ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবহাওয়ার আগাম সতর্কবার্তা জানাতে চালু হচ্ছে মোবাইল অ্যাপ

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশে আবহাওয়ার তথ্য ও আগাম সতর্কবার্তা আরও সহজে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে একটি নতুন মোবাইল অ্যাপের বেটা ভার্সন চালু করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর (বিএমডি)। ‘জাতীয় ক্লাইমেট অ্যাপ্লিকেশন ফোরাম ২০২৬’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটির উন্মোচন করা হয়।

বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হোটেলে পূর্বাভাস প্রদানকারী সংস্থা, কারিগরি বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই ফোরামের আয়োজন করা হয়। আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে দেশের পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।

ফোরামের প্রধান আকর্ষণ ছিল আবহাওয়া অধিদফতরের নতুন মোবাইল অ্যাপের বেটা ভার্সন উন্মোচন। অধিদফতরটির পরিচালক মো. মমিনুল ইসলামসহ বিএলআরআই, রাইমস এবং বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যৌথভাবে অ্যাপটি উদ্বোধন করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণ মানুষ এখন থেকে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই দ্রুত আবহাওয়ার পূর্বাভাস, সতর্কবার্তা এবং জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।

এর মাধ্যমে বিএমডির পূর্বাভাস সেবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফোরামে জলবায়ু তথ্যকে বাস্তব প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনায় রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য যাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, খাত এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারিক প্রস্তুতির পদক্ষেপে রূপান্তরিত হতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য এই ফোরাম একটি চমৎকার মাধ্যম।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের ক্লাইমেট অ্যান্ড লাইভলিহুডস অ্যাডভাইজার এ বি এম ফিরোজ আহমেদ জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং নির্ভরযোগ্য জলবায়ু তথ্য সহজলভ্য করতে অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এছাড়া ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা নিয়ে একটি কেস স্টাডি উপস্থাপন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুর রহমান জানান, রাইমসের সহায়তায় উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থা ব্যবহার করে বড় ধরনের ক্ষতির আগেই সফলভাবে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমের জন্য ঋতুভিত্তিক জলবায়ু পূর্বাভাস তুলে ধরেন আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ। তিনি জানান, আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা, কম ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং তাপদাহের আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে বিভিন্ন রোগব্যাধির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এল নিনো পূর্বাভাস নিয়ে আবহাওয়াবিদ এস. এম. কামরুল হাসান বলেন, শক্তিশালী এল নিনো মানেই সবসময় শক্তিশালী প্রভাব নয়, বাংলাদেশের বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার সঙ্গে এনসো’র সম্পর্কও বিবেচনা করতে হবে।

ফোরামে কৃষিতে আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করেন রাইমসের সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার মুহাম্মদ তানজিলুর রহমান। তিনি দেখান কীভাবে কৃষকরা পূর্বাভাস ব্যবহার করে কৃষি পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মুয়ীদ যোগ করেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে শুধু বোঝার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এর সক্রিয় ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ হাইড্রোমেটিওরোলজিক্যাল কোলাবোরেশন, প্রডিষ্ঠা কনসোর্টিয়াম এবং রাইমস-বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন অংশীদারিত্বে পরিচালিত ‘BRIDGES’ প্রকল্পের আওতায় এই ফোরামের আয়োজন করা হয়, যার মূল লক্ষ্য দেশের বন্যা পূর্বাভাস, আগাম সতর্কতা এবং জলবায়ু তথ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রামিসার বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী, দ্রুত বিচারের আশ্বাস

আবহাওয়ার আগাম সতর্কবার্তা জানাতে চালু হচ্ছে মোবাইল অ্যাপ

আপডেট সময় ০৯:৪০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশে আবহাওয়ার তথ্য ও আগাম সতর্কবার্তা আরও সহজে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে একটি নতুন মোবাইল অ্যাপের বেটা ভার্সন চালু করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর (বিএমডি)। ‘জাতীয় ক্লাইমেট অ্যাপ্লিকেশন ফোরাম ২০২৬’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটির উন্মোচন করা হয়।

বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হোটেলে পূর্বাভাস প্রদানকারী সংস্থা, কারিগরি বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই ফোরামের আয়োজন করা হয়। আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে দেশের পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।

ফোরামের প্রধান আকর্ষণ ছিল আবহাওয়া অধিদফতরের নতুন মোবাইল অ্যাপের বেটা ভার্সন উন্মোচন। অধিদফতরটির পরিচালক মো. মমিনুল ইসলামসহ বিএলআরআই, রাইমস এবং বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যৌথভাবে অ্যাপটি উদ্বোধন করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণ মানুষ এখন থেকে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই দ্রুত আবহাওয়ার পূর্বাভাস, সতর্কবার্তা এবং জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।

এর মাধ্যমে বিএমডির পূর্বাভাস সেবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফোরামে জলবায়ু তথ্যকে বাস্তব প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনায় রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য যাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, খাত এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারিক প্রস্তুতির পদক্ষেপে রূপান্তরিত হতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য এই ফোরাম একটি চমৎকার মাধ্যম।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের ক্লাইমেট অ্যান্ড লাইভলিহুডস অ্যাডভাইজার এ বি এম ফিরোজ আহমেদ জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং নির্ভরযোগ্য জলবায়ু তথ্য সহজলভ্য করতে অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এছাড়া ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা নিয়ে একটি কেস স্টাডি উপস্থাপন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুর রহমান জানান, রাইমসের সহায়তায় উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থা ব্যবহার করে বড় ধরনের ক্ষতির আগেই সফলভাবে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমের জন্য ঋতুভিত্তিক জলবায়ু পূর্বাভাস তুলে ধরেন আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ। তিনি জানান, আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা, কম ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং তাপদাহের আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে বিভিন্ন রোগব্যাধির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এল নিনো পূর্বাভাস নিয়ে আবহাওয়াবিদ এস. এম. কামরুল হাসান বলেন, শক্তিশালী এল নিনো মানেই সবসময় শক্তিশালী প্রভাব নয়, বাংলাদেশের বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার সঙ্গে এনসো’র সম্পর্কও বিবেচনা করতে হবে।

ফোরামে কৃষিতে আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করেন রাইমসের সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার মুহাম্মদ তানজিলুর রহমান। তিনি দেখান কীভাবে কৃষকরা পূর্বাভাস ব্যবহার করে কৃষি পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মুয়ীদ যোগ করেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে শুধু বোঝার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এর সক্রিয় ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ হাইড্রোমেটিওরোলজিক্যাল কোলাবোরেশন, প্রডিষ্ঠা কনসোর্টিয়াম এবং রাইমস-বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন অংশীদারিত্বে পরিচালিত ‘BRIDGES’ প্রকল্পের আওতায় এই ফোরামের আয়োজন করা হয়, যার মূল লক্ষ্য দেশের বন্যা পূর্বাভাস, আগাম সতর্কতা এবং জলবায়ু তথ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করা।