আকাশ নিউজ ডেস্ক:
গভীর সমুদ্রের রহস্যময় শিকারি গবলিন হাঙরকে প্রথমবারের মতো তার প্রাকৃতিক পরিবেশে সাঁতার কাটতে দেখা গেছে। বিজ্ঞানীরা জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় থাকা এই হাঙরের ভিডিও ধারণ করেছেন। এটাকে সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অব ফিশ বায়োলজি’-তে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াই এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা এ আবিষ্কার করেছেন।
গবেষণায় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চলে গবলিন হাঙরের দুটি আলাদা সাক্ষাতের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে জীবিত অবস্থায় গবলিন হাঙর খুব কমই দেখা গেছে। সাধারণত মাছ ধরার জালে দুর্ঘটনাবশত আটকা পড়ার পরই এগুলো মানুষের নজরে আসত। সমুদ্রের ওপরে তুলে আনার পর বেশির ভাগ সময় হাঙরগুলো দ্রুত মারা যেত।
গবেষকরা জানান, প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালে জার্ভিস দ্বীপের কাছে। সমুদ্রের প্রায় ১ হাজার ২৩৭ মিটার গভীরে একটি রিমোট নিয়ন্ত্রিত যান ‘হারকিউলিস’-এ লাগানো ক্যামেরায় হাঙরটির ভিডিও ধারণ করা হয়। তবে কয়েক বছর পর গবেষক অ্যারন জুডাহ ও তার সহকর্মীরা ওই ভিডিও বিশ্লেষণ করে এর গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের টোঙ্গা ট্রেঞ্চ এলাকায়। দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করা এই দৃশ্য গবলিন হাঙরের বসবাসের গভীরতার আগের ধারণাকে প্রায় ৭০০ মিটার বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি এই প্রজাতির জন্য নতুন গভীরতার রেকর্ড তৈরি করেছে।
গবেষক অ্যারন জুডাহ বলেন, গভীর সমুদ্রের অন্যতম পরিচিত এই হাঙরকে নিজের স্বাভাবিক পরিবেশে সুস্থ অবস্থায় দেখা একটি বিশেষ সম্মানের বিষয়। টোঙ্গা ট্রেঞ্চে পাওয়া তথ্য তাদেরও অবাক করেছে, কারণ এটি আগে ধারণার চেয়ে অনেক গভীরে বসবাস করে।
গবেষকদের মতে, এই দুই পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করেছে যে, গবলিন হাঙর প্রশান্ত মহাসাগরের বিশাল এলাকায় বিচরণ করে। টোঙ্গা ট্রেঞ্চের এই তথ্য এটি সবচেয়ে গভীর অবস্থানে থাকা হাঙর বলে পর্যবেক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
গবলিন হাঙরের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে লম্বা বেরিয়ে থাকা নাক, সূচালো দাঁত এবং নরম, প্রায় জেলির মতো শরীর। এটি প্রায় ১২ ফুট (৩ দশমিক ৬ মিটার) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। বিজ্ঞানীরা একে ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ বলেন, কারণ এই প্রজাতির বংশধারা প্রায় ১২৫ মিলিয়ন বছর আগের।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























