ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

একই সময়ে সূর্যের আলো পাবে পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ মানুষ

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

পৃথিবীর প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ একই সময়ে সূর্যের আলো বা গোধূলির অভিজ্ঞতা নিতে যাচ্ছেন। বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১১টা ১০ মিনিট) এমন বিরল মহাজাগতিক পরিস্থিতি তৈরি হবে, যখন বিশ্বের প্রায় ৮২০ কোটি মানুষের অধিকাংশই দিনের আলোতে থাকবেন।

পৃথিবীর অক্ষের হেলন এবং উত্তর গোলার্ধে চলমান গ্রীষ্মকালীন সময়ের কারণে এ ঘটনা ঘটবে। ওই সময় পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চলগুলো সূর্যের আলোয় আলোকিত থাকবে। মাত্র অল্প সময়ের জন্য, প্রায় এক মিনিটের মতো, পৃথিবীর খুব ছোট একটি অংশে রাত থাকবে।

উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলজুড়ে দিনের আলো থাকবে। এসব এলাকাতেই বিশ্বের প্রায় সব মানুষ বসবাস করেন। অন্যদিকে অন্ধকারে থাকবে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশ, অ্যান্টার্কটিকা এবং আশপাশের মহাসাগরীয় অঞ্চল।

তবে এটি শুধু ৮ জুলাইয়ের একদিনের ঘটনা নয়। প্রতি বছর প্রায় ১৮ মে থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৬০ দিন এমন একটি সময় আসে, যখন প্রতিদিনই কিছুক্ষণের জন্য পৃথিবীর প্রায় সব মানুষ দিনের আলো বা গোধূলির মধ্যে থাকেন।

২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর ৮ জুলাইয়ের ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, শুধু এই দিনেই এমন ঘটনা ঘটে। তবে পরে তথ্য যাচাইয়ে দেখা যায়, ৮ জুলাই সবচেয়ে বেশি মানুষের একসঙ্গে আলো পাওয়ার দিনগুলোর একটি হলেও, উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালে প্রায় দুই মাস ধরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

গবেষণা অনুযায়ী, ওই মুহূর্তে প্রায় ৬৯০ কোটি মানুষ বা বিশ্বের ৮৩ শতাংশ মানুষ সরাসরি দিনের আলোয় থাকবেন। প্রায় ৫৮ কোটি ১০ লাখ মানুষ থাকবে ‘সিভিল টোয়াইলাইট’-এ, যখন কৃত্রিম আলো ছাড়াই বেশিরভাগ বাইরের কাজ করা সম্ভব।

এছাড়া প্রায় ৪৯ কোটি ৮০ লাখ মানুষ থাকবে ‘নটিক্যাল টোয়াইলাইট’-এ এবং ২৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষ থাকবে ‘অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট’-এ। মাত্র ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ, অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় ১ শতাংশ মানুষ, সম্পূর্ণ রাতের অন্ধকারে থাকবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৮ জুলাইয়ের এই ঘটনা জুনের অয়নান্তের (সোলস্টিস) পর ঘটে। জুন অয়নান্তে উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে দীর্ঘ দিন থাকে। এরপর সূর্যের অবস্থান ধীরে ধীরে দক্ষিণের দিকে সরে যায়, ফলে জনবহুল অঞ্চলগুলোতে দিনের আলো কিছুটা বাড়ে। এই সামান্য পরিবর্তনের কারণে অয়নান্তের দিনের তুলনায় প্রায় এক কোটি বেশি মানুষ সূর্যের আলো বা গোধূলির আওতায় আসেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

একই সময়ে সূর্যের আলো পাবে পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ মানুষ

আপডেট সময় ১০:১০:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

পৃথিবীর প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ একই সময়ে সূর্যের আলো বা গোধূলির অভিজ্ঞতা নিতে যাচ্ছেন। বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১১টা ১০ মিনিট) এমন বিরল মহাজাগতিক পরিস্থিতি তৈরি হবে, যখন বিশ্বের প্রায় ৮২০ কোটি মানুষের অধিকাংশই দিনের আলোতে থাকবেন।

পৃথিবীর অক্ষের হেলন এবং উত্তর গোলার্ধে চলমান গ্রীষ্মকালীন সময়ের কারণে এ ঘটনা ঘটবে। ওই সময় পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চলগুলো সূর্যের আলোয় আলোকিত থাকবে। মাত্র অল্প সময়ের জন্য, প্রায় এক মিনিটের মতো, পৃথিবীর খুব ছোট একটি অংশে রাত থাকবে।

উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলজুড়ে দিনের আলো থাকবে। এসব এলাকাতেই বিশ্বের প্রায় সব মানুষ বসবাস করেন। অন্যদিকে অন্ধকারে থাকবে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশ, অ্যান্টার্কটিকা এবং আশপাশের মহাসাগরীয় অঞ্চল।

তবে এটি শুধু ৮ জুলাইয়ের একদিনের ঘটনা নয়। প্রতি বছর প্রায় ১৮ মে থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৬০ দিন এমন একটি সময় আসে, যখন প্রতিদিনই কিছুক্ষণের জন্য পৃথিবীর প্রায় সব মানুষ দিনের আলো বা গোধূলির মধ্যে থাকেন।

২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর ৮ জুলাইয়ের ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, শুধু এই দিনেই এমন ঘটনা ঘটে। তবে পরে তথ্য যাচাইয়ে দেখা যায়, ৮ জুলাই সবচেয়ে বেশি মানুষের একসঙ্গে আলো পাওয়ার দিনগুলোর একটি হলেও, উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালে প্রায় দুই মাস ধরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

গবেষণা অনুযায়ী, ওই মুহূর্তে প্রায় ৬৯০ কোটি মানুষ বা বিশ্বের ৮৩ শতাংশ মানুষ সরাসরি দিনের আলোয় থাকবেন। প্রায় ৫৮ কোটি ১০ লাখ মানুষ থাকবে ‘সিভিল টোয়াইলাইট’-এ, যখন কৃত্রিম আলো ছাড়াই বেশিরভাগ বাইরের কাজ করা সম্ভব।

এছাড়া প্রায় ৪৯ কোটি ৮০ লাখ মানুষ থাকবে ‘নটিক্যাল টোয়াইলাইট’-এ এবং ২৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষ থাকবে ‘অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট’-এ। মাত্র ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ, অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় ১ শতাংশ মানুষ, সম্পূর্ণ রাতের অন্ধকারে থাকবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৮ জুলাইয়ের এই ঘটনা জুনের অয়নান্তের (সোলস্টিস) পর ঘটে। জুন অয়নান্তে উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে দীর্ঘ দিন থাকে। এরপর সূর্যের অবস্থান ধীরে ধীরে দক্ষিণের দিকে সরে যায়, ফলে জনবহুল অঞ্চলগুলোতে দিনের আলো কিছুটা বাড়ে। এই সামান্য পরিবর্তনের কারণে অয়নান্তের দিনের তুলনায় প্রায় এক কোটি বেশি মানুষ সূর্যের আলো বা গোধূলির আওতায় আসেন।