ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বর্তমানে জামায়াতের কথাবার্তা শুনলে মন খারাপ হয়’: সরদার সরফুদ্দিন যার ডাকে এতদিন আন্দোলন করেছি সেদিন তিনিই আমাকে তাড়িয়ে দিলেন: ইসহাক সরকার আগুন নিয়ে খেলবেন না: হিজবুল্লাহকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করলেন ইইউ’র প্রধান পর্যবেক্ষক মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য রাশিয়া সাধ্যের মধ্যে সবকিছু করবে: পুতিন ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প ভুল সংশোধনীর মাধ্যমে জোরদার হবে: অর্থমন্ত্রী হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জামায়াত কর্মীকে হত্যা সংসদে শক্ত প্রভাবের চেষ্টায় এনসিপি, দুর্বল জামায়াত: রুমিন ফারহানা আমেরিকা অপমানিত, ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: জার্মানি ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি চায় না শিক্ষার্থীরা : হুইপ বকুল

আমেরিকা অপমানিত, ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: জার্মানি

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং কার্যত ‘অপমানিত’ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত থেকে বের হওয়ার কোনও স্পষ্ট পথ এখনো ওয়াশিংটনের সামনে নেই, বরং তেহরান পরিস্থিতিতে প্রাধান্য পাচ্ছে।

সোমবার জার্মানির মার্সবার্গ শহরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্যে মের্ৎস বলেন, এ ধরনের সংঘাতে শুধু প্রবেশ করাই নয়, সেখান থেকে বের হওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ।

এ সময় তিনি আফগানিস্তান ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক জড়িত থাকার উদাহরণ টেনে বলেন, “আমরা দেখেছি—২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে কী হয়েছে, ইরাকেও একই অভিজ্ঞতা।”

মের্ৎসের ভাষায়, ইরানি নেতারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন এবং ‘ধারণার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী’ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ভূমিকার কারণে ‘একটি পুরো জাতিকে ইরানি নেতৃত্বের কাছে অপমানিত হতে হচ্ছে।’

তিনি দ্রুত যুদ্ধের অবসানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর প্রভাব ইতোমধ্যেই জার্মানির অর্থনীতিতে পড়ছে।

“বর্তমান পরিস্থিতি জটিল এবং এতে আমাদের বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ আমাদের অর্থনৈতিক উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে,” বলেন মের্ৎস।

জার্মান চ্যান্সেলর আরও জানান, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীতে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বার্লিন প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতির ওপর।

এদিকে ইউরোপজুড়ে এই সংঘাতের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দেশে।

এর আগে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ভাদেফুল সতর্ক করে বলেন, পারমাণবিক হুমকি এখনও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিবেশকে প্রভাবিত করছে।

জাতিসংঘে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি (এনপিটি) সংক্রান্ত বৈঠকের আগে তিনি বলেন, “আমাদের এবং আমাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হুমকি যতদিন থাকবে, ততদিন একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রয়োজন।”

ইরান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে ইউরোপে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে ফ্রান্স ও জার্মানি সম্প্রতি পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদারে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বর্তমানে জামায়াতের কথাবার্তা শুনলে মন খারাপ হয়’: সরদার সরফুদ্দিন

আমেরিকা অপমানিত, ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: জার্মানি

আপডেট সময় ০৯:০৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং কার্যত ‘অপমানিত’ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত থেকে বের হওয়ার কোনও স্পষ্ট পথ এখনো ওয়াশিংটনের সামনে নেই, বরং তেহরান পরিস্থিতিতে প্রাধান্য পাচ্ছে।

সোমবার জার্মানির মার্সবার্গ শহরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্যে মের্ৎস বলেন, এ ধরনের সংঘাতে শুধু প্রবেশ করাই নয়, সেখান থেকে বের হওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ।

এ সময় তিনি আফগানিস্তান ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক জড়িত থাকার উদাহরণ টেনে বলেন, “আমরা দেখেছি—২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে কী হয়েছে, ইরাকেও একই অভিজ্ঞতা।”

মের্ৎসের ভাষায়, ইরানি নেতারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন এবং ‘ধারণার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী’ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ভূমিকার কারণে ‘একটি পুরো জাতিকে ইরানি নেতৃত্বের কাছে অপমানিত হতে হচ্ছে।’

তিনি দ্রুত যুদ্ধের অবসানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর প্রভাব ইতোমধ্যেই জার্মানির অর্থনীতিতে পড়ছে।

“বর্তমান পরিস্থিতি জটিল এবং এতে আমাদের বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ আমাদের অর্থনৈতিক উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে,” বলেন মের্ৎস।

জার্মান চ্যান্সেলর আরও জানান, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীতে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বার্লিন প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতির ওপর।

এদিকে ইউরোপজুড়ে এই সংঘাতের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দেশে।

এর আগে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ভাদেফুল সতর্ক করে বলেন, পারমাণবিক হুমকি এখনও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিবেশকে প্রভাবিত করছে।

জাতিসংঘে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি (এনপিটি) সংক্রান্ত বৈঠকের আগে তিনি বলেন, “আমাদের এবং আমাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হুমকি যতদিন থাকবে, ততদিন একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রয়োজন।”

ইরান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে ইউরোপে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে ফ্রান্স ও জার্মানি সম্প্রতি পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদারে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।