ঢাকা ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

শুধু অর্থ উপার্জনই জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না: তৌকীর আহমেদ

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

জীবনের ষাট বছর অতিক্রম করলেন বিশিষ্ট অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকীর আহমেদ। এ উপলক্ষে রোববার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘ছয় দশক পেরিয়ে তৌকীর আহমেদ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে মধ্যমণি ছিলেন তৌকির আহমেদ।

এসময় তৌকির আহমেদ বলেন, ‘জীবন আসলে সময় পার করার এক ধরনের খেলা। আর সেই খেলা অর্থবহ করে তোলে সৃষ্টিশীলতা। মানুষ নানা উপায়ে সময় কাটায়—খেলা দেখে, গান শুনে, চলচ্চিত্র দেখে কিংবা অলসতায়। তবে সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত হতে পারলে সময় পার করার এই খেলাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।’

প্রায় সাড়ে চার দশকের ক্যারিয়ারে মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনয়ের বাইরে সাতটি চলচ্চিত্র ও চারটি মঞ্চনাটক নির্দেশনা দিয়েছেন তৌকীর আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘শুধু অর্থ উপার্জনই জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না। আমি জানি, অর্থ খুবই দরকারি। কিন্তু আমরা যদি সেই সৃজনশীলতার জায়গায় চর্চা করার অধিকার না পাই, সুযোগ না পাই, তাহলে সেটা খুব দুঃখজনক। এই ৭টি চলচ্চিত্র ১৪টি হতে পারত। ৪টি নাটক ১৬টি হতে পারত। কিন্তু না, শিল্পী স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না। রাষ্ট্র, অর্থনীতি, সমাজ—সবকিছুই তাঁকে অনেক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করে।’

‘অজ্ঞাতনামা’, ‘হালদা’র মতো সিনেমার নির্মাতা তৌকীরের ভাষ্য, ‘আমি জানি, বাণিজ্যিক ছবি বানালে হয়তো সেটা বেশি চলবে, বেশি উপার্জন হবে। কিন্তু আমি চাই, আমার অধিকারটা থাকুক। আমি যেন আমার মতো ছবিটি বানাতে পারি। আরেকজন যদি অন্যভাবে বানাতে চায়, সেটাও যেন তার অধিকার থাকে। এবং সমাজকে বা রাষ্ট্রকে সেই ক্ষেত্রটি অবারিত করতে হবে। না হলে তো একই ধরনের কাজ হবে। কিন্তু সব কাজ তো একরকম হবে না। বিভিন্ন ধরনের কাজ হবে।’

বর্তমান সমাজের অস্থিরতা ও মানসিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই অভিনেতা বলেন, মানুষের মানসিক সুস্থতার জন্য শিল্প-সংস্কৃতি অপরিহার্য। নাটক, গান, চিত্রশিল্প কিংবা যেকোনো সৃজনশীল চর্চা মানুষকে কঠিন বাস্তবতা থেকে কিছুটা মুক্তি দেয়।

অভিনেতা বলেন, ‘আজকের অস্থির সমাজে আমরা সবাই যেন কাউকে সম্মান করছি না, আমরা যেন ‘টক্সিক’ হয়ে উঠছি। সেই জায়গাটি থেকে আমাদের শিল্পীদের প্রতিবাদ করা উচিত, আমাদের বলা উচিত। কারণ মানুষের সুকুমার বৃত্তিই তাকে এই কঠিন পৃথিবী থেকে রক্ষা করতে পারে।’

অনুষ্ঠানে তৌকীর আহমেদকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ, আবুল হায়াত, আফজাল হোসেন, মাহফুজ আহমেদ, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, আজীজুল হাকিমসহ শোবিজ অঙ্গনের তারকারা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিরাইয়ে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ বন্ধের প্রতিবাদে সোচ্চার মহিলা ক্রীড়া

শুধু অর্থ উপার্জনই জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না: তৌকীর আহমেদ

আপডেট সময় ০৩:১৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

জীবনের ষাট বছর অতিক্রম করলেন বিশিষ্ট অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকীর আহমেদ। এ উপলক্ষে রোববার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘ছয় দশক পেরিয়ে তৌকীর আহমেদ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে মধ্যমণি ছিলেন তৌকির আহমেদ।

এসময় তৌকির আহমেদ বলেন, ‘জীবন আসলে সময় পার করার এক ধরনের খেলা। আর সেই খেলা অর্থবহ করে তোলে সৃষ্টিশীলতা। মানুষ নানা উপায়ে সময় কাটায়—খেলা দেখে, গান শুনে, চলচ্চিত্র দেখে কিংবা অলসতায়। তবে সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত হতে পারলে সময় পার করার এই খেলাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।’

প্রায় সাড়ে চার দশকের ক্যারিয়ারে মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনয়ের বাইরে সাতটি চলচ্চিত্র ও চারটি মঞ্চনাটক নির্দেশনা দিয়েছেন তৌকীর আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘শুধু অর্থ উপার্জনই জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না। আমি জানি, অর্থ খুবই দরকারি। কিন্তু আমরা যদি সেই সৃজনশীলতার জায়গায় চর্চা করার অধিকার না পাই, সুযোগ না পাই, তাহলে সেটা খুব দুঃখজনক। এই ৭টি চলচ্চিত্র ১৪টি হতে পারত। ৪টি নাটক ১৬টি হতে পারত। কিন্তু না, শিল্পী স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না। রাষ্ট্র, অর্থনীতি, সমাজ—সবকিছুই তাঁকে অনেক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করে।’

‘অজ্ঞাতনামা’, ‘হালদা’র মতো সিনেমার নির্মাতা তৌকীরের ভাষ্য, ‘আমি জানি, বাণিজ্যিক ছবি বানালে হয়তো সেটা বেশি চলবে, বেশি উপার্জন হবে। কিন্তু আমি চাই, আমার অধিকারটা থাকুক। আমি যেন আমার মতো ছবিটি বানাতে পারি। আরেকজন যদি অন্যভাবে বানাতে চায়, সেটাও যেন তার অধিকার থাকে। এবং সমাজকে বা রাষ্ট্রকে সেই ক্ষেত্রটি অবারিত করতে হবে। না হলে তো একই ধরনের কাজ হবে। কিন্তু সব কাজ তো একরকম হবে না। বিভিন্ন ধরনের কাজ হবে।’

বর্তমান সমাজের অস্থিরতা ও মানসিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই অভিনেতা বলেন, মানুষের মানসিক সুস্থতার জন্য শিল্প-সংস্কৃতি অপরিহার্য। নাটক, গান, চিত্রশিল্প কিংবা যেকোনো সৃজনশীল চর্চা মানুষকে কঠিন বাস্তবতা থেকে কিছুটা মুক্তি দেয়।

অভিনেতা বলেন, ‘আজকের অস্থির সমাজে আমরা সবাই যেন কাউকে সম্মান করছি না, আমরা যেন ‘টক্সিক’ হয়ে উঠছি। সেই জায়গাটি থেকে আমাদের শিল্পীদের প্রতিবাদ করা উচিত, আমাদের বলা উচিত। কারণ মানুষের সুকুমার বৃত্তিই তাকে এই কঠিন পৃথিবী থেকে রক্ষা করতে পারে।’

অনুষ্ঠানে তৌকীর আহমেদকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ, আবুল হায়াত, আফজাল হোসেন, মাহফুজ আহমেদ, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, আজীজুল হাকিমসহ শোবিজ অঙ্গনের তারকারা।