আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টায় অভিযুক্তকে গ্রেফতারে প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রতিবাদে প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তারা। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান তদন্তের জন্য ৭ দিনের সময় চাইলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে বিভিন্ন ছাত্রী হল থেকে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ছাত্রী হলগুলো ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়।
সেখানে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত অবস্থান করেন তারা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টরের সঙ্গে দফায় দফায় বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান তারা। বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান ও অভিনব উপায়ে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি জানান। তারা প্রক্টর কার্যালয়ের তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দেন। তালা ঝুলানোর পর প্রক্টর অফিসের দরজা, জানালা ও দেওয়ালে প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন গ্রাফিতি লেখেন।
আন্দোলনকারী নারী শিক্ষার্থীরা বলেন, গত ১৩ মে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করে অপরাধীকে গ্রেফতারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। শুক্রবার রাত ৩টায় সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অপরাধীকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি।
তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং দাবি অস্বীকার করছে। উপাচার্য স্বাক্ষরের মাধ্যমে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসন ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছে এবং ভুল ছবি প্রচার করে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
তারা আরো বলেন, আগামীকাল থেকে রেজিস্ট্রার ভবনে সব প্রশাসনিক কার্যক্রম অবরোধ করা হবে। প্রক্টরের পদত্যাগ, অপরাধী গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হয়েছে। পুলিশ চেষ্টা করছে এবং কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তারা আসামিকে গ্রেফতারে সর্বোচ্চ কাজ করছে।’
প্রক্টরের পদত্যাগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নিতে হলে অভিযোগকারী ও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রক্টরকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেম অনুযায়ী তদন্ত কমিটি করে গাফিলতি কোথায় সেটা দেখা যেতে পারে। ভুল ছবি প্রকাশের বিষয়টিও তদন্ত কমিটিতে দেখা হবে।’
এ বিষয়ে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারীদের কাছে ৭ দিনের সময় চাইলে নাকচ করে দেন আন্দোলনকারীরা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















