ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

রেল টিকিটের কালোবাজারি রুখতে এক মাসের সুযোগ চাইলেন মাহবুব

রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি রোধে অভিনব প্রস্তাব নিয়ে সামনে এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন। তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে টিকিটের অবৈধ বাণিজ্য মাত্র এক মাসের মধ্যে চিরতরে নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারের কাছে পূর্ণ দায়িত্ব চেয়েছেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি জানান। ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman, আমাকে ক্ষমতা দিন মাত্র এক মাসের জন্য। সাথে এই এক মাসের জন্য চাকুরিরত এবং অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা নেব।

প্রস্তাবিত এই কার্যক্রমে নিজের জন্য কোনো পদ-পদবি বা বাড়তি চেয়ার-টেবিল চান না মাহবুব কবীর মিলন। তিনি বিনা পারিশ্রমিকে সেবা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে কাজের সুবিধার্থে তিনি মাত্র একটি গাড়ি চেয়েছেন। তার দাবি, এ সময়ের জন্য তাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হলে তিনি ডিপার্টমেন্টের সবাইকে কঠোর নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসতে সক্ষম হবেন। এজন্য পদ, পদবি, আলাদা চেয়ার টেবিল কিছুই লাগবে না তার। তবে শুধু যাতায়াতের জন্য একটা গাড়ি চান সাবেক এ আমলা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্যক্রমের জন্য তিনি চুক্তিভিত্তিক কিছু অবসরপ্রাপ্ত টিকিট এক্সামিনার এবং কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে নিজের দলে নিতে চান। তবে অবসরপ্রাপ্তরা কোনো বেতন-ভাতা নেবেন না। সেই সঙ্গে কিছু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিশেষ পুলিশ সুরক্ষার নিশ্চয়তা চেয়েছেন তিনি। তার মতে, পুলিশ ও টিকিট এক্সামিনারদের সমন্বয়েই এই অভিযান চালানো হবে। ডিপার্টমেন্ট এর সবাই এই একমাসে আমার আদেশ শুনতে বাধ্য হবে।

টিকিট কালোবাজারি রোধে তিনি ‘যার টিকিট, তার ভ্রমণ’ নীতি শতভাগ বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। প্রতিটি ট্রেনে র‍্যান্ডম যাত্রীর পরিচয় যাচাই করা হবে এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের টিকিটে বাবা-মায়ের এনআইডি যুক্ত করার ব্যবস্থা থাকবে। অনিয়ম ধরা পড়লে দ্বিগুণ জরিমানার পাশাপাশি ট্রেনের গার্ড ও চেকারদের বডিতে ক্যামেরা ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া অন্যায়কারীদের পক্ষে তদ্বির করলে তাদের পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান। নিচে তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

মাহবুব কবীর মিলনের পরিকল্পনায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (RNB) পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রেল অধিদপ্তর থেকে সরিয়ে মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুলিশ বা বিজিবির মতো এই বাহিনীকে একটি আধুনিক ও দক্ষ শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবেন। এমনকি এই এক মাসে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধের সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণেরও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

পরীক্ষামূলকভাবে ভ্রমণের ৩ থেকে ৫ দিন আগে টিকিট ইস্যুর এই নতুন নিয়ম যদি সফল হয়, তবে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য রুটের ট্রেনেও তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তার। নিজের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখে তিনি জানান, এই এক মাসের রিস্ক নেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত এবং ব্যর্থ হলে যেকোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে রাজি। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব কার্যক্রম জনগণকে অবহিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এরা সফল হলে এক/দুই বছরের জন্য থেকে যাবে।

তিনি মনে করেন, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে পরিকল্পিতভাবে আইনের পরিপন্থী কাজে ব্যবহার করে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, বাহিনীটিকে মানসিক উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে পুনরায় ট্রেনের নিরাপত্তার কাজে সঠিকভাবে নিয়োজিত করাই হবে তার মূল চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি এই কাজের জন্য পূর্ণ சுதந்திர চেয়েছেন, যাতে মাঝখানে অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই

রেল টিকিটের কালোবাজারি রুখতে এক মাসের সুযোগ চাইলেন মাহবুব

আপডেট সময় ০১:৪৮:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি রোধে অভিনব প্রস্তাব নিয়ে সামনে এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন। তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে টিকিটের অবৈধ বাণিজ্য মাত্র এক মাসের মধ্যে চিরতরে নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারের কাছে পূর্ণ দায়িত্ব চেয়েছেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি জানান। ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman, আমাকে ক্ষমতা দিন মাত্র এক মাসের জন্য। সাথে এই এক মাসের জন্য চাকুরিরত এবং অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা নেব।

প্রস্তাবিত এই কার্যক্রমে নিজের জন্য কোনো পদ-পদবি বা বাড়তি চেয়ার-টেবিল চান না মাহবুব কবীর মিলন। তিনি বিনা পারিশ্রমিকে সেবা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে কাজের সুবিধার্থে তিনি মাত্র একটি গাড়ি চেয়েছেন। তার দাবি, এ সময়ের জন্য তাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হলে তিনি ডিপার্টমেন্টের সবাইকে কঠোর নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসতে সক্ষম হবেন। এজন্য পদ, পদবি, আলাদা চেয়ার টেবিল কিছুই লাগবে না তার। তবে শুধু যাতায়াতের জন্য একটা গাড়ি চান সাবেক এ আমলা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্যক্রমের জন্য তিনি চুক্তিভিত্তিক কিছু অবসরপ্রাপ্ত টিকিট এক্সামিনার এবং কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে নিজের দলে নিতে চান। তবে অবসরপ্রাপ্তরা কোনো বেতন-ভাতা নেবেন না। সেই সঙ্গে কিছু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিশেষ পুলিশ সুরক্ষার নিশ্চয়তা চেয়েছেন তিনি। তার মতে, পুলিশ ও টিকিট এক্সামিনারদের সমন্বয়েই এই অভিযান চালানো হবে। ডিপার্টমেন্ট এর সবাই এই একমাসে আমার আদেশ শুনতে বাধ্য হবে।

টিকিট কালোবাজারি রোধে তিনি ‘যার টিকিট, তার ভ্রমণ’ নীতি শতভাগ বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। প্রতিটি ট্রেনে র‍্যান্ডম যাত্রীর পরিচয় যাচাই করা হবে এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের টিকিটে বাবা-মায়ের এনআইডি যুক্ত করার ব্যবস্থা থাকবে। অনিয়ম ধরা পড়লে দ্বিগুণ জরিমানার পাশাপাশি ট্রেনের গার্ড ও চেকারদের বডিতে ক্যামেরা ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া অন্যায়কারীদের পক্ষে তদ্বির করলে তাদের পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান। নিচে তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

মাহবুব কবীর মিলনের পরিকল্পনায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (RNB) পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রেল অধিদপ্তর থেকে সরিয়ে মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুলিশ বা বিজিবির মতো এই বাহিনীকে একটি আধুনিক ও দক্ষ শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবেন। এমনকি এই এক মাসে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধের সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণেরও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

পরীক্ষামূলকভাবে ভ্রমণের ৩ থেকে ৫ দিন আগে টিকিট ইস্যুর এই নতুন নিয়ম যদি সফল হয়, তবে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য রুটের ট্রেনেও তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তার। নিজের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখে তিনি জানান, এই এক মাসের রিস্ক নেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত এবং ব্যর্থ হলে যেকোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে রাজি। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব কার্যক্রম জনগণকে অবহিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এরা সফল হলে এক/দুই বছরের জন্য থেকে যাবে।

তিনি মনে করেন, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে পরিকল্পিতভাবে আইনের পরিপন্থী কাজে ব্যবহার করে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, বাহিনীটিকে মানসিক উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে পুনরায় ট্রেনের নিরাপত্তার কাজে সঠিকভাবে নিয়োজিত করাই হবে তার মূল চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি এই কাজের জন্য পূর্ণ சுதந்திர চেয়েছেন, যাতে মাঝখানে অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করতে না পারে।