ঢাকা ০১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি ব্যবসায়ীদের

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ত্রিপুরার ব্যবসায়ী সমাজ, আমদানিকারক-রপ্তানিকারক সংগঠন এবং ভারতীয় স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। দুই দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ে ত্রিপুরা ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে ত্রিপুরার স্থানীয় বাজারে পণ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আখাউড়া চেকপোস্টের স্থলবন্দর ম্যানেজার দেবাশিস নন্দী জানান, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) গত বছরের ১৭ মে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ভৌগোলিক সান্নিধ্য ও স্বল্প পরিবহন খরচের কারণে ত্রিপুরা অনেক পণ্যের জন্য বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল। নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে স্থানীয় বাজারে এসব পণ্যের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। নন্দী উদাহরণ দিয়ে জানান, যে পণ্যের দাম আগে ৮ থেকে ১০ রুপি ছিল, তা বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। যদিও সব পণ্যের নাম নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, তবে বিধিনিষেধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল্যের উপর প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি এমন সব পণ্যের উদাহরণ দেন, যেগুলোর দাম আগে ৮-১০ রুপি থাকলেও এখন ১৫-২০ রুপি। তিনি বলেন, আরও বেশ কিছু পণ্যও প্রভাবিত হয়েছে, যদিও তিনি পণ্যগুলোর নাম নির্দিষ্ট করে বলেননি। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ থেকে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে আখাউড়া চেকপোস্টে কর্মরত ভারতের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ম্যানেজার দেবাশিস নন্দী বলেছেন, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) কর্তৃক গত বছরের ১৭।

ত্রিপুরায় ভারতের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে মোট তিনটি স্থলবন্দর রয়েছে—আগরতলা, সোনাপুরের শ্রীমন্তপুর এবং সাবরুম। এর মধ্যে আগরতলা ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর এবং সাবরুম হলো রাজ্যের সবচেয়ে আধুনিক অবকাঠামো সম্পন্ন বন্দর। সীমান্ত বাণিজ্য সহজতর করা এবং সাধারণ মানুষের জন্য পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করাকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দেবাশিস নন্দী আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে কোন পণ্যগুলো আমদানি ও রপ্তানি করা হবে, তা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বিদ্যমান পরিকাঠামো ব্যবহার করে পণ্যের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত বিধিনিষেধগুলো নিরসনে ভবিষ্যতে আরও আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। সীমান্ত বাণিজ্য সচল থাকলে তা যেমন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, তেমনি ত্রিপুরার স্থানীয় চাহিদা মেটাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি ব্যবসায়ীদের

আপডেট সময় ১১:৪৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ত্রিপুরার ব্যবসায়ী সমাজ, আমদানিকারক-রপ্তানিকারক সংগঠন এবং ভারতীয় স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। দুই দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ে ত্রিপুরা ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে ত্রিপুরার স্থানীয় বাজারে পণ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আখাউড়া চেকপোস্টের স্থলবন্দর ম্যানেজার দেবাশিস নন্দী জানান, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) গত বছরের ১৭ মে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ভৌগোলিক সান্নিধ্য ও স্বল্প পরিবহন খরচের কারণে ত্রিপুরা অনেক পণ্যের জন্য বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল। নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে স্থানীয় বাজারে এসব পণ্যের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। নন্দী উদাহরণ দিয়ে জানান, যে পণ্যের দাম আগে ৮ থেকে ১০ রুপি ছিল, তা বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। যদিও সব পণ্যের নাম নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, তবে বিধিনিষেধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল্যের উপর প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি এমন সব পণ্যের উদাহরণ দেন, যেগুলোর দাম আগে ৮-১০ রুপি থাকলেও এখন ১৫-২০ রুপি। তিনি বলেন, আরও বেশ কিছু পণ্যও প্রভাবিত হয়েছে, যদিও তিনি পণ্যগুলোর নাম নির্দিষ্ট করে বলেননি। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ থেকে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে আখাউড়া চেকপোস্টে কর্মরত ভারতের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ম্যানেজার দেবাশিস নন্দী বলেছেন, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) কর্তৃক গত বছরের ১৭।

ত্রিপুরায় ভারতের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে মোট তিনটি স্থলবন্দর রয়েছে—আগরতলা, সোনাপুরের শ্রীমন্তপুর এবং সাবরুম। এর মধ্যে আগরতলা ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর এবং সাবরুম হলো রাজ্যের সবচেয়ে আধুনিক অবকাঠামো সম্পন্ন বন্দর। সীমান্ত বাণিজ্য সহজতর করা এবং সাধারণ মানুষের জন্য পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করাকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দেবাশিস নন্দী আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে কোন পণ্যগুলো আমদানি ও রপ্তানি করা হবে, তা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বিদ্যমান পরিকাঠামো ব্যবহার করে পণ্যের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত বিধিনিষেধগুলো নিরসনে ভবিষ্যতে আরও আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। সীমান্ত বাণিজ্য সচল থাকলে তা যেমন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, তেমনি ত্রিপুরার স্থানীয় চাহিদা মেটাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।