কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে পরিবারসহ কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। স্কুল কর্তৃপক্ষের রেকর্ড অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিল।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ জানিয়েছে, সড়কের পাশে থাকা বেশ কয়েকটি ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির স্পষ্ট ছাপ পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে কিশোরীটি জীবন বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করেছিল। ঘটনাস্থলের কাছেই একটি সিএনজি অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ অটোরিকশাটি জব্দ করেছে এবং এটি কার মালিকানাধীন তা শনাক্তের কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিনের দেওয়া তথ্যানুসারে, সিএনজিটি পড়ে থাকার খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে অদূরে ভ্যানিটি ব্যাগটি দেখতে পান। এরপর ধানক্ষেতের ভেতর তাজমিনের মরদেহটি পাওয়া যায়, যার গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। ঘটনাস্থলের অন্তত চার থেকে পাঁচটি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন দেখা গেছে। পরে স্থানীয়রা সেটি টেনে সড়কের ওপর তোলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে সিএনজিটির ২০ থেকে ৩০ গজ দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ দেখতে পান। আশপাশের ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন দেখে সামনে এগিয়ে একটি ধানক্ষেতে নারীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।
স্থানীয় মো. মুহিনসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা ধানক্ষেতের এলোমেলো অবস্থা দেখে মন্তব্য করেছেন যে, কিশোরীটিকে অত্যন্ত সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, মরদেহটি উদ্ধার করার সময় শরীরে দৃশ্যমান কোনো বড় আঘাত ছিল না, তবে গলায় গামছা প্যাঁচানো থাকায় এটিকে শ্বাসরোধজনিত ঘটনা হিসেবে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশের একাধিক ইউনিট এই রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে। ইতিমধ্যে নিহত শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জব্দ করা সিএনজির নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা তাজমিনের মরদেহ গ্রহণ করেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মরদেহটি তাদের গ্রামের বাড়ি যশোরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে। তদন্তের খাতিরে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যসূত্রও খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















