ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন ফেসবুক স্ট্যাটাসে ৯ দফার ঘোষক কাদের: ফিমেল জোন যেন ফিমেল উইংয়ের ‘টিএসসি শাখা অফিস’ না হয় ৩০০ এমপিকে হাওড় ঘুরে আসার আহ্বান নাহিদের ভয়াবহ দাবানল : ফ্রান্সে সরানো হলো ৬৩ হাজার মানুষ, স্পেনে জরুরি অবস্থা মোহাম্মদপুরে এসআইয়ের পিঠে ছুরিকাঘাত, লেগেছে ৪৩ সেলাই আসিয়ানকে আরও শক্তিশালী করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধর্মের নামে যারা বিভক্তি চায়, তারা জাতি ও ঈশ্বরের শত্রু: তথ্যমন্ত্রী স্পিকারের দায়িত্বে কায়সার কামাল বিনিয়োগনির্ভর উৎপাদন ও কর্মসংস্থানই বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি: তিতুমীর মাফিয়া আমলে নির্বাচিত হলেও সাহাবুদ্দিনের বর্তমান সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল: স্পিকার

স্বামীকে হত্যার পর মরদেহের খণ্ডিত অংশ ফ্রিজে রাখার চেষ্টা, স্ত্রী আটক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। খণ্ডিত মরদেহের কিছু অংশ ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার (৪২) ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার (৩৫)। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। এটি উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল তাদের।

অভিযুক্ত আসমা আক্তার দাবি করেন, স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। মঙ্গলবার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি রড দিয়ে আঘাত করলে স্বামী মাটিতে পড়ে যান। তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারিনি এত বড় ঘটনা হয়ে যাবে।’

পুলিশ বলছে, ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। হাড় ও মাংস আলাদা করে দেহাংশ একটি ড্রামে ভরে বাসার ভেতরে রাখা হয় প্রায় তিন দিন। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে মরদেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, দেহের মাংসের অংশগুলো শরীয়তপুর শহরের পালং স্কুল এলাকার আগের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করেন আসমা আক্তার। তবে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে একই দিন বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও নিহতের চারটি হাত-পা উদ্ধার করা হয়েছে।

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখা হয়। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন

স্বামীকে হত্যার পর মরদেহের খণ্ডিত অংশ ফ্রিজে রাখার চেষ্টা, স্ত্রী আটক

আপডেট সময় ০১:২৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। খণ্ডিত মরদেহের কিছু অংশ ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার (৪২) ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার (৩৫)। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। এটি উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল তাদের।

অভিযুক্ত আসমা আক্তার দাবি করেন, স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। মঙ্গলবার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি রড দিয়ে আঘাত করলে স্বামী মাটিতে পড়ে যান। তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারিনি এত বড় ঘটনা হয়ে যাবে।’

পুলিশ বলছে, ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। হাড় ও মাংস আলাদা করে দেহাংশ একটি ড্রামে ভরে বাসার ভেতরে রাখা হয় প্রায় তিন দিন। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে মরদেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, দেহের মাংসের অংশগুলো শরীয়তপুর শহরের পালং স্কুল এলাকার আগের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করেন আসমা আক্তার। তবে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে একই দিন বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও নিহতের চারটি হাত-পা উদ্ধার করা হয়েছে।

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখা হয়। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।