ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

বিমা খাতে অব্যবস্থাপনার কারণে মানুষের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে: আবদুর রহমান

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, বিমা খাতে পেশাদারত্বের অভাব এবং চরম অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই খাত নিয়ে মারাত্মক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, মোটর বিমা আগে আবশ্যিক ছিল, যা করতে মাত্র ২০০-২৫০ টাকা লাগে। সেটিও এখন উঠে গেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কোনো পেশাদারত্ব গড়ে ওঠেনি। পুরো বীমা খাত নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচকতা এখন চরমে।

তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একদিকে আপনারা বলছেন ব্যবসা নেই, অন্যদিকে বিমা কোম্পানির লাইসেন্সের জন্য এখনো বহু লোক তদবির করছেন।

বিমা খাতে দক্ষ জনবলের তীব্র অভাবের কথা উল্লেখ করে আবদুর রহমান খান বলেন, বিমা কোম্পানি আছে, অথচ কোথাও কোনো ‘অ্যাকচুয়ারি’ (বিমা গাণনিক) নেই— পৃথিবীর কোথাও এমনটা দেখা যায় না। আমাদের দেশে অ্যাকচুয়ারি নিয়ে পড়াশোনা বা বিশেষজ্ঞ তৈরির সুযোগ নেই বললেই চলে। বাংলাদেশে মাত্র দুজন অ্যাকচুয়ারি আছেন, যার মধ্যে একজনের বয়স ৮৮ বছর পার হয়েছে। আরেকজন ইয়ং, আমার মেয়ে। এমন অবস্থায় এই খাতে শৃঙ্খলা আনা কীভাবে সম্ভব?

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অনেক বিমা কোম্পানি গ্রাহকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। বিশেষ করে লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পাওনা টাকা পেতে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। মানুষ সারা জীবন প্রিমিয়াম দেয়, কিন্তু ম্যাচিউরিটির পর টাকা পায় না। এমনকি বীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা অবসরে যাওয়ার পর তাদের পাওনা সুবিধাদি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। আমার কাছে এমনও তদবির আসে যে, কোনো কোম্পানির বড় ভাই অবসরে গেছেন কিন্তু তার বেনিফিট দেওয়া হচ্ছে না। এই পর্যায়ের অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আরব উপসাগরে কাতারি এলএনজি জাহাজে হামলা, তীব্র নিন্দা দোহা

বিমা খাতে অব্যবস্থাপনার কারণে মানুষের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে: আবদুর রহমান

আপডেট সময় ০৬:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, বিমা খাতে পেশাদারত্বের অভাব এবং চরম অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই খাত নিয়ে মারাত্মক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, মোটর বিমা আগে আবশ্যিক ছিল, যা করতে মাত্র ২০০-২৫০ টাকা লাগে। সেটিও এখন উঠে গেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কোনো পেশাদারত্ব গড়ে ওঠেনি। পুরো বীমা খাত নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচকতা এখন চরমে।

তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একদিকে আপনারা বলছেন ব্যবসা নেই, অন্যদিকে বিমা কোম্পানির লাইসেন্সের জন্য এখনো বহু লোক তদবির করছেন।

বিমা খাতে দক্ষ জনবলের তীব্র অভাবের কথা উল্লেখ করে আবদুর রহমান খান বলেন, বিমা কোম্পানি আছে, অথচ কোথাও কোনো ‘অ্যাকচুয়ারি’ (বিমা গাণনিক) নেই— পৃথিবীর কোথাও এমনটা দেখা যায় না। আমাদের দেশে অ্যাকচুয়ারি নিয়ে পড়াশোনা বা বিশেষজ্ঞ তৈরির সুযোগ নেই বললেই চলে। বাংলাদেশে মাত্র দুজন অ্যাকচুয়ারি আছেন, যার মধ্যে একজনের বয়স ৮৮ বছর পার হয়েছে। আরেকজন ইয়ং, আমার মেয়ে। এমন অবস্থায় এই খাতে শৃঙ্খলা আনা কীভাবে সম্ভব?

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অনেক বিমা কোম্পানি গ্রাহকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। বিশেষ করে লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পাওনা টাকা পেতে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। মানুষ সারা জীবন প্রিমিয়াম দেয়, কিন্তু ম্যাচিউরিটির পর টাকা পায় না। এমনকি বীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা অবসরে যাওয়ার পর তাদের পাওনা সুবিধাদি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। আমার কাছে এমনও তদবির আসে যে, কোনো কোম্পানির বড় ভাই অবসরে গেছেন কিন্তু তার বেনিফিট দেওয়া হচ্ছে না। এই পর্যায়ের অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।