বর্তমান সময়ে ডেটিং অ্যাপের সহজলভ্যতা ও অসংখ্য পছন্দের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সঠিক জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ও বিভ্রান্তিকর হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। আধুনিক সম্পর্কের জটিলতা ও মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন নিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এত বিপুল বিকল্প থাকার পরও মানুষের মনের মূল আকাঙ্ক্ষা সেই একই রয়ে গেছে, তবুও সঠিক মানুষটিকে বেছে নেওয়া বর্তমান সময়ে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেটিং অ্যাপে এত বিকল্প থাকায় প্রেম খোঁজা কঠিন হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ঐশ্বরিয়া বলেন, “হ্যাঁ, আমি সত্যিই তাই মনে করি। কারণ তখন আপনি কোন পথে এগোবেন, তা নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। তাই আমি পুরোপুরি মানসিক সামঞ্জস্যের পক্ষের মানুষ। ”।
সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন নতুন শব্দের উদ্ভাবন নিয়েও কথা বলেন এই অভিনেত্রী। বর্তমান প্রজন্মের প্রেম ও ডেটিংয়ে প্রচলিত নানা শব্দ যেমন সিচুয়েশনশিপ বা ন্যানোশিপের কথা উল্লেখ করে তিনি কিছুটা অবাক হওয়ার সুরেই বলেন, সম্প্রতি তিনি ‘বিঞ্জিং’ শব্দটির সাথে পরিচিত হয়েছেন। তিনি ভেবেছিলেন এটি কেবল নেটফ্লিক্স দেখার ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সম্পর্কের ক্ষেত্রেও যে এই শব্দটির প্রচলন রয়েছে তা তার জানা ছিল না।
সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে ভালোবাসা সম্পর্কে তার নিজস্ব সংজ্ঞাও বদলেছে বলে জানিয়েছেন ঐশ্বরিয়া। তার কাছে বর্তমানে ভালোবাসার সবচেয়ে বড় অর্থ হলো স্বস্তি ও মানসিক নিরাপত্তা। তিনি বলেন, ভালোবাসার মানুষটির সামনে নিজেকে সম্পূর্ণ নিজের মতো করে প্রকাশ করা এবং কোনো বিচার ছাড়াই গ্রহণযোগ্য হওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম আলাপ থেকেই যদি মানসিক সামঞ্জস্য পাওয়া যায়, তবেই সেই সম্পর্ককে তিনি প্রাধান্য দেন। আমরা স্বাধীন থাকব এবং একসঙ্গে স্বাধীন থাকব।
পাঁচ বছর আগের দৃষ্টিভঙ্গির তুলনায় বর্তমান সময়ে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঐশ্বরিয়া মানসিক নিরাপত্তাকেই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তিনি এমন একজনের সঙ্গ খোঁজেন, যার কাছে তিনি শিশুর মতো নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। কোনো ধরণের দ্বিধা বা বিচার করার ভয় ছাড়াই একে অন্যের সাথে সবকিছু শেয়ার করার স্বাধীনতা এবং একে অপরের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে স্বাধীনভাবে পথ চলাই তার কাছে দাম্পত্যের মূল ভিত্তি।
বন্ধুত্বের গুরুত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, আমরা ‘পেয়ার দোস্তি হ্যায়’—অর্থাৎ বন্ধুত্বই প্রেম, এই ধারণা নিয়ে বড় হয়েছি। ইদানীং তিনি তার বিবাহিত বন্ধুদের সফল দাম্পত্য জীবন দেখে এই কথার গভীরতা বুঝতে পারছেন। তার মতে, একটি সফল সম্পর্কের মূলে জীবনসঙ্গী হওয়ার আগে অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে ওঠা অত্যন্ত জরুরি। রোমান্টিক সম্পর্কের মধ্যে বন্ধুত্বের গুরুত্বও সময়ের সঙ্গে আরো গভীরভাবে বুঝেছেন ঐশ্বরিয়া।
নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘লাভ’-এ অর্জুন দাসের বিপরীতে অভিনয় করা ঐশ্বরিয়া ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কাজ করা ‘মায়ানদী’ সিনেমার স্মৃতি রোমন্থন করেন। তার মতে, সেই সিনেমাটি কেবল অভিনয়ের দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দেয়নি, বরং একজন শিল্পী হিসেবে কোন ধরনের গল্প বেছে নেওয়া উচিত, সে সম্পর্কেও তাকে সচেতন করেছে। এটি তার মতে অন্যতম সেরা একটি কাজ।
অভিনয়ের ক্ষেত্রে তীব্র ও কষ্টদায়ক গল্পের চেয়ে বাস্তব আবেগকে প্রাধান্য দিতেই তিনি বেশি পছন্দ করেন। পর্দায় তাকে বিভিন্ন চরিত্রে দেখা গেলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সুখী ও সহজ-সরল ভালোবাসার গল্পের অনুরাগী। তিনি স্বীকার করেন, যদিও বিষাদময় প্রেমের গল্প অনেক সময় দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী দাগ কাটে, কিন্তু বাস্তব জীবনে তিনি সবসময় সুখী সমাপ্তি বা স্বস্তিদায়ক সম্পর্কের পক্ষেই কথা বলেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 













