ঢাকা ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

নদীভাঙনে ভিটেহারা সাহারার জিপিএ-৫ জয়ের সংগ্রামী গল্প

পদ্মার ভাঙনে পাঁচবার সহায়-সম্বল ও বসতভিটা হারিয়েও অদম্য সাহারা আক্তার নিজের ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছে। জাজিরা উপজেলার চরাঞ্চলের রঞ্জন ছৈয়াল কান্দি এলাকার এই শিক্ষার্থীর পরিবারে চরম আর্থিক সংকট ছিল। ছয় বোনের মধ্যে সবার ছোট সাহারার বাবা সিরাজ খান কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, যার আয়ে সংসার চালানোই কষ্টসাধ্য। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠার পর অর্থাভাবে পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল তার। কিন্তু দমে না গিয়ে সপ্তম শ্রেণি থেকে গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াতে শুরু করে সে। সেই উপার্জিত অর্থেই নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। রাতভর বাসায় পড়ালেখা করেছি—কথাগুলো বলতে বলতে এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে এসএসসিতে জিপিএ–৫ প্রাপ্ত সাহারা আক্তার। বিদ্যালয়টি থেকে এবারই প্রথম কেউ জিপিএ-৫ পেয়েছে। তারপরও ইচ্ছাশক্তিকে সামনে রেখে এগিয়ে গেছি। সকালে-বিকেলে গ্রামে ঘুরে টিউশনি করেছি। সাহারাদের বাড়ি জাজিরার পদ্মার চরাঞ্চলের রঞ্জন ছৈয়াল কান্দি এলাকায়। কিন্তু মেয়ের পড়ালেখার খরচ জোগানোর সামর্থ্য তাঁর ছিল না। শিক্ষাজীবনের শুরুতেই সাফল্য পেয়ে আপ্লুত সাহারা।

বৃহস্পতিবার শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাহারা আবেগাপ্লুত হয়ে তার এই জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরে। জাজিরা উপজেলার পদ্মা তীরের বড়কান্দি মডেল একাডেমির এই মেধাবী শিক্ষার্থী জানায়, পদ্মার চরাঞ্চলে নদীভাঙনে নিঃস্ব পরিবারগুলোতে মেয়েদের বাল্যবিবাহের হার অনেক বেশি। অনেক মেয়েই আর্থিক কষ্টের মুখে পড়াশোনা ছেড়ে শ্বশুরবাড়ি চলে যেতে বাধ্য হয়। তবে প্রতিকূলতা জয় করে সে এবার বিদ্যালয়টি থেকে প্রথমবারের মতো জিপিএ-৫ অর্জনের ইতিহাস গড়েছে।

সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক তামিম হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সত্যজিৎ ঘোষ। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শরীয়তপুর সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক প্রদ্যুৎ কুমার দাস বলেন, একটি সাফল্যে থেমে না গিয়ে জীবনের লক্ষ্য স্থির রেখে নিরন্তর এগিয়ে যেতে হবে। কেবল ভালো চাকরি বা ডিগ্রি অর্জনই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়, বরং নিজের ভেতরকার সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করে প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে হবে।

মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফরিদ আল হোসাইন বলেন, কঠোর প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যারা আজ সাফল্যের দেখা পেয়েছে, তারাই ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে। এদিকে খুলনার নিজস্ব প্রতিবেদক উত্তম মণ্ডল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলালেও মৌলিক চিন্তাভাবনা ও নিজস্ব প্রচেষ্টার অভ্যাস যেন তারা ত্যাগ না করে।

অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের পক্ষে মালিহা রহমান ও ফারদিন আহমেদ এবং অভিভাবকদের পক্ষে নাসরিন আজিজ অনুভূতি প্রকাশ করেন। শরীয়তপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহীন সরকার শিক্ষার্থীদের মাদক, মুখস্থ বিদ্যা ও মিথ্যাকে বর্জন করার শপথ পাঠ করান। অনুষ্ঠানজুড়ে বন্ধুসভার সদস্যদের পরিবেশনায় নৃত্য ও আবৃত্তি ছিল প্রাণবন্ত। শেষ পর্যায়ে কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে বই ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। জেলা বন্ধুসভার সভাপতি আবদুল মোতালেবের সমাপনী শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আয়োজনটি শেষ হয়। বিজয়ী ১০ জনের হাতে বই ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা।

‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে দেশজুড়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবীদের এই সংবর্ধনার আয়োজক এবং পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শিখো। এই আয়োজনে সহযোগী হিসেবে আরও যুক্ত ছিল বিকাশ, কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও বন্ধুসভা।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু

নদীভাঙনে ভিটেহারা সাহারার জিপিএ-৫ জয়ের সংগ্রামী গল্প

আপডেট সময় ০৬:১০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

পদ্মার ভাঙনে পাঁচবার সহায়-সম্বল ও বসতভিটা হারিয়েও অদম্য সাহারা আক্তার নিজের ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছে। জাজিরা উপজেলার চরাঞ্চলের রঞ্জন ছৈয়াল কান্দি এলাকার এই শিক্ষার্থীর পরিবারে চরম আর্থিক সংকট ছিল। ছয় বোনের মধ্যে সবার ছোট সাহারার বাবা সিরাজ খান কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, যার আয়ে সংসার চালানোই কষ্টসাধ্য। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠার পর অর্থাভাবে পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল তার। কিন্তু দমে না গিয়ে সপ্তম শ্রেণি থেকে গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াতে শুরু করে সে। সেই উপার্জিত অর্থেই নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। রাতভর বাসায় পড়ালেখা করেছি—কথাগুলো বলতে বলতে এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে এসএসসিতে জিপিএ–৫ প্রাপ্ত সাহারা আক্তার। বিদ্যালয়টি থেকে এবারই প্রথম কেউ জিপিএ-৫ পেয়েছে। তারপরও ইচ্ছাশক্তিকে সামনে রেখে এগিয়ে গেছি। সকালে-বিকেলে গ্রামে ঘুরে টিউশনি করেছি। সাহারাদের বাড়ি জাজিরার পদ্মার চরাঞ্চলের রঞ্জন ছৈয়াল কান্দি এলাকায়। কিন্তু মেয়ের পড়ালেখার খরচ জোগানোর সামর্থ্য তাঁর ছিল না। শিক্ষাজীবনের শুরুতেই সাফল্য পেয়ে আপ্লুত সাহারা।

বৃহস্পতিবার শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাহারা আবেগাপ্লুত হয়ে তার এই জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরে। জাজিরা উপজেলার পদ্মা তীরের বড়কান্দি মডেল একাডেমির এই মেধাবী শিক্ষার্থী জানায়, পদ্মার চরাঞ্চলে নদীভাঙনে নিঃস্ব পরিবারগুলোতে মেয়েদের বাল্যবিবাহের হার অনেক বেশি। অনেক মেয়েই আর্থিক কষ্টের মুখে পড়াশোনা ছেড়ে শ্বশুরবাড়ি চলে যেতে বাধ্য হয়। তবে প্রতিকূলতা জয় করে সে এবার বিদ্যালয়টি থেকে প্রথমবারের মতো জিপিএ-৫ অর্জনের ইতিহাস গড়েছে।

সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক তামিম হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সত্যজিৎ ঘোষ। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শরীয়তপুর সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক প্রদ্যুৎ কুমার দাস বলেন, একটি সাফল্যে থেমে না গিয়ে জীবনের লক্ষ্য স্থির রেখে নিরন্তর এগিয়ে যেতে হবে। কেবল ভালো চাকরি বা ডিগ্রি অর্জনই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়, বরং নিজের ভেতরকার সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করে প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে হবে।

মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফরিদ আল হোসাইন বলেন, কঠোর প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যারা আজ সাফল্যের দেখা পেয়েছে, তারাই ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে। এদিকে খুলনার নিজস্ব প্রতিবেদক উত্তম মণ্ডল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলালেও মৌলিক চিন্তাভাবনা ও নিজস্ব প্রচেষ্টার অভ্যাস যেন তারা ত্যাগ না করে।

অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের পক্ষে মালিহা রহমান ও ফারদিন আহমেদ এবং অভিভাবকদের পক্ষে নাসরিন আজিজ অনুভূতি প্রকাশ করেন। শরীয়তপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহীন সরকার শিক্ষার্থীদের মাদক, মুখস্থ বিদ্যা ও মিথ্যাকে বর্জন করার শপথ পাঠ করান। অনুষ্ঠানজুড়ে বন্ধুসভার সদস্যদের পরিবেশনায় নৃত্য ও আবৃত্তি ছিল প্রাণবন্ত। শেষ পর্যায়ে কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে বই ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। জেলা বন্ধুসভার সভাপতি আবদুল মোতালেবের সমাপনী শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আয়োজনটি শেষ হয়। বিজয়ী ১০ জনের হাতে বই ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা।

‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে দেশজুড়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবীদের এই সংবর্ধনার আয়োজক এবং পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শিখো। এই আয়োজনে সহযোগী হিসেবে আরও যুক্ত ছিল বিকাশ, কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও বন্ধুসভা।