ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বিশ্বে ১৮০ কোটি মানুষ লিভার ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১৮০ কোটি মানুষ মেটাবলিক লিভার ডিজিজে আক্রান্ত হতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির নেপথ্যে রয়েছে ক্রমবর্ধমান স্থূলতা এবং রক্তে অতিরিক্ত শর্করার মাত্রা।

নতুন একটি গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এ তথ্য জানিয়েছে।

গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজেস, ইনজ্যুরিস, অ্যান্ড রিস্ক ফ্যাক্টরস স্টাডি (জিবিডি) থেকে প্রাপ্ত এই গবেষণার ফলাফল ল্যানসেট গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণা অনুসারে, মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (এমএএসএলডি), যা আগে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এনএএফএলডি) নামে পরিচিত ছিল। এটি বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে প্রচলিত এবং দ্রুত বর্ধনশীল লিভারের রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ১৩০ কোটি মানুষ এমএএসএলডি নিয়ে জীবনযাপন করছেন। মাত্র তিন দশকে এই রোগে আক্রান্তের হার ১৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বে প্রতি ছয়জনের মধ্যে প্রায় একজন- অর্থাৎ ১৬ শতাংশ এই রোগে আক্রান্ত।

এই রোগের প্রাদুর্ভাব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন, যেমন- ক্রমবর্ধমান স্থূলতা ও রক্তে উচ্চ শর্করার মাত্রা।

গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০ সালে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ এমএএসএলডি নিয়ে বসবাস করছিলেন। ২০২৩ সাল নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ কোটিতে। ২০৫০ সালের মধ্যে এমএএসএলডি ১৮০ কোটি মানুষকে আক্রান্ত করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি।

২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী এই রোগের প্রাদুর্ভাবের হার প্রতি ১ লাখে ১৪ হাজার ৪২৯ জনে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৯০ সালের তুলনায় ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি।

এমএএসএলডি নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং ৮০ থেকে ৮৪ বছর বয়সী বয়স্কদের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাবের হার সর্বোচ্চ। তবে, সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ কম বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রায় ৩৫ থেকে ৩৯ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৫৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী।

বিশ্বব্যাপী এমএএসএলডি সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সমস্যার প্রধান কারণ রক্তে শর্করার উচ্চ মাত্রা, এরপরেই রয়েছে উচ্চ বিএমআই এবং ধূমপান, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার সাথে এর শক্তিশালী সংযোগকে তুলে ধরে।

উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ কিছু অঞ্চলে অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এমএএসএলডি- এর হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল। তবে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যায় তীব্র বৃদ্ধি ঘটেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

বিশ্বে ১৮০ কোটি মানুষ লিভার ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা

আপডেট সময় ০৩:২৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১৮০ কোটি মানুষ মেটাবলিক লিভার ডিজিজে আক্রান্ত হতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির নেপথ্যে রয়েছে ক্রমবর্ধমান স্থূলতা এবং রক্তে অতিরিক্ত শর্করার মাত্রা।

নতুন একটি গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এ তথ্য জানিয়েছে।

গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজেস, ইনজ্যুরিস, অ্যান্ড রিস্ক ফ্যাক্টরস স্টাডি (জিবিডি) থেকে প্রাপ্ত এই গবেষণার ফলাফল ল্যানসেট গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণা অনুসারে, মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (এমএএসএলডি), যা আগে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এনএএফএলডি) নামে পরিচিত ছিল। এটি বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে প্রচলিত এবং দ্রুত বর্ধনশীল লিভারের রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ১৩০ কোটি মানুষ এমএএসএলডি নিয়ে জীবনযাপন করছেন। মাত্র তিন দশকে এই রোগে আক্রান্তের হার ১৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বে প্রতি ছয়জনের মধ্যে প্রায় একজন- অর্থাৎ ১৬ শতাংশ এই রোগে আক্রান্ত।

এই রোগের প্রাদুর্ভাব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন, যেমন- ক্রমবর্ধমান স্থূলতা ও রক্তে উচ্চ শর্করার মাত্রা।

গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০ সালে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ এমএএসএলডি নিয়ে বসবাস করছিলেন। ২০২৩ সাল নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ কোটিতে। ২০৫০ সালের মধ্যে এমএএসএলডি ১৮০ কোটি মানুষকে আক্রান্ত করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি।

২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী এই রোগের প্রাদুর্ভাবের হার প্রতি ১ লাখে ১৪ হাজার ৪২৯ জনে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৯০ সালের তুলনায় ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি।

এমএএসএলডি নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং ৮০ থেকে ৮৪ বছর বয়সী বয়স্কদের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাবের হার সর্বোচ্চ। তবে, সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ কম বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রায় ৩৫ থেকে ৩৯ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৫৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী।

বিশ্বব্যাপী এমএএসএলডি সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সমস্যার প্রধান কারণ রক্তে শর্করার উচ্চ মাত্রা, এরপরেই রয়েছে উচ্চ বিএমআই এবং ধূমপান, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার সাথে এর শক্তিশালী সংযোগকে তুলে ধরে।

উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ কিছু অঞ্চলে অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এমএএসএলডি- এর হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল। তবে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যায় তীব্র বৃদ্ধি ঘটেছে।