফলাতেন; গরু, কুকুরসহ বিভিন্ন পশুপাখিও রয়েছে। খামারবাড়ির আয় থেকে চাষের কাজে যুক্ত শ্রমিক ও স্থানীয় কৃষকদেরও ভাগ দিতেন নানা।
তার ব্যবহৃত গাড়ির সংগ্রহে খুব বেশি আড়ম্বর ছিল না। তার গ্যারেজে মূলত মাহিন্দ্রা জিপ সিজে৪, অডি কিউ৭ এবং মাহিন্দ্রা স্করপিওর মতো গাড়িগুলো ছিল। ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতায় নানা পাটেকর ও তার স্ত্রী নীলকান্তি আইনি বিচ্ছেদ না ঘটালেও দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে আলাদা ছিলেন। ১৯৭৮ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির দুই সন্তান দুর্বাস ও মালহার। তাদের বড় ছেলে দুর্বাস মাত্র ২ বছর বয়সে মারা যায় এবং ছোট ছেলে মালহার বাবার শেষকৃত্যের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 















