ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করে আসছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা যেসব অধ্যাদেশ বাতিল করতে চায় বিএনপি তা নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন এই নেত্রী।

এবার হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির গোল টেবিল আলোচনায় বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে এনসিপির এই নেত্রী বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করার দেড় মাসের মধ্যে এবং আরও একটু টাইম বাড়িয়ে নিলে ছয় মাসের মধ্যে এই বিতর্কিত কার্যক্রমগুলো সমাপ্ত করতে চাইবে, এটাই তাদের জায়গা থেকে যুক্তিযুক্ত। বাংলাদেশের যে পাওয়ার স্ট্রাকচার এবং আমাদের সংবিধান, সব ধরনের আইন অনুযায়ী যে কোনো ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে করে ফেলা উচিত।

এর কারণ সম্পর্কে সামান্থা বলেন, ছয় মাস বা এক বছর পরে ধীরে ধীরে সরকারের আয়ু কমতে থাকে ক্ষমতায় থাকার। আপনি আওয়ামী লীগ না। আপনি আওয়ামী লীগ হতেও পারবেন না। আওয়ামী লীগের যা ছিল সেটা আপনার নাই। সেটা আপনি ফুরিয়েছেন অনেক আগেই। আওয়ামী লীগের যে অত্যাচার সেটা আপনি কপি করতে পারবেন না। তবে আপনি সেই যন্ত্রণার বোধটা আমাদেরকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

সামান্থা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের যে অত্যাচার সেটা আপনি কপি করার চেষ্টা করার আগেই ওই যন্ত্রণার বোধ থেকেই আপনার পতনের ডাক শুরু হয়ে যেতে পারে।

এনসিপির এই নেত্রী বলেন, তবে আমি আগেও সবসময় বলেছি, যে কোনো সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরে তাদেরকে ভালোমত সরকার পরিচালনা করতে দেওয়া বিরোধীদলেরও কর্তব্য। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে এসে যখন আপনি একের পর এক অধ্যাদেশ বাতিল করছেন, আপনি কোথাও কোন জবাবদিহির মধ্যে আসছেন না, নিদারুণ একটা অহংকার আপনাকে পেয়ে বসেছে এবং সংসদে যখন আমরা এখন অধিবেশন শুনি এই নিদারুণ অহংকারটাই একটা প্রধানতম আচরণে পরিণত হয়েছে উভয় পক্ষ থেকে।

বিরোধীদলের সমালোচনা করে সামান্থা বলেন, তারাও উপস্থাপন করতে পারছেন না সবকিছু। আর সরকারি দলও এখানে অহংকারটাই তাদের একমাত্র কৌশলে পরিণত করেছে।

সরকারের অহংকারের কারণ নিয়ে সামান্থা বলেন, আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো ভিশন নাই বাংলাদেশকে কীভাবে দেখবে ভবিষ্যতে। তারা মনে করেন রাষ্ট্রের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাবে। তাহলে রাষ্ট্র চালানো যায় না। এটা কিন্তু তাদের ওপেন বক্তব্য না। এটা তাদের মনের ভাবনা।

সামান্থা আরও বলেন, সরকার মনে করে যদি এই অধ্যাদেশগুলো থাকে, তারা যদি দায়বদ্ধতা প্র্যাকটিস করেন তাহলে তারা সরকারকে নিয়মিত চালাতে পারবেন না, এটা তাদের মনে হয়।

এনসিপির এই নেত্রী বলেন, এই যে গুম এবং মানবাধিকার অধ্যাদেশগুলো বাতিল করলেন বা এই বিষয়ক কোন ব্যাখ্যা আপনি দিলেন না, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আপনি খর্ব করছেন। অথচ অসংখ্য পরিবার গুমের পরিবার হয়ে রয়েছে, অসংখ্য পরিবার মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। তারা বিচারহীনতায় বিচার বিভাগের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। এই পরিবারগুলোর সুরক্ষা এই সরকারি দলকেও সুরক্ষা দিতে পারতো।

সামান্থা বলেন, কারণ আপনি কোন পরিবারে আশ্রয় নেবেন, আপনার উপরে মানবতাবিরোধী অপরাধ হলে সে পরিবারগুলো আপনার জায়গা হতে পারতো।

এনসিপির এ নেত্রী বলেন, আমি যদি বলি এই অধ্যাদেশগুলোকে বাতিল করা শুধুমাত্র আইনি জটিলতা তৈরি করে না। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারকে এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে ফালানো, যেখানে অনিশ্চয়তা এবং নাগরিক হিসেবে হীনমন্যতায় ভুগে মানুষ।

সামান্থা শেষে বলেন, যে কথাটা পূর্বে এসেছে, কীটপতঙ্গের জীবনে তাদেরকে ঠেলে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। এই পরিবারগুলোই হতে পারতো বিএনপির সবচাইতে বড় দুর্গ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা

আপডেট সময় ০৭:১৫:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করে আসছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা যেসব অধ্যাদেশ বাতিল করতে চায় বিএনপি তা নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন এই নেত্রী।

এবার হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির গোল টেবিল আলোচনায় বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে এনসিপির এই নেত্রী বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করার দেড় মাসের মধ্যে এবং আরও একটু টাইম বাড়িয়ে নিলে ছয় মাসের মধ্যে এই বিতর্কিত কার্যক্রমগুলো সমাপ্ত করতে চাইবে, এটাই তাদের জায়গা থেকে যুক্তিযুক্ত। বাংলাদেশের যে পাওয়ার স্ট্রাকচার এবং আমাদের সংবিধান, সব ধরনের আইন অনুযায়ী যে কোনো ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে করে ফেলা উচিত।

এর কারণ সম্পর্কে সামান্থা বলেন, ছয় মাস বা এক বছর পরে ধীরে ধীরে সরকারের আয়ু কমতে থাকে ক্ষমতায় থাকার। আপনি আওয়ামী লীগ না। আপনি আওয়ামী লীগ হতেও পারবেন না। আওয়ামী লীগের যা ছিল সেটা আপনার নাই। সেটা আপনি ফুরিয়েছেন অনেক আগেই। আওয়ামী লীগের যে অত্যাচার সেটা আপনি কপি করতে পারবেন না। তবে আপনি সেই যন্ত্রণার বোধটা আমাদেরকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

সামান্থা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের যে অত্যাচার সেটা আপনি কপি করার চেষ্টা করার আগেই ওই যন্ত্রণার বোধ থেকেই আপনার পতনের ডাক শুরু হয়ে যেতে পারে।

এনসিপির এই নেত্রী বলেন, তবে আমি আগেও সবসময় বলেছি, যে কোনো সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরে তাদেরকে ভালোমত সরকার পরিচালনা করতে দেওয়া বিরোধীদলেরও কর্তব্য। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে এসে যখন আপনি একের পর এক অধ্যাদেশ বাতিল করছেন, আপনি কোথাও কোন জবাবদিহির মধ্যে আসছেন না, নিদারুণ একটা অহংকার আপনাকে পেয়ে বসেছে এবং সংসদে যখন আমরা এখন অধিবেশন শুনি এই নিদারুণ অহংকারটাই একটা প্রধানতম আচরণে পরিণত হয়েছে উভয় পক্ষ থেকে।

বিরোধীদলের সমালোচনা করে সামান্থা বলেন, তারাও উপস্থাপন করতে পারছেন না সবকিছু। আর সরকারি দলও এখানে অহংকারটাই তাদের একমাত্র কৌশলে পরিণত করেছে।

সরকারের অহংকারের কারণ নিয়ে সামান্থা বলেন, আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো ভিশন নাই বাংলাদেশকে কীভাবে দেখবে ভবিষ্যতে। তারা মনে করেন রাষ্ট্রের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাবে। তাহলে রাষ্ট্র চালানো যায় না। এটা কিন্তু তাদের ওপেন বক্তব্য না। এটা তাদের মনের ভাবনা।

সামান্থা আরও বলেন, সরকার মনে করে যদি এই অধ্যাদেশগুলো থাকে, তারা যদি দায়বদ্ধতা প্র্যাকটিস করেন তাহলে তারা সরকারকে নিয়মিত চালাতে পারবেন না, এটা তাদের মনে হয়।

এনসিপির এই নেত্রী বলেন, এই যে গুম এবং মানবাধিকার অধ্যাদেশগুলো বাতিল করলেন বা এই বিষয়ক কোন ব্যাখ্যা আপনি দিলেন না, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আপনি খর্ব করছেন। অথচ অসংখ্য পরিবার গুমের পরিবার হয়ে রয়েছে, অসংখ্য পরিবার মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। তারা বিচারহীনতায় বিচার বিভাগের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। এই পরিবারগুলোর সুরক্ষা এই সরকারি দলকেও সুরক্ষা দিতে পারতো।

সামান্থা বলেন, কারণ আপনি কোন পরিবারে আশ্রয় নেবেন, আপনার উপরে মানবতাবিরোধী অপরাধ হলে সে পরিবারগুলো আপনার জায়গা হতে পারতো।

এনসিপির এ নেত্রী বলেন, আমি যদি বলি এই অধ্যাদেশগুলোকে বাতিল করা শুধুমাত্র আইনি জটিলতা তৈরি করে না। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারকে এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে ফালানো, যেখানে অনিশ্চয়তা এবং নাগরিক হিসেবে হীনমন্যতায় ভুগে মানুষ।

সামান্থা শেষে বলেন, যে কথাটা পূর্বে এসেছে, কীটপতঙ্গের জীবনে তাদেরকে ঠেলে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। এই পরিবারগুলোই হতে পারতো বিএনপির সবচাইতে বড় দুর্গ।