আকাশ বিনোদন ডেস্ক :
বিদ্যা সিনহা মিম। চিত্রনায়িকা ও মডেল। সাম্প্রতিক সময়ে শুটিং করেছেন দুটি সিনেমার। কিছুদিন হলো একটি ওয়েব ফিল্মেরও কাজ শেষ করেছেন। তাঁর অভিনীত মালিক সিনেমা ঈদুল আজহায় মুক্তি পাচ্ছে বলে চর্চা চলছে। নতুন সিনেমা, সাম্প্রতিক কাজ ও ব্যস্ততার নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
সম্প্রতি এফডিসিতে বিশাল সেট বানিয়ে ‘মালিক’ সিনেমার আইটেম গানের শুটিং করলেন?
হ্যাঁ, এটি মালিক সিনেমার আইটেম গান। ঈদুল আজহায় মুক্তির লক্ষ্যে সিনেমাটি নির্মাণ করা হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে এফডিসিতে সিনেমাটির শেষ অংশের শুটিং করলাম। শেষ দিন করলাম আইটেম গানটির শুটিং। আমি আর শুভ ভাই দুজন অংশ নিয়েছিলাম শুটিংয়ে। এফডিসিতে বিশাল সেট বানিয়ে গানটির শুটিং করা হলো। দুই শতাধিক নৃত্যশিল্পী অংশ নিয়েছিলেন শুটিংয়ে। গানটি ফোক ধাঁচের। আদিত রহমানের মিউজিকে গানটি গেয়েছেন মিলা ও প্রতীক হাসান। সব মিলিয়ে দারুণ একটি পার্টি মুডের গান হয়েছে। দর্শকদের কাছে ভালো লাগবে।
আপনি আর শুভ ‘মালিক’ নামে একটি সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন। সিনেমাটির কিছুই এখনও অফিসিয়ালি জানাননি। কারণ কী?
বিষয়টি পরিচালক ও প্রযোজক ভালো বলতে পারবেন। তবে আমি যতটা জানি, পরিচালক সিনেমাটির সব কাজ গুছিয়ে নেওয়ার পর অফিসিয়ালি জানাতে চেয়েছেন। এখন যেহেতু শুটিং শেষ, পুরো সিনেমা গোছানো, এডিটিংয়ের কাজ চলছে। এখন হয়তো ধীরে ধীরে বিভিন্ন তথ্য অফিসিয়ালি জানাবেন।
গেল ঈদুল ফিতরে সিনেমাটি মুক্তি পাবে বলে চর্চা হচ্ছিল। মুক্তি পায়নি। এবার ঈদুল আজহায় আসবে তো?
এটিও কিন্তু আমি বলতে পারব না। এটিও নিশ্চিত করে প্রযোজক ও পরিচালক বলতে পারবেন। তবে আমার ধারণা, ঈদুল আজহায় সিনেমাটি মুক্তি পাবেই। গেল ঈদে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি শুটিং শেষ না হওয়ায়। ঈদের মতো বড় উৎসবে হুটহাট শুটিং শেষ না করে সময় নিয়ে শুটিং করে সিনেমা মুক্তি দেওয়াটা পরিচালকের বেটার সিদ্ধান্তই ছিল।
মালিক সিনেমার মাধ্যমে প্রায় চার বছর পর আরিফিন শুভর সঙ্গে জুটি হলেন। সিনেমায় আপনাদের রসায়নটা কেমন?
সিনেমাটির মাধ্যমে দর্শকরা আমাকে ও আরিফিন শুভকে অনেক দিন পর একসঙ্গে দেখতে পারবেন। সবশেষ আমরা সাপলুডু করেছিলাম। নতুন সিনেমায় আমাদের রসায়ন কেমন সেটি হলে গিয়েই সবাই দেখবেন আশা করি।
আপনি তো ‘লাইফ লাইন’ নামে একটি ওয়েব ফিল্মেও কাজ করেছেন। সেটির খবর কী
‘লাইফ লাইন’-এর শুটিং শেষ। ওয়েব ফিল্মের শুটিং করেছি কুয়াকাটায়। মনোরম লোকেশনে কাজ করেছি। অনেক নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। খুব ভালো একটি কাজ হয়েছে। ঈদের আগে কাজটি মুক্তি পেতে পারে।
হঠাৎ করে ওয়েব ফিল্মে কাজ করলেন কী মনে করে?
‘লাইফ লাইন’ মূলত একটি নারীর জীবনযাপনের গল্প। সিনেমায় একজন মেয়ের জার্নি দেখানো হয়েছে। অভিনয়ভিত্তিক সিনেমা এটি। এতে আমার অভিনয় দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পেয়েছি। গল্পটি অসাধারণ লেগেছে আমার কাছে। এই ওয়েব ফিল্মটি দর্শকদের ভালো লাগবে। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দর্শকরা আমাকে দেখতে পাবে।
আর কী কী কাজ করছেন?
দেখতে দেখতে তো তিনটা কাজ করে ফেললাম। ‘মালিক’ সিনেমা ও ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফ লাইন’ ছাড়াও ‘জীবন অপেরা’ নামে নতুন একটি সিনেমার শুটিং করছি। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন আলভী আহমেদ। ইতোমধ্যে এ সিনেমাটিরও শুটিং প্রায় শেষ। এতে আমি আর শরিফুল রাজ জুটি হয়ে কাজ করছি। এই সিনেমার গল্পটাও ইন্টারেস্টিং। গল্পে দেখানো হবে প্যারালাল ইউনিভার্সে চলা এক ব্যক্তির দুটি জীবন–এক জীবনে ব্যর্থ প্রেমিক, অন্য জীবনে সুখী দাম্পত্যের সঙ্গী।
মাঝে অভিনয়ে বিরতি ছিল আপনার। বিরতি ভাঙতেই তিনটা কাজ করে ফেললেন?
মাঝে কিছু সময় আমার বিরতি ছিল। এর মধ্যে আমি শুধু গল্প দেখেছি। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, এই গল্পগুলো আমার জন্য নয়। তাই কাজ হয়নি। আমি ইচ্ছে করলেই পরাণের পর ১০-১৫টা সিনেমা করে ফেলতে পারতাম। সেগুলো ততটা মানের হতো না। তাই ভালো কাজের অপেক্ষা করেছি।
বলা হয় আপনি বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডরের দায়িত্ব পালন করছেন। সত্যি কি?
সত্য-মিথ্যা বলতে পারব না। অভিনয় ছাড়াও আমি বছরজুড়েই ব্র্যান্ডিংয়ে কাজ করি। টিভিসির শুটিং তো নিয়মিতই করা হয়। বাংলাদেশের শীর্ষ ১২টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডরের দায়িত্ব পালন করছি আমি। সব ব্র্যান্ডই এক ক্যাটেগরির।
মিডিয়া অঙ্গনের সাফল্যের পর টিকে থাকাটাও বেশ পরীক্ষার। এই পরীক্ষা আপনি কীভাবে উতরে যাচ্ছেন…
আমিও মনে করি, সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর চেয়ে সেখানে স্থির থাকাটাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। তাই স্থির থাকতে সময়ের কাজটা সময়েই করতে হবে। কখনও আমি হাল ছাড়ি না। এটা এমন একটা প্ল্যাটফর্ম যে জায়গাটা সাকসেস হতেও অনেক কষ্ট করতে হয়, সাকসেস হওয়ার পর আরও বেশি কষ্ট করতে হয়। সেটি ধরে রাখতে। আমি ধৈর্য ও ডিসিপ্লিন মেইনটেইন করে চলা মানুষ।
এই যে এত কাজ করছেন, কাজের ফাঁকে বেশি ঘুরেও বেড়াচ্ছেন। যদি জানতে চাই আপনার কাছে জীবনের সার্থকতা কী
আমি মনে করি, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আনন্দের। বেঁচে থাকাটাই আনন্দের। জীবনে আমি আনন্দ খুঁজি। সেটি কাজের মধ্যেও হতে পারে, ঘোরাঘুরি কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর মধ্যেও হতে পারে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























