ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এসএসসি জানুয়ারিতে এইচএসসি এপ্রিলে করার পক্ষে মত গুলি করে ১৯ লাখ টাকা ছিনতাই: ‎জামায়াত এমপির ভাগ্নে কারাগারে এক মাস বয়সি শিশুকে টিকার পরিবর্তে দেওয়া হলো জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন ইমরান খান পারমাণবিক সুরক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা সংকট কাটলে টিকার বিষয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফিলিপাইনের সিনেটে গোলাগুলি, সিনেটরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে চীনকে গ্যারান্টর হিসেবে চায় ইরান চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প, স্বাগত জানালেন ভাইস প্রেসিডেন্ট

২০ লাখে লিবিয়া নিয়ে শরমিনকে বিক্রি, আরও ১৫ লাখ মুক্তিপণ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শরমিন মিয়া নামের এক যুবককে ইতালি পাঠানোর নাম করে প্রতারণা করেছে মানবপাচারকারী মানিক মিয়া। ২০ লাখ টাকার চুক্তিতে ওই যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

পরে যুবককে আটকে রেখে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। মুক্তিপণ দিতে অস্বীকার করলে তাকে শারীরিক নির্যাতন চালায় মানবপাচারকারী দালাল চক্রটি। পরে তার পরিবার মানবপাচারকারী চক্রের নিকট তাদের দাবির ১৫ লাখ টাকা পাঠায়। এরপরও তাকে ইতালি না পাঠিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেয়।

কয়েক দিন আগে দেশে এসে শরমিন মিয়া এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ আদালতে মানবপাচারকারী ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত ভৈরব থানাকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেনে।

ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ভৈরব থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান।

প্রতারণার শিকার যুবক শরমিন মিয়া জানান, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মানবপাচারকারী মানিক মিয়ার সহযোগী সামাদ লেংটা তাকে লিবিয়া হয়ে বৈধপথে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি পাঠানোর প্রস্তাব দেয়; কিন্তু তার কাছে নগদ ২০ লাখ টাকা না থাকায় ৬ শতাংশ জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলে সামাদ লেংটা বলেন, নগদ টাকা দেওয়ার দরকার নেই। জমি বিক্রি না করে মানবপাচারকারী মানিকের নামে লিখে দিলেই হবে। পরে ইতালি পাঠানোর আশ্বাসে দালাল মানিকের নামে গত ২৮ আগস্ট ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৬ শতাংশ জমি লিখে দেয়। পরে তাকে লিবিয়ায় পাঠায়। সেখানে নিয়ে তাকে মাফিয়া চক্রের কাছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় ঘটনার মূল হোতা মানবপাচারকারী মানিক মিয়া।

পরে তাকে লিবিয়ার অজ্ঞাত ও নির্জন বাসায় নিয়ে জিম্মি করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। মাফিয়া চক্রের নির্যাতন সইতে না পেরে সে বাড়িতে পরিবারকে ঘটনা জানায়। পরে তার পরিবার বাধ্য হয়ে ১৫ লাখ টাকা জোগাড় করে সামাদ লেংটাকে দিলে মাফিয়া চক্রটি তাকে ইতালি না পাঠিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে মানিক মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ভৈরব থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আদালতের অভিযোগটি আমি তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি। এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন পাঠাব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসি জানুয়ারিতে এইচএসসি এপ্রিলে করার পক্ষে মত

২০ লাখে লিবিয়া নিয়ে শরমিনকে বিক্রি, আরও ১৫ লাখ মুক্তিপণ

আপডেট সময় ০৯:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শরমিন মিয়া নামের এক যুবককে ইতালি পাঠানোর নাম করে প্রতারণা করেছে মানবপাচারকারী মানিক মিয়া। ২০ লাখ টাকার চুক্তিতে ওই যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

পরে যুবককে আটকে রেখে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। মুক্তিপণ দিতে অস্বীকার করলে তাকে শারীরিক নির্যাতন চালায় মানবপাচারকারী দালাল চক্রটি। পরে তার পরিবার মানবপাচারকারী চক্রের নিকট তাদের দাবির ১৫ লাখ টাকা পাঠায়। এরপরও তাকে ইতালি না পাঠিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেয়।

কয়েক দিন আগে দেশে এসে শরমিন মিয়া এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ আদালতে মানবপাচারকারী ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত ভৈরব থানাকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেনে।

ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ভৈরব থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান।

প্রতারণার শিকার যুবক শরমিন মিয়া জানান, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মানবপাচারকারী মানিক মিয়ার সহযোগী সামাদ লেংটা তাকে লিবিয়া হয়ে বৈধপথে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি পাঠানোর প্রস্তাব দেয়; কিন্তু তার কাছে নগদ ২০ লাখ টাকা না থাকায় ৬ শতাংশ জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলে সামাদ লেংটা বলেন, নগদ টাকা দেওয়ার দরকার নেই। জমি বিক্রি না করে মানবপাচারকারী মানিকের নামে লিখে দিলেই হবে। পরে ইতালি পাঠানোর আশ্বাসে দালাল মানিকের নামে গত ২৮ আগস্ট ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৬ শতাংশ জমি লিখে দেয়। পরে তাকে লিবিয়ায় পাঠায়। সেখানে নিয়ে তাকে মাফিয়া চক্রের কাছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় ঘটনার মূল হোতা মানবপাচারকারী মানিক মিয়া।

পরে তাকে লিবিয়ার অজ্ঞাত ও নির্জন বাসায় নিয়ে জিম্মি করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। মাফিয়া চক্রের নির্যাতন সইতে না পেরে সে বাড়িতে পরিবারকে ঘটনা জানায়। পরে তার পরিবার বাধ্য হয়ে ১৫ লাখ টাকা জোগাড় করে সামাদ লেংটাকে দিলে মাফিয়া চক্রটি তাকে ইতালি না পাঠিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে মানিক মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ভৈরব থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আদালতের অভিযোগটি আমি তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি। এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন পাঠাব।