ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত: শাহবাজ শরিফ আধিপত্য ও হাট ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বে টিটনকে গুলি করে হত্যা : ডিবি দেশে কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি সংসদে তুললেন জামায়াতের এমপি লন্ডনে ২ ইহুদিকে ছুরিকাঘাত, অবস্থা গুরুতর আশুলিয়ায় স্বামীর মাথা ফাটিয়ে স্ত্রীর কান ছিঁড়ে স্বর্ণালংকার নিয়ে গেল ডাকাতরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে: সেতুমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করি না, ধারণ করি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব সরকারি দলের

কিছুক্ষণ শোক আলোচনা প্রতিবাদ তারপর সব আগের মতো

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

অপঘাতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও প্রশ্ন তুলেছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার প্রসঙ্গ টেনে মানুষের জীবনের মূল্য নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শবনম ফারিয়া লিখেছেন, আমাদের দেশে অপঘাতে মৃত্যুর খবরগুলো আমরা কেমন যেন ধীরে ধীরে ‘নিউ নর্মাল’ হিসেবে নিতে শিখে গেছি। কিছুক্ষণ শোক, কিছুক্ষণ আলোচনা, কিছু প্রতিবাদ, তারপর আবার সব আগের মতো।

তিনি লেখেন, সরকার বদলায়, আন্দোলন হয়, অনশন হয়, দেয়ালে পোস্টার লাগে… কিন্তু মানুষের জীবনের মূল্য যেন একই জায়গায় আটকে থাকে।

তারপর কোনো তারকার বিয়ে, কারো বিচ্ছেদ, কেউ উটের দুধ দিয়ে গোসল করলো, কেউ আম/চানাচুর খেল, এসব নতুন আলোচনায় আমরা ডুবে যাই, আর একেকটা অসমাপ্ত জীবন, একেকটা ভেঙে যাওয়া পরিবারকে ভুলে যাই।

তিনি নিজেও হয়তো এর বাইরে না উল্লেখ করে অভিনেত্রী লেখেন, কিন্তু কেন জানি গতকাল থেকে বুলেট বৈরাগীর স্ত্রীর মুখটা মাথা থেকে সরাতে পারছি না। কী মায়াবী একটা মেয়ে… নতুন মা। ওর চোখের দিকে তাকালেই বুকটা হাহাকার করে ওঠে। ভাবি, ওর জায়গায় আমি হতে পারতাম, আপনি হতে পারতেন, আমার বোন বা ভাবি, যে কেউ হতে পারতো।

এক মুহূর্তে জীবন ওলটপালট হয়ে গেল। যে মানুষটা ছিল ভালোবাসা, ভরসা, ভবিষ্যৎ, সে আজ শুধু স্মৃতি। নিজের বুকভাঙা কষ্ট সামলানোর আগেই এখন তাকে সন্তানের দায়িত্ব নিতে হবে, শ্বশুর-শাশুড়ির দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ তাদেরও একমাত্র সন্তান ছিলেন বুলেট বৈরাগী।

জীবন কতটা নির্মম, কতটা অনিশ্চিত! সকালে যে মানুষ ঘর থেকে বের হয়, সন্ধ্যায় সে ফিরবে এই নিশ্চয়তাটুকুও আজ নেই। শুধু সরকার পরিবর্তন হলে হবে না। যদি মানুষের নিরাপত্তা না বদলায়, যদি রাস্তায় বের হয়ে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা না থাকে তাহলে আমাদের কিছুই বদলায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চাঁদে স্থায়ী মানব উপস্থিতি গড়তে জোর দিচ্ছে মহাকাশ সংস্থাগুলো

কিছুক্ষণ শোক আলোচনা প্রতিবাদ তারপর সব আগের মতো

আপডেট সময় ০২:১১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

অপঘাতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও প্রশ্ন তুলেছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার প্রসঙ্গ টেনে মানুষের জীবনের মূল্য নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শবনম ফারিয়া লিখেছেন, আমাদের দেশে অপঘাতে মৃত্যুর খবরগুলো আমরা কেমন যেন ধীরে ধীরে ‘নিউ নর্মাল’ হিসেবে নিতে শিখে গেছি। কিছুক্ষণ শোক, কিছুক্ষণ আলোচনা, কিছু প্রতিবাদ, তারপর আবার সব আগের মতো।

তিনি লেখেন, সরকার বদলায়, আন্দোলন হয়, অনশন হয়, দেয়ালে পোস্টার লাগে… কিন্তু মানুষের জীবনের মূল্য যেন একই জায়গায় আটকে থাকে।

তারপর কোনো তারকার বিয়ে, কারো বিচ্ছেদ, কেউ উটের দুধ দিয়ে গোসল করলো, কেউ আম/চানাচুর খেল, এসব নতুন আলোচনায় আমরা ডুবে যাই, আর একেকটা অসমাপ্ত জীবন, একেকটা ভেঙে যাওয়া পরিবারকে ভুলে যাই।

তিনি নিজেও হয়তো এর বাইরে না উল্লেখ করে অভিনেত্রী লেখেন, কিন্তু কেন জানি গতকাল থেকে বুলেট বৈরাগীর স্ত্রীর মুখটা মাথা থেকে সরাতে পারছি না। কী মায়াবী একটা মেয়ে… নতুন মা। ওর চোখের দিকে তাকালেই বুকটা হাহাকার করে ওঠে। ভাবি, ওর জায়গায় আমি হতে পারতাম, আপনি হতে পারতেন, আমার বোন বা ভাবি, যে কেউ হতে পারতো।

এক মুহূর্তে জীবন ওলটপালট হয়ে গেল। যে মানুষটা ছিল ভালোবাসা, ভরসা, ভবিষ্যৎ, সে আজ শুধু স্মৃতি। নিজের বুকভাঙা কষ্ট সামলানোর আগেই এখন তাকে সন্তানের দায়িত্ব নিতে হবে, শ্বশুর-শাশুড়ির দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ তাদেরও একমাত্র সন্তান ছিলেন বুলেট বৈরাগী।

জীবন কতটা নির্মম, কতটা অনিশ্চিত! সকালে যে মানুষ ঘর থেকে বের হয়, সন্ধ্যায় সে ফিরবে এই নিশ্চয়তাটুকুও আজ নেই। শুধু সরকার পরিবর্তন হলে হবে না। যদি মানুষের নিরাপত্তা না বদলায়, যদি রাস্তায় বের হয়ে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা না থাকে তাহলে আমাদের কিছুই বদলায়নি।