আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় রাজু আহমেদ (৩০) নামে এক যুবককে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাতে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরহোগলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজু আহমেদ ওই এলাকার আয়নাল হকের ছেলে।
নিহতের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে পুলিশ বলছে, এটি রাজনৈতিক নাকি পারিবারিক বিরোধে- তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পরিবারের অভিযোগ, রাজু একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও প্রায় তিন মাস আগে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত প্রধানের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
রাজুর ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে স্থানীয় নুরুল ও জাকিরের বাকবিতণ্ডা হয় রোববার রাতে। পরে বিষয়টি মারামারিতে রূপ নেয়। এ সময় রাজু গিয়ে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে নুরুল ও জাকিরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাজুর বাড়িতে হামলা চালায়। ফুফাতো ভাইকে না পেয়ে হামলাকারীরা রাজুকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। তাকে রক্ষা করতে গেলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করা হয়। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ওই সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি ও তার বাবা নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। নুরুল ও জাকিরের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তিনি ও তার পরিবারের কোনো সদস্যের এ ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।’
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক বিরোধ, নাকি পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















