ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের দলীয় প্রভাবমুক্ত ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের নির্দেশ অর্থমন্ত্রীর মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে গেলে আমরা সমৃদ্ধির পথে যাব: অর্থমন্ত্রী ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে পিরোজপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রাজধানীর ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশের জনগণ আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করেনি, করবে না: গোলাম পরওয়ার ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: জেডি ভ্যান্স গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

প্রথমবার জীবন্ত গবলিন হাঙরের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

গভীর সমুদ্রের রহস্যময় শিকারি গবলিন হাঙরকে প্রথমবারের মতো তার প্রাকৃতিক পরিবেশে সাঁতার কাটতে দেখা গেছে। বিজ্ঞানীরা জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় থাকা এই হাঙরের ভিডিও ধারণ করেছেন। এটাকে সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অব ফিশ বায়োলজি’-তে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াই এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা এ আবিষ্কার করেছেন।

গবেষণায় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চলে গবলিন হাঙরের দুটি আলাদা সাক্ষাতের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে জীবিত অবস্থায় গবলিন হাঙর খুব কমই দেখা গেছে। সাধারণত মাছ ধরার জালে দুর্ঘটনাবশত আটকা পড়ার পরই এগুলো মানুষের নজরে আসত। সমুদ্রের ওপরে তুলে আনার পর বেশির ভাগ সময় হাঙরগুলো দ্রুত মারা যেত।

গবেষকরা জানান, প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালে জার্ভিস দ্বীপের কাছে। সমুদ্রের প্রায় ১ হাজার ২৩৭ মিটার গভীরে একটি রিমোট নিয়ন্ত্রিত যান ‘হারকিউলিস’-এ লাগানো ক্যামেরায় হাঙরটির ভিডিও ধারণ করা হয়। তবে কয়েক বছর পর গবেষক অ্যারন জুডাহ ও তার সহকর্মীরা ওই ভিডিও বিশ্লেষণ করে এর গুরুত্ব বুঝতে পারেন।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের টোঙ্গা ট্রেঞ্চ এলাকায়। দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করা এই দৃশ্য গবলিন হাঙরের বসবাসের গভীরতার আগের ধারণাকে প্রায় ৭০০ মিটার বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি এই প্রজাতির জন্য নতুন গভীরতার রেকর্ড তৈরি করেছে।

গবেষক অ্যারন জুডাহ বলেন, গভীর সমুদ্রের অন্যতম পরিচিত এই হাঙরকে নিজের স্বাভাবিক পরিবেশে সুস্থ অবস্থায় দেখা একটি বিশেষ সম্মানের বিষয়। টোঙ্গা ট্রেঞ্চে পাওয়া তথ্য তাদেরও অবাক করেছে, কারণ এটি আগে ধারণার চেয়ে অনেক গভীরে বসবাস করে।

গবেষকদের মতে, এই দুই পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করেছে যে, গবলিন হাঙর প্রশান্ত মহাসাগরের বিশাল এলাকায় বিচরণ করে। টোঙ্গা ট্রেঞ্চের এই তথ্য এটি সবচেয়ে গভীর অবস্থানে থাকা হাঙর বলে পর্যবেক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

গবলিন হাঙরের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে লম্বা বেরিয়ে থাকা নাক, সূচালো দাঁত এবং নরম, প্রায় জেলির মতো শরীর। এটি প্রায় ১২ ফুট (৩ দশমিক ৬ মিটার) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। বিজ্ঞানীরা একে ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ বলেন, কারণ এই প্রজাতির বংশধারা প্রায় ১২৫ মিলিয়ন বছর আগের।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের

প্রথমবার জীবন্ত গবলিন হাঙরের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

আপডেট সময় ০৮:১০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

গভীর সমুদ্রের রহস্যময় শিকারি গবলিন হাঙরকে প্রথমবারের মতো তার প্রাকৃতিক পরিবেশে সাঁতার কাটতে দেখা গেছে। বিজ্ঞানীরা জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় থাকা এই হাঙরের ভিডিও ধারণ করেছেন। এটাকে সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অব ফিশ বায়োলজি’-তে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াই এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা এ আবিষ্কার করেছেন।

গবেষণায় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চলে গবলিন হাঙরের দুটি আলাদা সাক্ষাতের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে জীবিত অবস্থায় গবলিন হাঙর খুব কমই দেখা গেছে। সাধারণত মাছ ধরার জালে দুর্ঘটনাবশত আটকা পড়ার পরই এগুলো মানুষের নজরে আসত। সমুদ্রের ওপরে তুলে আনার পর বেশির ভাগ সময় হাঙরগুলো দ্রুত মারা যেত।

গবেষকরা জানান, প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালে জার্ভিস দ্বীপের কাছে। সমুদ্রের প্রায় ১ হাজার ২৩৭ মিটার গভীরে একটি রিমোট নিয়ন্ত্রিত যান ‘হারকিউলিস’-এ লাগানো ক্যামেরায় হাঙরটির ভিডিও ধারণ করা হয়। তবে কয়েক বছর পর গবেষক অ্যারন জুডাহ ও তার সহকর্মীরা ওই ভিডিও বিশ্লেষণ করে এর গুরুত্ব বুঝতে পারেন।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের টোঙ্গা ট্রেঞ্চ এলাকায়। দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করা এই দৃশ্য গবলিন হাঙরের বসবাসের গভীরতার আগের ধারণাকে প্রায় ৭০০ মিটার বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি এই প্রজাতির জন্য নতুন গভীরতার রেকর্ড তৈরি করেছে।

গবেষক অ্যারন জুডাহ বলেন, গভীর সমুদ্রের অন্যতম পরিচিত এই হাঙরকে নিজের স্বাভাবিক পরিবেশে সুস্থ অবস্থায় দেখা একটি বিশেষ সম্মানের বিষয়। টোঙ্গা ট্রেঞ্চে পাওয়া তথ্য তাদেরও অবাক করেছে, কারণ এটি আগে ধারণার চেয়ে অনেক গভীরে বসবাস করে।

গবেষকদের মতে, এই দুই পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করেছে যে, গবলিন হাঙর প্রশান্ত মহাসাগরের বিশাল এলাকায় বিচরণ করে। টোঙ্গা ট্রেঞ্চের এই তথ্য এটি সবচেয়ে গভীর অবস্থানে থাকা হাঙর বলে পর্যবেক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

গবলিন হাঙরের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে লম্বা বেরিয়ে থাকা নাক, সূচালো দাঁত এবং নরম, প্রায় জেলির মতো শরীর। এটি প্রায় ১২ ফুট (৩ দশমিক ৬ মিটার) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। বিজ্ঞানীরা একে ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ বলেন, কারণ এই প্রজাতির বংশধারা প্রায় ১২৫ মিলিয়ন বছর আগের।