ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

১১ কোটি আলোকবর্ষ দূরের অদ্ভুত ছায়াপথ খুঁজে পেল হাবল দূরবীন

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মহাকাশের গভীরে লুকিয়ে থাকা অস্বাভাবিক এক ক্ষীণ ছায়াপথের ছবি তুলেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার হাবল মহাকাশ দূরবীন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ছায়াপথ ভবিষ্যতে মহাবিশ্বের রহস্যময় ‘অন্ধকার পদার্থ’ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

ইউজিসি ৪৭৭ নামের এই ছায়াপথ পৃথিবী থেকে প্রায় ১১ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এটি ‘মীন’ নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে, যাকে ‘মাছ’ নক্ষত্রমণ্ডলও বলা হয়। বিজ্ঞানীরা এটিকে ‘কম উজ্জ্বল পৃষ্ঠবিশিষ্ট ছায়াপথ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অর্থাৎ, এটি আমাদের মিল্কিওয়ে বা অ্যান্ড্রোমিডার মতো সাধারণ ছায়াপথের তুলনায় অনেক বেশি ম্লান।

এই ধরনের ছায়াপথের ধারণা প্রথম দেন বিজ্ঞানী মাইক ডিজনি, ১৯৭৬ সালে। তবে ১৯৮৬ সালে ‘ম্যালিন-১’ নামের আরেকটি ছায়াপথ আবিষ্কারের পর এদের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এসব ছায়াপথ সাধারণ ছায়াপথের তুলনায় অনেক বেশি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। এতটাই ম্লান যে, রাতের আকাশের চেয়েও প্রায় ২৫০ গুণ কম উজ্জ্বল হতে পারে। এ কারণেই এগুলো শনাক্ত করা খুব কঠিন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ধরনের ছায়াপথে সাধারণত নক্ষত্রের চেয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস বেশি থাকে। আবার সাধারণ সর্পিল ছায়াপথের মতো এর কেন্দ্রেও বিপুল সংখ্যক নক্ষত্র দেখা যায় না।

গবেষকদের ধারণা, এসব ছায়াপথ সাধারণত মহাকাশের নির্জন অঞ্চলে অবস্থান করে, যেখানে আশপাশে অন্য ছায়াপথ কম থাকে। ফলে ছায়াপথগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বা একীভূত হওয়ার ঘটনা কম ঘটে। অথচ এমন ঘটনাই সাধারণত নতুন নক্ষত্র তৈরির প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়।

বিজ্ঞানীরা আরও মনে করছেন, ইউজিসি ৪৭৭-এর মতো ছায়াপথে রহস্যময় অন্ধকার পদার্থের প্রভাব অনেক বেশি। তাই মহাবিশ্বের অজানা উপাদান নিয়ে গবেষণায় এসব ছায়াপথ এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

১১ কোটি আলোকবর্ষ দূরের অদ্ভুত ছায়াপথ খুঁজে পেল হাবল দূরবীন

আপডেট সময় ১০:২০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মহাকাশের গভীরে লুকিয়ে থাকা অস্বাভাবিক এক ক্ষীণ ছায়াপথের ছবি তুলেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার হাবল মহাকাশ দূরবীন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ছায়াপথ ভবিষ্যতে মহাবিশ্বের রহস্যময় ‘অন্ধকার পদার্থ’ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

ইউজিসি ৪৭৭ নামের এই ছায়াপথ পৃথিবী থেকে প্রায় ১১ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এটি ‘মীন’ নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে, যাকে ‘মাছ’ নক্ষত্রমণ্ডলও বলা হয়। বিজ্ঞানীরা এটিকে ‘কম উজ্জ্বল পৃষ্ঠবিশিষ্ট ছায়াপথ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অর্থাৎ, এটি আমাদের মিল্কিওয়ে বা অ্যান্ড্রোমিডার মতো সাধারণ ছায়াপথের তুলনায় অনেক বেশি ম্লান।

এই ধরনের ছায়াপথের ধারণা প্রথম দেন বিজ্ঞানী মাইক ডিজনি, ১৯৭৬ সালে। তবে ১৯৮৬ সালে ‘ম্যালিন-১’ নামের আরেকটি ছায়াপথ আবিষ্কারের পর এদের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এসব ছায়াপথ সাধারণ ছায়াপথের তুলনায় অনেক বেশি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। এতটাই ম্লান যে, রাতের আকাশের চেয়েও প্রায় ২৫০ গুণ কম উজ্জ্বল হতে পারে। এ কারণেই এগুলো শনাক্ত করা খুব কঠিন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ধরনের ছায়াপথে সাধারণত নক্ষত্রের চেয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস বেশি থাকে। আবার সাধারণ সর্পিল ছায়াপথের মতো এর কেন্দ্রেও বিপুল সংখ্যক নক্ষত্র দেখা যায় না।

গবেষকদের ধারণা, এসব ছায়াপথ সাধারণত মহাকাশের নির্জন অঞ্চলে অবস্থান করে, যেখানে আশপাশে অন্য ছায়াপথ কম থাকে। ফলে ছায়াপথগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বা একীভূত হওয়ার ঘটনা কম ঘটে। অথচ এমন ঘটনাই সাধারণত নতুন নক্ষত্র তৈরির প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়।

বিজ্ঞানীরা আরও মনে করছেন, ইউজিসি ৪৭৭-এর মতো ছায়াপথে রহস্যময় অন্ধকার পদার্থের প্রভাব অনেক বেশি। তাই মহাবিশ্বের অজানা উপাদান নিয়ে গবেষণায় এসব ছায়াপথ এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।