ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কিছুক্ষণ শোক আলোচনা প্রতিবাদ তারপর সব আগের মতো

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

অপঘাতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও প্রশ্ন তুলেছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার প্রসঙ্গ টেনে মানুষের জীবনের মূল্য নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শবনম ফারিয়া লিখেছেন, আমাদের দেশে অপঘাতে মৃত্যুর খবরগুলো আমরা কেমন যেন ধীরে ধীরে ‘নিউ নর্মাল’ হিসেবে নিতে শিখে গেছি। কিছুক্ষণ শোক, কিছুক্ষণ আলোচনা, কিছু প্রতিবাদ, তারপর আবার সব আগের মতো।

তিনি লেখেন, সরকার বদলায়, আন্দোলন হয়, অনশন হয়, দেয়ালে পোস্টার লাগে… কিন্তু মানুষের জীবনের মূল্য যেন একই জায়গায় আটকে থাকে।

তারপর কোনো তারকার বিয়ে, কারো বিচ্ছেদ, কেউ উটের দুধ দিয়ে গোসল করলো, কেউ আম/চানাচুর খেল, এসব নতুন আলোচনায় আমরা ডুবে যাই, আর একেকটা অসমাপ্ত জীবন, একেকটা ভেঙে যাওয়া পরিবারকে ভুলে যাই।

তিনি নিজেও হয়তো এর বাইরে না উল্লেখ করে অভিনেত্রী লেখেন, কিন্তু কেন জানি গতকাল থেকে বুলেট বৈরাগীর স্ত্রীর মুখটা মাথা থেকে সরাতে পারছি না। কী মায়াবী একটা মেয়ে… নতুন মা। ওর চোখের দিকে তাকালেই বুকটা হাহাকার করে ওঠে। ভাবি, ওর জায়গায় আমি হতে পারতাম, আপনি হতে পারতেন, আমার বোন বা ভাবি, যে কেউ হতে পারতো।

এক মুহূর্তে জীবন ওলটপালট হয়ে গেল। যে মানুষটা ছিল ভালোবাসা, ভরসা, ভবিষ্যৎ, সে আজ শুধু স্মৃতি। নিজের বুকভাঙা কষ্ট সামলানোর আগেই এখন তাকে সন্তানের দায়িত্ব নিতে হবে, শ্বশুর-শাশুড়ির দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ তাদেরও একমাত্র সন্তান ছিলেন বুলেট বৈরাগী।

জীবন কতটা নির্মম, কতটা অনিশ্চিত! সকালে যে মানুষ ঘর থেকে বের হয়, সন্ধ্যায় সে ফিরবে এই নিশ্চয়তাটুকুও আজ নেই। শুধু সরকার পরিবর্তন হলে হবে না। যদি মানুষের নিরাপত্তা না বদলায়, যদি রাস্তায় বের হয়ে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা না থাকে তাহলে আমাদের কিছুই বদলায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

কিছুক্ষণ শোক আলোচনা প্রতিবাদ তারপর সব আগের মতো

আপডেট সময় ০২:১১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

অপঘাতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও প্রশ্ন তুলেছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার প্রসঙ্গ টেনে মানুষের জীবনের মূল্য নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শবনম ফারিয়া লিখেছেন, আমাদের দেশে অপঘাতে মৃত্যুর খবরগুলো আমরা কেমন যেন ধীরে ধীরে ‘নিউ নর্মাল’ হিসেবে নিতে শিখে গেছি। কিছুক্ষণ শোক, কিছুক্ষণ আলোচনা, কিছু প্রতিবাদ, তারপর আবার সব আগের মতো।

তিনি লেখেন, সরকার বদলায়, আন্দোলন হয়, অনশন হয়, দেয়ালে পোস্টার লাগে… কিন্তু মানুষের জীবনের মূল্য যেন একই জায়গায় আটকে থাকে।

তারপর কোনো তারকার বিয়ে, কারো বিচ্ছেদ, কেউ উটের দুধ দিয়ে গোসল করলো, কেউ আম/চানাচুর খেল, এসব নতুন আলোচনায় আমরা ডুবে যাই, আর একেকটা অসমাপ্ত জীবন, একেকটা ভেঙে যাওয়া পরিবারকে ভুলে যাই।

তিনি নিজেও হয়তো এর বাইরে না উল্লেখ করে অভিনেত্রী লেখেন, কিন্তু কেন জানি গতকাল থেকে বুলেট বৈরাগীর স্ত্রীর মুখটা মাথা থেকে সরাতে পারছি না। কী মায়াবী একটা মেয়ে… নতুন মা। ওর চোখের দিকে তাকালেই বুকটা হাহাকার করে ওঠে। ভাবি, ওর জায়গায় আমি হতে পারতাম, আপনি হতে পারতেন, আমার বোন বা ভাবি, যে কেউ হতে পারতো।

এক মুহূর্তে জীবন ওলটপালট হয়ে গেল। যে মানুষটা ছিল ভালোবাসা, ভরসা, ভবিষ্যৎ, সে আজ শুধু স্মৃতি। নিজের বুকভাঙা কষ্ট সামলানোর আগেই এখন তাকে সন্তানের দায়িত্ব নিতে হবে, শ্বশুর-শাশুড়ির দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ তাদেরও একমাত্র সন্তান ছিলেন বুলেট বৈরাগী।

জীবন কতটা নির্মম, কতটা অনিশ্চিত! সকালে যে মানুষ ঘর থেকে বের হয়, সন্ধ্যায় সে ফিরবে এই নিশ্চয়তাটুকুও আজ নেই। শুধু সরকার পরিবর্তন হলে হবে না। যদি মানুষের নিরাপত্তা না বদলায়, যদি রাস্তায় বের হয়ে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা না থাকে তাহলে আমাদের কিছুই বদলায়নি।