ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

৩৭ বছরে পা, জন্মদিনে বিশেষ এসএমএস পেয়ে আবেগপ্রবণ অপু

দুই দশক ধরে বাংলা চলচ্চিত্রাঙ্গনে নিয়মিত কাজ করে আসা চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস আজ ১১ অক্টোবর নিজের ৩৭তম জন্মদিনে পা রেখেছেন। দিনটির প্রথম প্রহরে ছেলের সঙ্গে কেক কাটার মাধ্যমে ঘরোয়া আয়োজনে তিনি বিশেষ মুহূর্তটি উদ্‌যাপন করেছেন। জন্মদিনের এই বিশেষ মুহূর্তে তিনি কথা বলেছেন তার জীবনের দর্শন, অতীতের চ্যালেঞ্জ ও বর্তমান মানসিক প্রশান্তি নিয়ে।

অতীতের হিসাব-নিকাশ বা কোনো অধ্যায় নতুন করে লেখার ইচ্ছা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অপু বিশ্বাস বলেন, জীবন কখনোই খাতা-কলমের হিসাবে চলে না। তার ভাষ্যমতে, পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয় প্রতিটি ঘটনাই ছিল জীবনের সুন্দর অংশ। তিনি এখন আর অতীতের কোনো কিছু নিয়ে আফসোস করতে চান না, বরং জীবন যে গতিতে চলছে, তাকেই গ্রহণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী। তার কাছে প্রতিটি অভিজ্ঞতাই নতুন কিছু শেখার সুযোগ হিসেবে ধরা দেয়। জীবনে কিছু অধ্যায় থাকে, যেগুলো মানুষকে বদলে দেয়, আবার কিছু স্বপ্ন থাকে, যেগুলো অপূর্ণ থেকে যায়। ৩৭–এ পা দিয়ে পেছনের কোনো অধ্যায় নতুন করে লিখতে ইচ্ছা করে। যেভাবে জীবন এগিয়েছে, সেভাবেই হয়তো সবকিছু হওয়ার কথা ছিল। জীবনকে হিসাব মিলিয়ে চালানো যায় না, জীবন তার নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে চলে। তাই পেছনে যা হয়েছে, বর্তমানে যা হচ্ছে কিংবা সামনে যা ঘটবে—সবকিছুই হয়তো আমার জন্যই প্রস্তুত করা ছিল।

ব্যক্তিজীবনে মানসিক শান্তি ও আত্মসম্মানকে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই অভিনেত্রী। অপু বিশ্বাস বলেন, জীবনের কঠিন সময়, বিশেষ করে সন্তান জন্মের পরের চ্যালেঞ্জগুলো তাকে মানসিকভাবে অনেক বেশি পরিপক্ক করে তুলেছে। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েন বা সংগ্রামের মাধ্যমেই একজন মানুষ প্রকৃত শিক্ষা পায়। নিজের ইমোশন বা আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং একা চলার দক্ষতা তিনি এই কঠিন বাস্তব থেকেই অর্জন করেছেন। এখন তার কাছে নিজের সম্মান বজায় রাখাটা সব সময় অগ্রাধিকার পায়। জীবনে একটা সময় আসে, যখন অন্যের কাছে নিজেকে প্রমাণের চেয়ে নিজের কাছে ভালো থাকাটা বেশি জরুরি হয়ে ওঠে।

নিজের সাফল্যের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে অপু বলেন, জনপ্রিয়তার চেয়েও তার কাছে বড় হলো কর্ম ও যোগ্যতা। তিনি একজন মা হিসেবে সবসময় চেষ্টা করেন সন্তানের মাঝে নিজের ইতিবাচক আলোটুকু ছড়িয়ে দিতে। গ্রামগঞ্জসহ সাধারণ মানুষের কাছে তিনি এখনো যে ভালোবাসার নায়িকা হিসেবে টিকে আছেন, এটাই তার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। নিজের জন্য বাঁচার চাহিদা এখনো শেষ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো অনেক পথ চলা বাকি।

এবারের জন্মদিনের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে অপু জানান, ২০০৯ সালে পরিচয় হওয়া এক বিশেষ ব্যক্তির কাছ থেকে ঠিক রাত ১২টায় পাওয়া একটি ছোট্ট এসএমএস তাকে ভীষণভাবে আপ্লুত করেছে। তার মতে, একটি মাত্র বার্তা পুরো জন্মদিনকে অনেক বেশি রঙিন ও বিশেষ করে তুলেছে।

জন্মদিনের আনন্দ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ছেলে জয় বড় হওয়ার পর থেকে এখন এই দিনগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থবহ। আগে জয় কোলে থাকত, আর এখন সে পাশে বসে থাকে। এছাড়া জন্মদিনের রাত ১২টার পর কাছের মানুষদের ফোন কলগুলোও তিনি বেশ আশা করেন। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই তাকে বারবার মনে করিয়ে দেয় যে আজ তার জন্য দিনটি কতটা বিশেষ।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেরেবাংলা নগরের বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তর হচ্ছে সচিবালয়

৩৭ বছরে পা, জন্মদিনে বিশেষ এসএমএস পেয়ে আবেগপ্রবণ অপু

আপডেট সময় ০৪:০৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

দুই দশক ধরে বাংলা চলচ্চিত্রাঙ্গনে নিয়মিত কাজ করে আসা চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস আজ ১১ অক্টোবর নিজের ৩৭তম জন্মদিনে পা রেখেছেন। দিনটির প্রথম প্রহরে ছেলের সঙ্গে কেক কাটার মাধ্যমে ঘরোয়া আয়োজনে তিনি বিশেষ মুহূর্তটি উদ্‌যাপন করেছেন। জন্মদিনের এই বিশেষ মুহূর্তে তিনি কথা বলেছেন তার জীবনের দর্শন, অতীতের চ্যালেঞ্জ ও বর্তমান মানসিক প্রশান্তি নিয়ে।

অতীতের হিসাব-নিকাশ বা কোনো অধ্যায় নতুন করে লেখার ইচ্ছা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অপু বিশ্বাস বলেন, জীবন কখনোই খাতা-কলমের হিসাবে চলে না। তার ভাষ্যমতে, পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয় প্রতিটি ঘটনাই ছিল জীবনের সুন্দর অংশ। তিনি এখন আর অতীতের কোনো কিছু নিয়ে আফসোস করতে চান না, বরং জীবন যে গতিতে চলছে, তাকেই গ্রহণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী। তার কাছে প্রতিটি অভিজ্ঞতাই নতুন কিছু শেখার সুযোগ হিসেবে ধরা দেয়। জীবনে কিছু অধ্যায় থাকে, যেগুলো মানুষকে বদলে দেয়, আবার কিছু স্বপ্ন থাকে, যেগুলো অপূর্ণ থেকে যায়। ৩৭–এ পা দিয়ে পেছনের কোনো অধ্যায় নতুন করে লিখতে ইচ্ছা করে। যেভাবে জীবন এগিয়েছে, সেভাবেই হয়তো সবকিছু হওয়ার কথা ছিল। জীবনকে হিসাব মিলিয়ে চালানো যায় না, জীবন তার নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে চলে। তাই পেছনে যা হয়েছে, বর্তমানে যা হচ্ছে কিংবা সামনে যা ঘটবে—সবকিছুই হয়তো আমার জন্যই প্রস্তুত করা ছিল।

ব্যক্তিজীবনে মানসিক শান্তি ও আত্মসম্মানকে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই অভিনেত্রী। অপু বিশ্বাস বলেন, জীবনের কঠিন সময়, বিশেষ করে সন্তান জন্মের পরের চ্যালেঞ্জগুলো তাকে মানসিকভাবে অনেক বেশি পরিপক্ক করে তুলেছে। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েন বা সংগ্রামের মাধ্যমেই একজন মানুষ প্রকৃত শিক্ষা পায়। নিজের ইমোশন বা আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং একা চলার দক্ষতা তিনি এই কঠিন বাস্তব থেকেই অর্জন করেছেন। এখন তার কাছে নিজের সম্মান বজায় রাখাটা সব সময় অগ্রাধিকার পায়। জীবনে একটা সময় আসে, যখন অন্যের কাছে নিজেকে প্রমাণের চেয়ে নিজের কাছে ভালো থাকাটা বেশি জরুরি হয়ে ওঠে।

নিজের সাফল্যের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে অপু বলেন, জনপ্রিয়তার চেয়েও তার কাছে বড় হলো কর্ম ও যোগ্যতা। তিনি একজন মা হিসেবে সবসময় চেষ্টা করেন সন্তানের মাঝে নিজের ইতিবাচক আলোটুকু ছড়িয়ে দিতে। গ্রামগঞ্জসহ সাধারণ মানুষের কাছে তিনি এখনো যে ভালোবাসার নায়িকা হিসেবে টিকে আছেন, এটাই তার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। নিজের জন্য বাঁচার চাহিদা এখনো শেষ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো অনেক পথ চলা বাকি।

এবারের জন্মদিনের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে অপু জানান, ২০০৯ সালে পরিচয় হওয়া এক বিশেষ ব্যক্তির কাছ থেকে ঠিক রাত ১২টায় পাওয়া একটি ছোট্ট এসএমএস তাকে ভীষণভাবে আপ্লুত করেছে। তার মতে, একটি মাত্র বার্তা পুরো জন্মদিনকে অনেক বেশি রঙিন ও বিশেষ করে তুলেছে।

জন্মদিনের আনন্দ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ছেলে জয় বড় হওয়ার পর থেকে এখন এই দিনগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থবহ। আগে জয় কোলে থাকত, আর এখন সে পাশে বসে থাকে। এছাড়া জন্মদিনের রাত ১২টার পর কাছের মানুষদের ফোন কলগুলোও তিনি বেশ আশা করেন। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই তাকে বারবার মনে করিয়ে দেয় যে আজ তার জন্য দিনটি কতটা বিশেষ।