ব্রিসবেনের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ইতিহাস গড়েছেন সোবহানা মোস্তারি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে সেঞ্চুরি হাঁকানো প্রথম বাংলাদেশি নারী ব্যাটার হলেন তিনি। ইনিংসের শেষ দিকে অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের বল ঠেকিয়ে রান পূর্ণ করার মুহূর্তটি ছিল আবেগময়। ব্যাচ উঁচিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সময় ড্রেসিংরুম থেকেও ভেসে আসে উচ্ছ্বাসের ধ্বনি। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে ফারজানা হক ও নিগার সুলতানার পর সোবহানা তৃতীয় সেঞ্চুরিয়ান। পপিং ক্রিজ ছুঁয়েও দৌড়ে গেলেন আরও অনেকটা। তাও তো আর যেই-সেই প্রতিপক্ষ নয়, মেয়েদের ক্রিকেটে রীতিমতো প্রতাপশালী দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মোটেও সুখকর ছিল না বাংলাদেশের জন্য। মাত্র ৮ রান তুলতেই ইনিংসের ৭.২ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল সফরকারীরা। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন সোবহানা ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা। বিপর্যয় কাটিয়ে দুজন গড়ে তোলেন ১৯৫ রানের এক বিশাল জুটি, যা এসেছে ২৪৩ বল খেলে। ৬৬ বলে নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর সোবহানা অদম্য ব্যাটিংয়ে ১২৪ বলে স্পর্শ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ১৩৪ বলে ১৮টি চারের সাহায্যে সাজানো ১১৮ রানের ইনিংসটি শেষে ম্যাগান স্কটের বলে বোল্ড হন তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই দৌড় শুরু করে দিয়েছেন নন–স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা নিগার সুলতানা, তাঁর সঙ্গে দৌড় সোবহানা মোস্তারিরও। ব্যাট উঁচিয়ে, অন্য প্রান্তে থাকা নিগারকে জড়িয়ে ধরে তাঁর উদ্যাপন তো দেখা গেলই; ড্রেসিংরুমে বসে সতীর্থদেরও উচ্ছ্বাস দেখা গেল স্পষ্ট।
অধিনায়ক নিগার সুলতানা অপর প্রান্ত আগলে রেখে ১১৪ বলে অপরাজিত ৭৪ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন। এই জুটির ওপর ভর করেই বাংলাদেশ পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২০ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। উল্লেখ্য, এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা আগের ছয়টি ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা কখনোই দুই শ রানের কোটা পার করতে পারেনি। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ করেছিল ১৫৩ রান, যা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এবার ২২০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করালো দলটি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি করা অষ্টম ব্যাটার হলেন সোবহানা। এর আগে আগস্টে ছেলেদের ক্রিকেটে তানজিদ হাসান অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 














