ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় হাতকড়া পরে মায়ের জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহ আলম খন্দকার। তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে পুলিশ পাহারায় মায়ের জানাজায় অংশ নেন। পরে জানাজা শেষে তাকে বিকাল ৫টার মধ্যে কারাগারে নেওয়া হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বেলা পৌনে ৩টার দিকে আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের নুরপুর পূর্বপাড়া জামে মসজিদ মাঠে তিনি মায়ের জানাজায় অংশ নেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক এক মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে থাকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহ আলম খন্দকারকে কয়েক দিন আগে তার মা হালিমা বেগম (৭৫) কারাগারে দেখতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হালিমা বেগম সোমবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখতে ও জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তি চেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদ মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেন।

প্যারোলে মুক্তির পর পুলিশ পাহারায় আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের নুরপুর লামারবাড়ি গ্রামে জানাজার জন্য নিয়ে আসা হয় তাকে। এরপর গ্রামের মসজিদ মাঠে জানাজা শেষ করে বিকাল ৫টার মধ্যে তার বাড়ি থেকে কারাগারে নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকাল পৌনে ৩টার দিকে নুরপুর পূর্বপাড়া জামে মসজিদ মাঠে তার মায়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাতকড়া পরানো অবস্থায় শাহ আলম খন্দকার জানাজায় অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তার মায়ের লাশ দাফন করা হয়।

জানাজা শেষে শাহ আলম খন্দকার তার মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া চান। জানাজায় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি মায়ের সেবা করতে পারিনি, এটাই হচ্ছে আমার সবচেয়ে বড় দুঃখ।

শাহ আলম খন্দকার বলেন, কয়েক দিন আগে কারাগারে আমাকে দেখতে গিয়ে মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার মায়ের মৃত্যু হয়। তবে মায়ের জানাজায় আসতে পেরেছি আল্লার দরবারে লাখো-কোটি শুকরিয়া।

আখাউড়া থানার ওসি জাবেদ উল ইসলাম বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহ আলম খন্দকার তার মায়ের জানাজায় অংশ নিতে আদালতের নির্দেশে প্যারোলে মুক্তি পান। জানাজা শেষে পুলিশ প্রহরায় তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার কাজান উৎসবে ‘প্রিন্সেস রোজী

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

আপডেট সময় ০৮:০৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় হাতকড়া পরে মায়ের জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহ আলম খন্দকার। তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে পুলিশ পাহারায় মায়ের জানাজায় অংশ নেন। পরে জানাজা শেষে তাকে বিকাল ৫টার মধ্যে কারাগারে নেওয়া হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বেলা পৌনে ৩টার দিকে আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের নুরপুর পূর্বপাড়া জামে মসজিদ মাঠে তিনি মায়ের জানাজায় অংশ নেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক এক মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে থাকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহ আলম খন্দকারকে কয়েক দিন আগে তার মা হালিমা বেগম (৭৫) কারাগারে দেখতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হালিমা বেগম সোমবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখতে ও জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তি চেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদ মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেন।

প্যারোলে মুক্তির পর পুলিশ পাহারায় আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের নুরপুর লামারবাড়ি গ্রামে জানাজার জন্য নিয়ে আসা হয় তাকে। এরপর গ্রামের মসজিদ মাঠে জানাজা শেষ করে বিকাল ৫টার মধ্যে তার বাড়ি থেকে কারাগারে নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকাল পৌনে ৩টার দিকে নুরপুর পূর্বপাড়া জামে মসজিদ মাঠে তার মায়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাতকড়া পরানো অবস্থায় শাহ আলম খন্দকার জানাজায় অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তার মায়ের লাশ দাফন করা হয়।

জানাজা শেষে শাহ আলম খন্দকার তার মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া চান। জানাজায় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি মায়ের সেবা করতে পারিনি, এটাই হচ্ছে আমার সবচেয়ে বড় দুঃখ।

শাহ আলম খন্দকার বলেন, কয়েক দিন আগে কারাগারে আমাকে দেখতে গিয়ে মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার মায়ের মৃত্যু হয়। তবে মায়ের জানাজায় আসতে পেরেছি আল্লার দরবারে লাখো-কোটি শুকরিয়া।

আখাউড়া থানার ওসি জাবেদ উল ইসলাম বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহ আলম খন্দকার তার মায়ের জানাজায় অংশ নিতে আদালতের নির্দেশে প্যারোলে মুক্তি পান। জানাজা শেষে পুলিশ প্রহরায় তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।