ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

ম্যাচ ফিক্সিংকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে পরিণত করতে চায় বিসিবি

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক : 

ম্যাচ ফিক্সিংকে ফৌজদারি অপরাধে পরিণত করা যায় কি না তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দেখবেন বলে জানিয়েছেন বিসিবির ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাড হক কমিটির সদস্য সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ।

ইব্রাহিম আগামী ৭ জুন নির্ধারিত বিসিবি নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। বুধবার (২৭ মে) ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজকে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ বলেন, ফিক্সিংয়ের বিষয়ে তাদের জিরো-টলারেন্স নীতি রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিপিএলে ফিক্সিং সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে ক্রিকেটার ও আয়োজকদের ওপর সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা তেমন একটি পদক্ষেপ।

তিনি সবাইকে এটিকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান এবং আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারেও জোর দেন।

সম্প্রতি বিসিবি আইসিসি দুর্নীতি দমন কোডের অধীনে ক্রিকেটার ও দলের মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। বিসিবির অ্যাড হক কমিটির সদস্য এই সদস্য বলেন, যদি (ফিক্সিংয়ের) মামলাগুলো দেওয়ানি থেকে ফৌজদারিতে পরিবর্তন করা হয়, তাহলে মানুষ এ ধরনের কাজ করার আগে অবশ্যই বিষয়টি (যে ফিক্সিং একটি ফৌজদারি অপরাধ) ভেবে দেখবে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা ইতোমধ্যেই দেখেছেন বিসিবির সদস্যরা ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারির বিষয়ে পাঁচজন ব্যক্তিকে নোটিশ দিয়েছেন। আমাদের দুর্নীতি দমন ইউনিটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সুতরাং আমি আশা করি এটি সকলের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ বলেন, আসুন খেলাধুলাকে পরিচ্ছন্ন রাখি। প্রয়োজনে আমরা বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে কথা বলতে পারি এবং (ফিক্সিংকে ফৌজদারি অপরাধে পরিণত করার) উদ্যোগ শুরু করতে পারি।

বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের আইনজীবী এবং এর আইনি দলের প্রধান মাহিন এম রহমান ক্রিকবাজকে বলেন, ঈদের ছুটির পর সংসদ চালু হওয়ার পর তারা প্রক্রিয়াটি নিয়ে কাজ শুরু করবেন। প্রথমে আইন কমিশন থেকে আইনটি তৈরি করতে হবে এবং পরে অনুমোদন পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় থেকে তা অনুমোদন করাতে হবে বলেও জানান তিনি।

এই আইনজীবী আরও বলেন, আমার জানামতে এ বিষয়ে (ফিক্সিং) একটি আইনের খসড়া তৈরি হচ্ছে এবং ঈদের পর আমি এ ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রাখব। দেশের আইনে ম্যাচ ফিক্সিংকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কাসহ বেশ কয়েকটি দেশে ম্যাচ ফিক্সিংকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এটি বিশেষভাবে ক্রিকেটের ক্ষেত্রেই করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মাহিন এম রহমান বলেন, তারা এটিকে এমনভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে যা সরাসরি ক্রিকেটকে লক্ষ্য করে। একটি নির্দিষ্ট আইন থাকবে যা ক্রিকেট এবং অন্যান্য খেলাধুলার এই বিষয়গুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে, যার মধ্যে ম্যাচ ফিক্সিং বা দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকলে কী হবে, সেটাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটি ফৌজদারি আইনের আওতায় পড়বে, যা দণ্ডবিধির একটি বিষয়। ঠিক বিদ্যমান দণ্ডবিধির আওতায় না হলেও, এ বিষয়ে একটি পৃথক আইন থাকবে বলেও ধারণা দেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যাচ ফিক্সিংকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে পরিণত করতে চায় বিসিবি

আপডেট সময় ১০:১০:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক : 

ম্যাচ ফিক্সিংকে ফৌজদারি অপরাধে পরিণত করা যায় কি না তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দেখবেন বলে জানিয়েছেন বিসিবির ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাড হক কমিটির সদস্য সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ।

ইব্রাহিম আগামী ৭ জুন নির্ধারিত বিসিবি নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। বুধবার (২৭ মে) ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজকে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ বলেন, ফিক্সিংয়ের বিষয়ে তাদের জিরো-টলারেন্স নীতি রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিপিএলে ফিক্সিং সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে ক্রিকেটার ও আয়োজকদের ওপর সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা তেমন একটি পদক্ষেপ।

তিনি সবাইকে এটিকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান এবং আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারেও জোর দেন।

সম্প্রতি বিসিবি আইসিসি দুর্নীতি দমন কোডের অধীনে ক্রিকেটার ও দলের মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। বিসিবির অ্যাড হক কমিটির সদস্য এই সদস্য বলেন, যদি (ফিক্সিংয়ের) মামলাগুলো দেওয়ানি থেকে ফৌজদারিতে পরিবর্তন করা হয়, তাহলে মানুষ এ ধরনের কাজ করার আগে অবশ্যই বিষয়টি (যে ফিক্সিং একটি ফৌজদারি অপরাধ) ভেবে দেখবে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা ইতোমধ্যেই দেখেছেন বিসিবির সদস্যরা ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারির বিষয়ে পাঁচজন ব্যক্তিকে নোটিশ দিয়েছেন। আমাদের দুর্নীতি দমন ইউনিটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সুতরাং আমি আশা করি এটি সকলের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ বলেন, আসুন খেলাধুলাকে পরিচ্ছন্ন রাখি। প্রয়োজনে আমরা বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে কথা বলতে পারি এবং (ফিক্সিংকে ফৌজদারি অপরাধে পরিণত করার) উদ্যোগ শুরু করতে পারি।

বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের আইনজীবী এবং এর আইনি দলের প্রধান মাহিন এম রহমান ক্রিকবাজকে বলেন, ঈদের ছুটির পর সংসদ চালু হওয়ার পর তারা প্রক্রিয়াটি নিয়ে কাজ শুরু করবেন। প্রথমে আইন কমিশন থেকে আইনটি তৈরি করতে হবে এবং পরে অনুমোদন পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় থেকে তা অনুমোদন করাতে হবে বলেও জানান তিনি।

এই আইনজীবী আরও বলেন, আমার জানামতে এ বিষয়ে (ফিক্সিং) একটি আইনের খসড়া তৈরি হচ্ছে এবং ঈদের পর আমি এ ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রাখব। দেশের আইনে ম্যাচ ফিক্সিংকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কাসহ বেশ কয়েকটি দেশে ম্যাচ ফিক্সিংকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এটি বিশেষভাবে ক্রিকেটের ক্ষেত্রেই করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মাহিন এম রহমান বলেন, তারা এটিকে এমনভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে যা সরাসরি ক্রিকেটকে লক্ষ্য করে। একটি নির্দিষ্ট আইন থাকবে যা ক্রিকেট এবং অন্যান্য খেলাধুলার এই বিষয়গুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে, যার মধ্যে ম্যাচ ফিক্সিং বা দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকলে কী হবে, সেটাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটি ফৌজদারি আইনের আওতায় পড়বে, যা দণ্ডবিধির একটি বিষয়। ঠিক বিদ্যমান দণ্ডবিধির আওতায় না হলেও, এ বিষয়ে একটি পৃথক আইন থাকবে বলেও ধারণা দেন তিনি।