ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সূর্যের তাপে ভেঙে যাচ্ছে বিশাল গ্রহাণু, আকাশে দেখা যাবে উল্কাবৃষ্টি

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

সূর্যের তীব্র তাপে একটি বিশাল গ্রহাণু ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী যখন এই ধ্বংসাবশেষের মেঘের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন আকাশে উল্কাবৃষ্টি দেখা যাবে। ইতোমধ্যে ২৮২টি শুটিং স্টার বা উল্কাবৃষ্টির একটি গুচ্ছ শনাক্ত করা হয়েছে।

গবেষকদের ধারণা, এই উল্কাবৃষ্টি মহাকাশের একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে উৎপন্ন হচ্ছে। পাথুরে ধ্বংসাবশেষের এই স্তূপটি আসলে একটি মৃতপ্রায় গ্রহাণু বা রক কমেটের অবশিষ্টাংশ। সূর্যের খুব কাছে চলে যাওয়ায় গ্রহাণুটি ভেঙে টুকরো হয়ে গেছে।

নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের বিজ্ঞানী প্যাট্রিক শোবার বলেন, এই আবিষ্কারটি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। তিনি জানান, মূলত একটি লুকানো গ্রহাণুকে সূর্যের তাপে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই অসংখ্য ছোট মহাকাশ শিলা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং ঘর্ষণের ফলে জ্বলে উঠে উল্কা তৈরি করে।

বিজ্ঞানীরা জানান, যখন এসব কণা প্রতি সেকেন্ডে ১৫ মাইলের বেশি গতিতে বায়ুর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, তখন সেগুলো বাষ্পীভূত হয়ে উজ্জ্বল আলোর সৃষ্টি করে, যা খালি চোখেই দেখা যায়। সাধারণত এই ধরনের কণা ধূমকেতু বা গ্রহাণু ভেঙে তৈরি হয়।

শোবার আরও জানান, এই উল্কাবৃষ্টির উৎস একটি বিরল বস্তু, যাকে রক কমেট বলা হয়। সাধারণত উল্কাবৃষ্টি ধূমকেতু থেকে সৃষ্টি হলেও, কোনো পাথুরে গ্রহাণু সূর্যের খুব কাছে চলে গেলে সেটিও ধূমকেতুর মতো আচরণ করে ভেঙে যেতে পারে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই উল্কাগুলোর গঠন মাঝারি ভঙ্গুর হলেও ধূমকেতুর উপাদানের চেয়ে কিছুটা শক্ত। সূর্যের তাপে গ্রহাণুর বাইরের অংশ ফেটে যায় এবং ভেতরের গ্যাস বের হয়ে এসে সেটিকে চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলে।

এই গ্রহাণুর কক্ষপথও বেশ অস্বাভাবিক। এটি পৃথিবীর তুলনায় সূর্যের প্রায় পাঁচ গুণ বেশি কাছে চলে যায়, যা এর ধ্বংসের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই নতুন উল্কাবৃষ্টির নাম দেওয়া হয়েছে এম২০২৬ এ১। প্রতিবছর ১৬ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত এটি আকাশে দেখা যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

সূর্যের তাপে ভেঙে যাচ্ছে বিশাল গ্রহাণু, আকাশে দেখা যাবে উল্কাবৃষ্টি

আপডেট সময় ০৯:৩০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

সূর্যের তীব্র তাপে একটি বিশাল গ্রহাণু ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী যখন এই ধ্বংসাবশেষের মেঘের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন আকাশে উল্কাবৃষ্টি দেখা যাবে। ইতোমধ্যে ২৮২টি শুটিং স্টার বা উল্কাবৃষ্টির একটি গুচ্ছ শনাক্ত করা হয়েছে।

গবেষকদের ধারণা, এই উল্কাবৃষ্টি মহাকাশের একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে উৎপন্ন হচ্ছে। পাথুরে ধ্বংসাবশেষের এই স্তূপটি আসলে একটি মৃতপ্রায় গ্রহাণু বা রক কমেটের অবশিষ্টাংশ। সূর্যের খুব কাছে চলে যাওয়ায় গ্রহাণুটি ভেঙে টুকরো হয়ে গেছে।

নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের বিজ্ঞানী প্যাট্রিক শোবার বলেন, এই আবিষ্কারটি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। তিনি জানান, মূলত একটি লুকানো গ্রহাণুকে সূর্যের তাপে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই অসংখ্য ছোট মহাকাশ শিলা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং ঘর্ষণের ফলে জ্বলে উঠে উল্কা তৈরি করে।

বিজ্ঞানীরা জানান, যখন এসব কণা প্রতি সেকেন্ডে ১৫ মাইলের বেশি গতিতে বায়ুর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, তখন সেগুলো বাষ্পীভূত হয়ে উজ্জ্বল আলোর সৃষ্টি করে, যা খালি চোখেই দেখা যায়। সাধারণত এই ধরনের কণা ধূমকেতু বা গ্রহাণু ভেঙে তৈরি হয়।

শোবার আরও জানান, এই উল্কাবৃষ্টির উৎস একটি বিরল বস্তু, যাকে রক কমেট বলা হয়। সাধারণত উল্কাবৃষ্টি ধূমকেতু থেকে সৃষ্টি হলেও, কোনো পাথুরে গ্রহাণু সূর্যের খুব কাছে চলে গেলে সেটিও ধূমকেতুর মতো আচরণ করে ভেঙে যেতে পারে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই উল্কাগুলোর গঠন মাঝারি ভঙ্গুর হলেও ধূমকেতুর উপাদানের চেয়ে কিছুটা শক্ত। সূর্যের তাপে গ্রহাণুর বাইরের অংশ ফেটে যায় এবং ভেতরের গ্যাস বের হয়ে এসে সেটিকে চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলে।

এই গ্রহাণুর কক্ষপথও বেশ অস্বাভাবিক। এটি পৃথিবীর তুলনায় সূর্যের প্রায় পাঁচ গুণ বেশি কাছে চলে যায়, যা এর ধ্বংসের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই নতুন উল্কাবৃষ্টির নাম দেওয়া হয়েছে এম২০২৬ এ১। প্রতিবছর ১৬ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত এটি আকাশে দেখা যাবে।