ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ঘটনা সাজানো, মনে করেন প্রতি ৪ মার্কিন নাগরিকের একজন কারখানা চালু রাখতে সহায়তা চেয়েছে বিকেএমইএ অনিয়ম করলে শাস্তির হুঁশিয়ারি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ডিজির স্কুলে যাওয়ার কথা বলে একসঙ্গে ৪ ছাত্রী নিখোঁজ ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত হরমুজে ফের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ চালুর কথা ভাবছেন ট্রাম্প স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সরকার জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেবে : অর্থমন্ত্রী চালু হচ্ছে ‘ই-লোন’ সেবা, ঘরে বসেই মিলবে ব্যাংক ঋণ ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, বিজিবি সতর্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হৃদয়কে মননশীল করার জন্য রবীন্দ্রনাথকে বেশি বেশি অনুশীলন করতে হবে : রিজভী

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের বিক্ষোভ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট। সোমবার (১১ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে যান বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।

এসময় তারা ‘মা মাটি মোহনা, বিদেশীদের দিব না’, ‘মা মাটি মোহনা, মার্কিনিদের হবে না’, ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও, লড়াই করো’, ‘কমরেড কমরেড, গড়ে তোলো ব্যারিকেড’সহ নানা স্লোগান দেন।

মিছিলটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশি বাধার মুখে সড়কে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজীদ হায়দার চঞ্চল বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যিনি মার্কিনপন্থি উপদেষ্টা ছিলেন এবং যিনি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী মার্কিন চুক্তি বাস্তবায়ন করেছেন, সেই রজার খলিল কীভাবে এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন? তাহলে কি আমরা ধরে নেব বর্তমান সরকার আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতা করে ক্ষমতায় এসেছে? অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেশবিরোধী চুক্তির ধারাবাহিকতাই কি তারা বজায় রাখছে?

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কোনো ধরনের মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালালি চলবে না। ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ছাত্র ইউনিয়নের দুই নেতা শহীদ হয়েছিলেন। তাদের রক্তের শপথ নিয়ে বলছি, প্রয়োজনে আবার জীবন দেব, তবুও এই চুক্তি বাস্তবায়ন হতে দেব না।

চঞ্চল বলেন, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি ও শিল্পখাত ধ্বংসের মুখে পড়বে। আমাদের কৃষকদের লোকসান বাড়বে। আমেরিকা থেকে বাধ্যতামূলকভাবে গম, সার, তুলা ও কৃষিপণ্য আমদানি করতে হবে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়বে, পোশাক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং কৃষকরা ধ্বংসের মুখে পড়বেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করেই এই চুক্তি করা হয়েছে। সংসদে এ নিয়ে কেউ কথা বলছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে। জনগণের মতামত ছাড়াই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত কিংবা এনসিপি কেউই এই চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও মার্কিন স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে তাদের অবস্থান এক।

সালমান আরও বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি ও শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে বাংলাদেশকে বাধ্য করা হয়েছে। এটি কোনো সমান মর্যাদার চুক্তি নয়, এটা এক ধরনের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “চুক্তির বিষয়বস্তু সংসদে উপস্থাপন করতে হবে এবং তা বাতিল করতে হবে। অন্যথায় ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সমাবেশ শেষে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের নেতারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ঘটনা সাজানো, মনে করেন প্রতি ৪ মার্কিন নাগরিকের একজন

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের বিক্ষোভ

আপডেট সময় ১১:২০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট। সোমবার (১১ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে যান বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।

এসময় তারা ‘মা মাটি মোহনা, বিদেশীদের দিব না’, ‘মা মাটি মোহনা, মার্কিনিদের হবে না’, ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও, লড়াই করো’, ‘কমরেড কমরেড, গড়ে তোলো ব্যারিকেড’সহ নানা স্লোগান দেন।

মিছিলটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশি বাধার মুখে সড়কে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজীদ হায়দার চঞ্চল বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যিনি মার্কিনপন্থি উপদেষ্টা ছিলেন এবং যিনি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী মার্কিন চুক্তি বাস্তবায়ন করেছেন, সেই রজার খলিল কীভাবে এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন? তাহলে কি আমরা ধরে নেব বর্তমান সরকার আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতা করে ক্ষমতায় এসেছে? অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেশবিরোধী চুক্তির ধারাবাহিকতাই কি তারা বজায় রাখছে?

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কোনো ধরনের মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালালি চলবে না। ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ছাত্র ইউনিয়নের দুই নেতা শহীদ হয়েছিলেন। তাদের রক্তের শপথ নিয়ে বলছি, প্রয়োজনে আবার জীবন দেব, তবুও এই চুক্তি বাস্তবায়ন হতে দেব না।

চঞ্চল বলেন, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি ও শিল্পখাত ধ্বংসের মুখে পড়বে। আমাদের কৃষকদের লোকসান বাড়বে। আমেরিকা থেকে বাধ্যতামূলকভাবে গম, সার, তুলা ও কৃষিপণ্য আমদানি করতে হবে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়বে, পোশাক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং কৃষকরা ধ্বংসের মুখে পড়বেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করেই এই চুক্তি করা হয়েছে। সংসদে এ নিয়ে কেউ কথা বলছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে। জনগণের মতামত ছাড়াই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত কিংবা এনসিপি কেউই এই চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও মার্কিন স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে তাদের অবস্থান এক।

সালমান আরও বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি ও শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে বাংলাদেশকে বাধ্য করা হয়েছে। এটি কোনো সমান মর্যাদার চুক্তি নয়, এটা এক ধরনের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “চুক্তির বিষয়বস্তু সংসদে উপস্থাপন করতে হবে এবং তা বাতিল করতে হবে। অন্যথায় ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সমাবেশ শেষে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের নেতারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনের ঘোষণা দেন।