বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ ও তার স্ত্রী সুনীতা আহুজার দীর্ঘ চার দশকের দাম্পত্য জীবনে আবারও অস্থিরতার খবর চাউর হয়েছে। সম্প্রতি নবীন অভিনেত্রী কোমল রানী স্বর্ণকারের সঙ্গে মুম্বাইয়ের লালবাগচা রাজাসহ বিভিন্ন স্থানে গোবিন্দকে দেখা যাওয়ার পর এই সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সুনীতা আহুজার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং পরকীয়ার গুঞ্জন নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২২ সালে একটি তথ্যচিত্রে দেখা যায় গোবিন্দকে। এরপর জোর গুঞ্জন উড়ছে, কোমল রানী স্বর্ণকারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন বাষট্টির গোবিন্দ। আমাদের দেশের মানুষ এতটা বোকা নয় যে, কেউ বলল কাক তোমার কান নিয়ে গেছে, আর তারা কাকের পেছনে ছুটতে শুরু করবে। ”। তার ভাষায়—“আমি ভাবতেই পারি না, ভালো ও নিবেদিত কোনো স্ত্রী তার স্বামীর সঙ্গে এতটা নিষ্ঠুর আচরণ করতে পারেন।
মন্দির দর্শনে সুনীতার মন্তব্য
কলকাতার একটি মন্দির দর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সুনীতা আহুজা। সেখানে সরাসরি কারো নাম না নিলেও পরোক্ষভাবে তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘অশুভ শক্তির ছায়া’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সুনীতা বলেন, “আমার জীবনেও কিছু অশুভ শক্তি বা দানব রয়েছে; মাতার আদেশে তাদের বিনাশের পথ খুঁজতে এখানে এসেছি।”
কোমল রানীর কড়া প্রতিক্রিয়া
সুনীতার মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ প্রতিক্রিয়ায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন কোমল রানী স্বর্ণকার। তিনি সুনীতার দিকে আঙুল তুলে বলেন, “যে নারী বছরের পর বছর ধরে নিজের স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করে আসছে, এমন নারীর অভিশাপ কারো লাগে না। আগে থেকেই ভেঙে যাওয়া একটি সংসার কেউ ভাঙতে পারে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, একজন পুরুষকে মানসিকভাবে হয়রানি করা এবং তাকে সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার এই কৌশল কি নিছক কষ্ট, না কি সুচিন্তিত কোনো ষড়যন্ত্র? একজন পুরুষকে নিয়মিত মানসিকভাবে হয়রানি করা, তাকে কাজ করতে বাধা দেওয়া, জোর করে ঘরে বসিয়ে রাখা ও ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যেতে বাধ্য করা, সম্পূর্ণভাবে তাকে সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া এবং এমন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, যেখানে তিনি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যান। ”। এ ধরনের নারীরা কি মানসিকভাবে অসুস্থ, না কি নিজের স্বার্থে এতটা চতুর।
পরিবার নিয়ে সুনীতার অবস্থান
পরকীয়ার গুঞ্জনের পাশাপাশি তাদের বিচ্ছেদের সম্ভাবনা নিয়েও মুখ খোলেন সুনীতা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এই সব কথার কথা। কারণ ডিভোর্স আমি দেব না। গোবিন্দ আমার ছোটবেলার ভালোবাসা, চল্লিশ বছর সঙ্গে থেকেছি। ডিভোর্সের কোনো প্রশ্নই আসে না।” এর আগে সুনীতা মারাঠি এক অভিনেত্রীর সঙ্গে গোবিন্দর পরকীয়ার অভিযোগ করেছিলেন, যা তাদের সংসারকে ভাঙনের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।
পেশাদার ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট
- ১৯৮৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন গোবিন্দ ও সুনীতা আহুজা।
- দীর্ঘ সাত বছর চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকার পর ‘রূপা’ ও ‘দুনিয়াদারি’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে ফিরছেন গোবিন্দ।
- এই দুটি সিনেমাতেই গোবিন্দর বিপরীতে দেখা যাবে কোমল রানী স্বর্ণকারকে।
- ২০১৯ সালে সর্বশেষ ‘রঙ্গিলা রাজা’ সিনেমায় অভিনয় করেন গোবিন্দ।
- তাদের মেয়ে টিনা আহুজা ২০১৫ সালে ‘সেকেন্ড হ্যান্ড হাজবেন্ড’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় নাম লিখিয়েছেন।
- পরিচালক সাই রাজেশের হাত ধরে ছেলে যশবর্ধনেরও বলিউডে অভিষেক হওয়ার কথা রয়েছে।
অভিনেত্রী কোমল রানী স্বর্ণকার আরও বলেন, “ঈশ্বর যেন প্রতিটি ভদ্র ও ভালো মানুষকে এমন ধূর্ত নারীদের হাত থেকে রক্ষা করেন।” তার দাবি, নিজের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন না করেন। অন্যদিকে গোবিন্দ অবশ্য এই পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে বরাবরই উদাসীন থেকেছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন।
নব্বই দশকের পর্দা কাঁপানো এই তারকা গোবিন্দকে দীর্ঘদিন বড়পর্দায় না পাওয়ার অভাব দর্শক মনে সবসময় ছিল। এখন নতুন সিনেমায় তার ফেরা এবং বাস্তব জীবনের এই নাটকীয় টানাপোড়েন পুরো ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সুনীতা এবং কোমল রানীর এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে দাম্পত্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, সুনীতা আইনি বিচ্ছেদের সম্ভাবনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। গত ৭ বছর ধরে চলচ্চিত্র থেকে দূরে রয়েছেন নব্বই দশকের পর্দা কাঁপানো এই তারকা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
















