ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা চায় না ইরানের কট্টরপন্থিরা

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির প্রয়াণের পর তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তাকে পুঁজি করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এক অতি-রক্ষণশীল গোষ্ঠী। তাদের নাম ‘জেবহে-ই পায়দারি’, যাদের বিশ্ব এখন চেনে ‘সুপার রিভল্যুশনারি’ হিসেবে। তাদের একটাই দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো সমঝোতা নয় বরং ওয়াশিংটনকে পরাজিত করেই ছিনিয়ে আনতে হবে জয়।

ইরানের সাথে পশ্চিমা বিশ্বের আলোচনার কথা উঠতেই বজ্রপাতের মতো গর্জে ওঠে এই গোষ্ঠীটি। তারা বিশ্বাস করে, ইসরায়েল এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই কোনো সাময়িক বিষয় নয়, বরং এটি এক অনন্ত ধর্মীয় সংগ্রাম। রাজনৈতিক এই টানাপোড়েনে তারা এখন এতটাই শক্তিশালী যে খোদ ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকেও তারা ‘বিশ্বাসঘাতক’ বা ‘ভীরু’ বলতে দ্বিধা করছে না।

তেহরানের রাজপথ জুড়ে এখন তাদের হাজার হাজার সমর্থকের মিছিল, আর সেই মিছিলে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে ধ্বনি উঠছে সমঝোতার বিরুদ্ধে।

এই কট্টরপন্থীদের প্রভাব এখন শুধু বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সংসদ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান সাঈদ জলিলির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই গোষ্ঠীর নেপথ্যে শক্তি জোগাচ্ছেন।

সম্প্রতি ইরানের সাতজন সংসদ সদস্য সরাসরি আলোচনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সংসদীয় বিবৃতিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এমনকি তারা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক পরমাণু আলোচনাকেও তারা একটি ‘কৌশলগত ভুল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা চায় না ইরানের কট্টরপন্থিরা

আপডেট সময় ০৮:২৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির প্রয়াণের পর তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তাকে পুঁজি করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এক অতি-রক্ষণশীল গোষ্ঠী। তাদের নাম ‘জেবহে-ই পায়দারি’, যাদের বিশ্ব এখন চেনে ‘সুপার রিভল্যুশনারি’ হিসেবে। তাদের একটাই দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো সমঝোতা নয় বরং ওয়াশিংটনকে পরাজিত করেই ছিনিয়ে আনতে হবে জয়।

ইরানের সাথে পশ্চিমা বিশ্বের আলোচনার কথা উঠতেই বজ্রপাতের মতো গর্জে ওঠে এই গোষ্ঠীটি। তারা বিশ্বাস করে, ইসরায়েল এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই কোনো সাময়িক বিষয় নয়, বরং এটি এক অনন্ত ধর্মীয় সংগ্রাম। রাজনৈতিক এই টানাপোড়েনে তারা এখন এতটাই শক্তিশালী যে খোদ ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকেও তারা ‘বিশ্বাসঘাতক’ বা ‘ভীরু’ বলতে দ্বিধা করছে না।

তেহরানের রাজপথ জুড়ে এখন তাদের হাজার হাজার সমর্থকের মিছিল, আর সেই মিছিলে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে ধ্বনি উঠছে সমঝোতার বিরুদ্ধে।

এই কট্টরপন্থীদের প্রভাব এখন শুধু বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সংসদ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান সাঈদ জলিলির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই গোষ্ঠীর নেপথ্যে শক্তি জোগাচ্ছেন।

সম্প্রতি ইরানের সাতজন সংসদ সদস্য সরাসরি আলোচনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সংসদীয় বিবৃতিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এমনকি তারা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক পরমাণু আলোচনাকেও তারা একটি ‘কৌশলগত ভুল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।