ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন দেশীয় উদ্যোক্তাদের অনেকে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক মানে পৌঁছে গেছে। তাই এইসব প্রতিষ্ঠানকে বিদেশে বিনিয়োগ করার সুযোগ দিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রী সভা কমিটি এই অনুমোদন দেয়।এদিকে বিদেশে বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ থেকে দেশে লাভ হবে বলে মনে করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নীতিনির্ধারকরা। তাই নীতিমালা তৈরি করতে ৬ সদস্যের কমিটি কাজ শুরু করেছে। অপরদিকে বাজার থেকে বিদেশি কোম্পানির টাকা তোলার বিধিও শিথিল করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশ থেকে এফডিআই আকর্ষণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আর বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাছাড়া ব্যয় হ্রাস, কান্ট্রি অফ অরিজিনের সুবিধা গ্রহণ, বিভিন্ন বিশেষ কাঁচামাল সোর্সিং এর সুবিধা গ্রহণ, পণ্যের গ্রাহকের সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে। তাই বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোকে বিদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করার প্রয়োজন আছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বিদেশে বিনিয়োগ করার সুস্পষ্ট নীতিমালা নাই। ফলে বিদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরির উপর গুরুত্ব দিয়ে নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে একটি কমিটি নীতিমালা তৈরির কাজ করছে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি সভাও হয়েছে। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পর্যায় ও কৌশল, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিয়োগ নীতিমালা, দেশের অভ্যন্তরে বিনিয়োগ বা অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার পর্যালোচনা প্রয়োজন। তাই যথাযথ বিশ্লেষণ করে নীতিমালা তৈরির বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ওই সভা থেকেই নীতিমালা তৈরির জন্য ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। কমিটির সমম্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী সদস্য-১ অজিত কুমার পালকে। সদস্য হিসেবে অর্থ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন। আর সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন বিনিয়োগ বোর্ডের উপ-পরিচালক।

এদিকে বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজার থেকে টাকা তোলার সুযোগ দিতে একের পর এক বিধি শিথিল করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে টাকা বন্ড ছেড়ে স্থানীয় বাজার থেকে টাকা তোলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানকে। চলতি মাসে তাদের এই সুযোগ করে দেওয়ার সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি মূলধনের জন্য স্থানীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর বৈদেশিক মুদ্রা না এনেও টাকায় বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশি কোম্পানিগুলোর বাজার থেকে টাকা তোলার অবাধ সুযোগ করে দেওয়ায় কার্যত ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে দেশি বিনিয়োগকারীদের। কারণ বিদেশি কোম্পানিগুলো জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা পাচার করে দেউলিয়া ঘোষণা করলে বা অতিরিক্ত মুনাফা দেখিয়ে তা বিদেশে স্থানান্তর করলে পথে বসে যাবেন স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা। এ বিষয়টিকে অবশ্যই আমলে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন দেশীয় উদ্যোক্তাদের অনেকে

আপডেট সময় ১২:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক মানে পৌঁছে গেছে। তাই এইসব প্রতিষ্ঠানকে বিদেশে বিনিয়োগ করার সুযোগ দিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রী সভা কমিটি এই অনুমোদন দেয়।এদিকে বিদেশে বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ থেকে দেশে লাভ হবে বলে মনে করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নীতিনির্ধারকরা। তাই নীতিমালা তৈরি করতে ৬ সদস্যের কমিটি কাজ শুরু করেছে। অপরদিকে বাজার থেকে বিদেশি কোম্পানির টাকা তোলার বিধিও শিথিল করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশ থেকে এফডিআই আকর্ষণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আর বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাছাড়া ব্যয় হ্রাস, কান্ট্রি অফ অরিজিনের সুবিধা গ্রহণ, বিভিন্ন বিশেষ কাঁচামাল সোর্সিং এর সুবিধা গ্রহণ, পণ্যের গ্রাহকের সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে। তাই বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোকে বিদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করার প্রয়োজন আছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বিদেশে বিনিয়োগ করার সুস্পষ্ট নীতিমালা নাই। ফলে বিদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরির উপর গুরুত্ব দিয়ে নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে একটি কমিটি নীতিমালা তৈরির কাজ করছে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি সভাও হয়েছে। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পর্যায় ও কৌশল, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিয়োগ নীতিমালা, দেশের অভ্যন্তরে বিনিয়োগ বা অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার পর্যালোচনা প্রয়োজন। তাই যথাযথ বিশ্লেষণ করে নীতিমালা তৈরির বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ওই সভা থেকেই নীতিমালা তৈরির জন্য ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। কমিটির সমম্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী সদস্য-১ অজিত কুমার পালকে। সদস্য হিসেবে অর্থ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন। আর সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন বিনিয়োগ বোর্ডের উপ-পরিচালক।

এদিকে বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজার থেকে টাকা তোলার সুযোগ দিতে একের পর এক বিধি শিথিল করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে টাকা বন্ড ছেড়ে স্থানীয় বাজার থেকে টাকা তোলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানকে। চলতি মাসে তাদের এই সুযোগ করে দেওয়ার সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি মূলধনের জন্য স্থানীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর বৈদেশিক মুদ্রা না এনেও টাকায় বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশি কোম্পানিগুলোর বাজার থেকে টাকা তোলার অবাধ সুযোগ করে দেওয়ায় কার্যত ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে দেশি বিনিয়োগকারীদের। কারণ বিদেশি কোম্পানিগুলো জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা পাচার করে দেউলিয়া ঘোষণা করলে বা অতিরিক্ত মুনাফা দেখিয়ে তা বিদেশে স্থানান্তর করলে পথে বসে যাবেন স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা। এ বিষয়টিকে অবশ্যই আমলে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।