রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশেপাশের এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। এই চক্রের সদস্যরা মূলত বিদেশফেরত প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এসব অপরাধের নেপথ্যে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রয়েছে, যারা পেশাদার ডাকাতদের ভাড়ায় ব্যবহার করছে। মূল অপরাধীরা গ্রেপ্তার হলেও এই চক্রের নেপথ্যে থাকা হোতারা বেশির ভাগ সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির জানান, বিমানবন্দর ও উত্তরা এলাকায় অপরাধ ঘটিয়ে চক্রের সদস্যরা দ্রুত ঢাকার বাইরে আত্মগোপন করে। দেশের বিভিন্ন এলাকা, এমনকি বিদেশ থেকেও এসে অপরাধীরা এই চক্রে যোগ দেয়। ডাকাতির পর নির্দিষ্ট স্থানে লুটের মালামাল পৌঁছে দিয়ে তারা চুক্তি অনুযায়ী টাকা নিয়ে সরে পড়ে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এমন একাধিক ভাড়াটে ডাকাত চক্রের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। ডিবি পরিচয়ে গাড়িতে তুলে নেওয়া, হ্যান্ডকাফ পরানো কিংবা চোখ ও হাত-পা বেঁধে নির্জন স্থানে ফেলে যাওয়ার মতো কৌশল ব্যবহার করে তারা অপরাধ করে আসছে।
এমনই এক ঘটনার শিকার হয়েছেন চাঁদপুরের দক্ষিণ বালিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. খোরশেদ। গত ৬ জুলাই দুবাইপ্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো ১৭ ভরি স্বর্ণ ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে শাহবাগ এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল ডাকাত তাকে একটি কালো গাড়িতে তুলে চোখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে প্রায় ৩৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে তাকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ফেলে চলে যায়।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তারা সহজেই জামিন পেয়ে যায় এবং আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। জামিন পেতে অপরাধীদের সঙ্গে এক শ্রেণির আইনজীবীর চুক্তি রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে, তবে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। দ্রুত জামিনে বের হয়ে তারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠলেও পুলিশের নজরদারির কারণে বর্তমানে ডাকাতির ঘটনা অনেকটাই কমে এসেছে। প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরসংলগ্ন সড়কগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং মূল হোতাদের খুঁজে বের করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















