ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘পেপ্যাল’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আমরা ভালো হয়ে গেলে দেশও ভালো হয়ে যাবে: শফিকুর রহমান ২৫ এপ্রিল ঢাকায় সমাবেশের ডাক দিল জামায়াত হান্নান মাসউদ, আপনি সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন নাকি: স্পিকার ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলতে দেওয়া হবে না: ছাত্রদল সম্পাদক নাছির ডিআইজিসহ ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেফতার, ৩ দিনের রিমান্ডে কর জরিপের একটা বড় প্রজেক্ট নিতে চাই: এনবিআর চেয়ারম্যান গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

মুজিবনগর দিবস কারো একার না: কাদের সিদ্দিকী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, মুজিবনগর দিবস কারো একার না, কোনো দলের একার না। মুজিবনগর দিবস সব দলের, মতের ও পথের। এমনকি মুজিবনগর দিবস বর্তমান সরকারের, এমনকি মুজিবনগর দিবস বর্তমান যে বিরোধী দল আছে তাদেরও। মুজিবনগর দিবস তারা পালন করুক, আর না করুক।

টাঙ্গাইলের সখীপুরে কাদের সিদ্দিকীর নিজ বাসভবনে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, মুজিবনগর সরকার গঠন না হলে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনতে পারতাম না। সেজন্য স্পষ্ট করে বলতে চাই- যে কারো এটা মনে করার কোনো কারণ নাই যে, মুজিবনগর দিবস আমাদের না তাদের; আমাদের না ওদের। মুজিবনগর দিবস আওয়ামী লীগ, বিএনপির না।

তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি সত্য; কিন্তু আমরা কখনো স্বাধীনতাকে উপলব্ধি করতে পারি নাই। স্বাধীনতা কোনো দলের না, মতের না, স্বাধীনতা সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বাংলাদেশের। যে যে দলই করুক, সব দলের মানুষের হচ্ছে বাংলাদেশ, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ। আমরা কখনো সার্বিকভাবে এটাকে আমরা গ্রহণ করতে পারি নাই, সর্বক্ষেত্রে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ করেছিলাম মানুষের সেবা করার জন্য, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, মানুষের পাহারাদার হওয়ার জন্য। বঙ্গবন্ধুর কোনো চিন্তা-চেতনা, ভাবনা-আদর্শের সঙ্গে আমাদের কোনো দূরত্ব নেই। আমার দল বঙ্গবন্ধুর দল। আমার দল মওলানা ভাসানীর দল। আমি সেই আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলাম, যে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু বানিয়েছিলেন, যে আওয়ামী লীগ মওলানা ভাসানী বানিয়েছিলেন।

বর্ষীয়ান এই নেতা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এক দিনের না। ৫২ তে ভাষা আন্দোলন না হলে, ৬ দফা আন্দোলন হতো না। ৬ দফা আন্দোলন না হলে, ১১ দফা আন্দোলন হতো না। ১১ দফা আন্দোলন না হলে, শেখ মুজিবের মুক্তি হতো না। তাকে ফাঁসি দেওয়া হতো। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তাকে ফাঁসি দেওয়া হতো। ১১ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা মুক্তি পেয়েছিলাম বলেই, বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানিরা ফাঁসি দিতে পারে নাই। ৬৯-এর গণআন্দোলনের মধ্যদিয়ে ৭০-এ যে নির্বাচন হয়েছিল, সেই নির্বাচনে বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের) প্রায় ৯০-৯৫ ভাগ মানুষ বঙ্গবন্ধুকে সমর্থন করেছিলেন। তার নৌকাকে সমর্থন করেছিলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমি প্রায় ২০ বছর পরে দেখলাম, তাকে আমার খুব ভাল লেগেছে। আমি সামনাসামনি খালেদা জিয়ার অনেক বক্তব্য শুনেছি। কিন্তু তারেক রহমানের বক্তব্য কালকেই প্রথম শুনলাম, আমার ভাল লেগেছে। তার বক্তব্যে শালীনতা আছে, তার বক্তব্যে গভীরতা আছে, জাতীয় ঐক্যের একটা আকাঙ্ক্ষা আছে। সেজন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে এসেছি।

এ আলোচনা সভায় সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুস ছবুর খানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলটির উপজেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিক জাহাঙ্গীর, আব্বাছ আলী মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন সিদ্দিকী, ডা. জাবেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্কেল আলি মাস্টার, ছাত্রনেতা শেখ সাদী প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী

মুজিবনগর দিবস কারো একার না: কাদের সিদ্দিকী

আপডেট সময় ১০:১৫:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, মুজিবনগর দিবস কারো একার না, কোনো দলের একার না। মুজিবনগর দিবস সব দলের, মতের ও পথের। এমনকি মুজিবনগর দিবস বর্তমান সরকারের, এমনকি মুজিবনগর দিবস বর্তমান যে বিরোধী দল আছে তাদেরও। মুজিবনগর দিবস তারা পালন করুক, আর না করুক।

টাঙ্গাইলের সখীপুরে কাদের সিদ্দিকীর নিজ বাসভবনে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, মুজিবনগর সরকার গঠন না হলে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনতে পারতাম না। সেজন্য স্পষ্ট করে বলতে চাই- যে কারো এটা মনে করার কোনো কারণ নাই যে, মুজিবনগর দিবস আমাদের না তাদের; আমাদের না ওদের। মুজিবনগর দিবস আওয়ামী লীগ, বিএনপির না।

তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি সত্য; কিন্তু আমরা কখনো স্বাধীনতাকে উপলব্ধি করতে পারি নাই। স্বাধীনতা কোনো দলের না, মতের না, স্বাধীনতা সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বাংলাদেশের। যে যে দলই করুক, সব দলের মানুষের হচ্ছে বাংলাদেশ, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ। আমরা কখনো সার্বিকভাবে এটাকে আমরা গ্রহণ করতে পারি নাই, সর্বক্ষেত্রে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ করেছিলাম মানুষের সেবা করার জন্য, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, মানুষের পাহারাদার হওয়ার জন্য। বঙ্গবন্ধুর কোনো চিন্তা-চেতনা, ভাবনা-আদর্শের সঙ্গে আমাদের কোনো দূরত্ব নেই। আমার দল বঙ্গবন্ধুর দল। আমার দল মওলানা ভাসানীর দল। আমি সেই আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলাম, যে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু বানিয়েছিলেন, যে আওয়ামী লীগ মওলানা ভাসানী বানিয়েছিলেন।

বর্ষীয়ান এই নেতা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এক দিনের না। ৫২ তে ভাষা আন্দোলন না হলে, ৬ দফা আন্দোলন হতো না। ৬ দফা আন্দোলন না হলে, ১১ দফা আন্দোলন হতো না। ১১ দফা আন্দোলন না হলে, শেখ মুজিবের মুক্তি হতো না। তাকে ফাঁসি দেওয়া হতো। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তাকে ফাঁসি দেওয়া হতো। ১১ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা মুক্তি পেয়েছিলাম বলেই, বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানিরা ফাঁসি দিতে পারে নাই। ৬৯-এর গণআন্দোলনের মধ্যদিয়ে ৭০-এ যে নির্বাচন হয়েছিল, সেই নির্বাচনে বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের) প্রায় ৯০-৯৫ ভাগ মানুষ বঙ্গবন্ধুকে সমর্থন করেছিলেন। তার নৌকাকে সমর্থন করেছিলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমি প্রায় ২০ বছর পরে দেখলাম, তাকে আমার খুব ভাল লেগেছে। আমি সামনাসামনি খালেদা জিয়ার অনেক বক্তব্য শুনেছি। কিন্তু তারেক রহমানের বক্তব্য কালকেই প্রথম শুনলাম, আমার ভাল লেগেছে। তার বক্তব্যে শালীনতা আছে, তার বক্তব্যে গভীরতা আছে, জাতীয় ঐক্যের একটা আকাঙ্ক্ষা আছে। সেজন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে এসেছি।

এ আলোচনা সভায় সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুস ছবুর খানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলটির উপজেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিক জাহাঙ্গীর, আব্বাছ আলী মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন সিদ্দিকী, ডা. জাবেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্কেল আলি মাস্টার, ছাত্রনেতা শেখ সাদী প্রমুখ।