সত্তরোর্ধ্ব জনপ্রিয় অভিনেত্রী ডলি জহুর অভিনয়ে এখনও সরব। কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য চলচ্চিত্র ও নাটকের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি ব্যক্তিগত জীবন, পরিবারের সদস্যদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া এবং একাকীত্ব নিয়ে নিজের ভাবনাগুলো শেয়ার করেছেন। তার পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ; তার মা, স্বামী ও ভাই-বোনদের অনেকেই এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বিশেষ করে ২০০৬ সালে তার স্বামী জহুরুল হক ক্যানসারেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিজের বড় বোন দেড় বছর আগে মারা গেছেন, যাকে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় থাকাকালীন হারিয়েছেন। আবার ছোট বোনের ক্যানসার যুদ্ধের সময় তিনি সরাসরি তার পাশে থেকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন। কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে অসংখ্য নাটক-সিনেমা উপহার দিয়েছেন আর দুহাতে দর্শকের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন। কিছু দিন আগে একটি পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে খোলামেলা কথা বলেছে ন ডলি জহুর। ক্যানসার তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে কেড়ে নিয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে নিজের ভাবনার কথা এ আলাপচারিতায় উঠে এসেছে।
পরিবারের সদস্যদের এমন অসুস্থতা ও নিজের একাকী জীবন প্রসঙ্গে ডলি জহুর বলেন, “এখানে আমার একার হাত নেই। সৃষ্টিকর্তা হয়তো আমাকে সবার প্রয়োজনে রেখেছিলেন বলেই আমি তাদের পাশে থাকতে পেরেছি।” আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিতরা প্রায়ই তার একাকীত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন এবং জানতে চান অসুস্থ হলে কী হবে। এর জবাবে এই অভিনেত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, যা কিছু অতীতে ঘটেছে বা ভবিষ্যতে ঘটবে, তার সবটাই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাধীন। তিনি বলেন, “সৃষ্টিকর্তা যদি আমার জন্য এত দায়িত্ব রেখে থাকেন, তবে শেষ সময়ে আমাকে অসহায় বা কষ্টে রাখবেন না। আমার বিশ্বাস, আল্লাহ আমাকে অসুস্থ করে পচা-গন্ধ করবেন না; বরং টুস করে তুলে নিয়ে যাবেন।” কিন্তু আপনি সবার পাশে বটবৃক্ষের মতো থেকেছেন। ওই যে একজন খেলোয়াড় (সৃষ্টিকর্তা) খেলছেন, উনি উনাদের জন্য আমাকে রেখেছিলেন। আমাকে সবাই বলে—‘তুমি একা থাকো, তোমার কেউ নাই।
সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময়ে জহুরুল হকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ডলি জহুরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে, যার নাম রিয়াসাত। বর্তমানে তার ছেলে ও পুত্রবধূ অস্ট্রেলিয়াতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ফলে বাড়িতে একা থাকার বিষয়টি নিয়ে তিনি একেবারেই বিচলিত নন। একাকী সময় কাটানোর উপায় সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন ও ইবাদত করেন। টেলিভিশনের চেয়ে মোবাইল বা ট্যাব ব্যবহার করে ইউটিউবে নাটক দেখা ও ফেসবুকের মাধ্যমে খবরাখবর রাখতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তার কাছে একাকীত্ব এখন আর কোনো কষ্টের বিষয় নয়, বরং এটি তার বর্তমান জীবনের অংশ। বড় বোনটা যখন মারা যায়, আমি তখন দেশে ছিলাম না, অস্ট্রেলিয়াতে ছিলাম।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 














