আকাশ নিউজ ডেস্ক:
মহাকাশের গভীরে লুকিয়ে থাকা অস্বাভাবিক এক ক্ষীণ ছায়াপথের ছবি তুলেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার হাবল মহাকাশ দূরবীন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ছায়াপথ ভবিষ্যতে মহাবিশ্বের রহস্যময় ‘অন্ধকার পদার্থ’ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
ইউজিসি ৪৭৭ নামের এই ছায়াপথ পৃথিবী থেকে প্রায় ১১ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এটি ‘মীন’ নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে, যাকে ‘মাছ’ নক্ষত্রমণ্ডলও বলা হয়। বিজ্ঞানীরা এটিকে ‘কম উজ্জ্বল পৃষ্ঠবিশিষ্ট ছায়াপথ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অর্থাৎ, এটি আমাদের মিল্কিওয়ে বা অ্যান্ড্রোমিডার মতো সাধারণ ছায়াপথের তুলনায় অনেক বেশি ম্লান।
এই ধরনের ছায়াপথের ধারণা প্রথম দেন বিজ্ঞানী মাইক ডিজনি, ১৯৭৬ সালে। তবে ১৯৮৬ সালে ‘ম্যালিন-১’ নামের আরেকটি ছায়াপথ আবিষ্কারের পর এদের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এসব ছায়াপথ সাধারণ ছায়াপথের তুলনায় অনেক বেশি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। এতটাই ম্লান যে, রাতের আকাশের চেয়েও প্রায় ২৫০ গুণ কম উজ্জ্বল হতে পারে। এ কারণেই এগুলো শনাক্ত করা খুব কঠিন।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ধরনের ছায়াপথে সাধারণত নক্ষত্রের চেয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস বেশি থাকে। আবার সাধারণ সর্পিল ছায়াপথের মতো এর কেন্দ্রেও বিপুল সংখ্যক নক্ষত্র দেখা যায় না।
গবেষকদের ধারণা, এসব ছায়াপথ সাধারণত মহাকাশের নির্জন অঞ্চলে অবস্থান করে, যেখানে আশপাশে অন্য ছায়াপথ কম থাকে। ফলে ছায়াপথগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বা একীভূত হওয়ার ঘটনা কম ঘটে। অথচ এমন ঘটনাই সাধারণত নতুন নক্ষত্র তৈরির প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়।
বিজ্ঞানীরা আরও মনে করছেন, ইউজিসি ৪৭৭-এর মতো ছায়াপথে রহস্যময় অন্ধকার পদার্থের প্রভাব অনেক বেশি। তাই মহাবিশ্বের অজানা উপাদান নিয়ে গবেষণায় এসব ছায়াপথ এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























