ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রেশার কুকারে অভিনেত্রী হিসেবেই নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছি: তুষি

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

নাজিফা তুষি। ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমাটি। নারীকেন্দ্রিক গল্পের এই সিনেমাটি নিয়ে ঈদের আগ থেকে প্রচারণায় ঘুরছেন তিনি। ঈদের থেকে ঘুরছেন প্রেক্ষাগৃহ থেকে প্রেক্ষাগৃহে। ভিন্নধারার গল্পের সিনেমা কতটা দর্শক টানছেন, কী ধরনের অভিজ্ঞতার মুখে পড়ছেন সেসব নিয়েই কথা হয় ।

ঈদের দিন থেকে প্রেশার কুকার নিয়ে সিনেমা হলে ঘুরছেন। দর্শক রেসপন্স কেমন?

এক কথায় অসাধারণ। এবারের ঈদ তো হলে দর্শকদের সঙ্গে কাটছে। ঈদের দিন থেকেই দর্শকদের সঙ্গে বসে বসে প্রেশার কুকার দেখছি। সিনেমা দেখার সময় দর্শকদের পালস অনুভব করছি। আমার চরিত্রটির মধ্য যেন গভীরভাবে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে নারী দর্শকরা সিনেমা দেখার পর আপ্লুত হয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরছেন, প্রশংসা করছেন। তাদের সেই প্রশংসায় আমিও আবেগপ্রবণ হয়ে যাচ্ছি।

দর্শকের মধ্য থেকে আপনার চরিত্রটি নিয়ে স্পেশাল কিছু বলেছে; যা আপনার মনে দাগ কেটে থাকবে?

সবাই ভালো করেছি, ভালো করেছি বলছে। মায়ের বয়সী অনেকে তো মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদও করছেন। এটা আমার জন্য অন্যরকম প্রাপ্তি। এরমধ্যে বসুন্ধরা স্টার সিনেপ্লেক্সে একদল নারী এসে বলেছিল, তুমি তো পাক্কা অভিনেত্রী। কীভাবে এমন চরিত্রের হয়ে উঠতে পারলে। প্রেশার কুকারে তোমার চরিত্রটির জন্য ভুলেই গিয়েছিলাম আমরা সিনেমা দেখছি।

রায়হান রাফীর সঙ্গে এটা আপনার প্রথম সিনেমা। তাঁর নির্মাণে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

রায়হান রাফীর সঙ্গে এটা আমার প্রথম সিনেমা না। তবে হ্যাঁ মুক্তি পাওয়া প্রথম সিনেমা। তাঁর নির্মাণে আন্ধার নামে আরও একটি সিনেমায় কাজ করেছি আমি। সেখানেও আমার চরিত্রটি অসাধারণ। রাফী নির্মাতা হিসেবে এক কথায় অসাধারণ। সব ধরনের গল্প নিয়েই কাজ করার দারুণ ক্ষমতা আছে তার মধ্যে। বেশ প্রস্তুতি নিয়ে, প্ল্যান করে কিছু একটা ঘটাতে পারে পর্দায়। স্ক্রিনে দারুণ সতঃস্ফূর্ত সে। তাই নির্মাতা হিসেবে তার একটা আলাদা দর্শক আছে দেশে। এমন একটি গল্প নিয়ে তাই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সাহস করেছে। দর্শকরা রাফীকে নিরাশ করছেন না। তারা হলে এসে সিনেমাটি দেখছেন, প্রশংসা করছেন।

প্রেশার কুকার সিনেমাটি করার পেছনে কি শুধু রায়হান রাফীর সিনেমা এটাই কারণ ছিল?

নাহ, এই ধরনের গল্প আমাকে অনেক বেশি টানে। কারণ অনেকদিন ধরে চাচ্ছিলাম যে এমন একটা ফিল্ম করি, যেখানে নারীরা প্রধান বা সিটি লাইফ; যেখানে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ আছে। অবশেষে এই সিনেমায় কীভাবে যেন সবকিছু হয়ে গেল! এটি, হাইপারলিংকড স্টোরির সিনেমা; যেখানে নারীর একটা বিশাল জায়গা রয়েছে। এখানে আমার বন্ধুরা, সহকর্মীরা অভিনয় করেছেন। সব মিলিয়ে একজন নারী হিসেবে সিনেমাটা আমার জন্য আনন্দের। সুযোগটা আমি মিস করতে চাইনি।

সিনেমাটি যে আশা নিয়ে করেছিলেন তা কতটা পূরণ হয়েছে?

দেখুন, আমি জীবনে একটা জিনিসই হতে চেয়েছি–অভিনেত্রী। আমি সেটি হতে পেরেছি কিনা জানি না, তবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। ‘প্রেশার কুকার’-এও আমি একজন অভিনেত্রী হিসেবেই নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছি। হলে গিয়ে যখন দেখছি দর্শকরা আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলছেন, আমার চরিত্রটি তাদের মনে ধরেছে তখন মনে হয়েছে মনে হয় পূরণ হয়েছে।

আপনার সিনেমার নাম প্রেশার কুকার। আপনার প্রেশার কুকারে রান্নার অভ্যাস কেমন?

এটা কিন্তু সিনেমার প্রতীকী নাম। মানে নারীদের জন্য শহরটা একটা প্রেশার কুকারের মতো গরম, যন্ত্রণার এমন কিছু একটা বোঝানো হয়েছে। রান্নার সঙ্গে সিনেমার গল্পের কিন্তু কোনো সম্পর্ক নেই। তবে আমি রান্নায় খুব বেশি থাকি না। প্রেশার কুকারে খুব বেশি রান্না করাও হয়নি। আসলে আমি এমনিতেই কম রান্না করি। তবে রান্নার অভিজ্ঞতা খারাপ না।

আপনার অভিনীত ‘রইদ’ সিনেমাটি কবে মুক্তি পাবে?

রঈদ তো পুরোপুরি মুক্তির জন্য প্রস্তুত। এখন আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যালগুলোতে ঘুরছে। কবে মুক্তি পাবে এটা ঈদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেশার কুকারে অভিনেত্রী হিসেবেই নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছি: তুষি

আপডেট সময় ০৬:২২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

নাজিফা তুষি। ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমাটি। নারীকেন্দ্রিক গল্পের এই সিনেমাটি নিয়ে ঈদের আগ থেকে প্রচারণায় ঘুরছেন তিনি। ঈদের থেকে ঘুরছেন প্রেক্ষাগৃহ থেকে প্রেক্ষাগৃহে। ভিন্নধারার গল্পের সিনেমা কতটা দর্শক টানছেন, কী ধরনের অভিজ্ঞতার মুখে পড়ছেন সেসব নিয়েই কথা হয় ।

ঈদের দিন থেকে প্রেশার কুকার নিয়ে সিনেমা হলে ঘুরছেন। দর্শক রেসপন্স কেমন?

এক কথায় অসাধারণ। এবারের ঈদ তো হলে দর্শকদের সঙ্গে কাটছে। ঈদের দিন থেকেই দর্শকদের সঙ্গে বসে বসে প্রেশার কুকার দেখছি। সিনেমা দেখার সময় দর্শকদের পালস অনুভব করছি। আমার চরিত্রটির মধ্য যেন গভীরভাবে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে নারী দর্শকরা সিনেমা দেখার পর আপ্লুত হয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরছেন, প্রশংসা করছেন। তাদের সেই প্রশংসায় আমিও আবেগপ্রবণ হয়ে যাচ্ছি।

দর্শকের মধ্য থেকে আপনার চরিত্রটি নিয়ে স্পেশাল কিছু বলেছে; যা আপনার মনে দাগ কেটে থাকবে?

সবাই ভালো করেছি, ভালো করেছি বলছে। মায়ের বয়সী অনেকে তো মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদও করছেন। এটা আমার জন্য অন্যরকম প্রাপ্তি। এরমধ্যে বসুন্ধরা স্টার সিনেপ্লেক্সে একদল নারী এসে বলেছিল, তুমি তো পাক্কা অভিনেত্রী। কীভাবে এমন চরিত্রের হয়ে উঠতে পারলে। প্রেশার কুকারে তোমার চরিত্রটির জন্য ভুলেই গিয়েছিলাম আমরা সিনেমা দেখছি।

রায়হান রাফীর সঙ্গে এটা আপনার প্রথম সিনেমা। তাঁর নির্মাণে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

রায়হান রাফীর সঙ্গে এটা আমার প্রথম সিনেমা না। তবে হ্যাঁ মুক্তি পাওয়া প্রথম সিনেমা। তাঁর নির্মাণে আন্ধার নামে আরও একটি সিনেমায় কাজ করেছি আমি। সেখানেও আমার চরিত্রটি অসাধারণ। রাফী নির্মাতা হিসেবে এক কথায় অসাধারণ। সব ধরনের গল্প নিয়েই কাজ করার দারুণ ক্ষমতা আছে তার মধ্যে। বেশ প্রস্তুতি নিয়ে, প্ল্যান করে কিছু একটা ঘটাতে পারে পর্দায়। স্ক্রিনে দারুণ সতঃস্ফূর্ত সে। তাই নির্মাতা হিসেবে তার একটা আলাদা দর্শক আছে দেশে। এমন একটি গল্প নিয়ে তাই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সাহস করেছে। দর্শকরা রাফীকে নিরাশ করছেন না। তারা হলে এসে সিনেমাটি দেখছেন, প্রশংসা করছেন।

প্রেশার কুকার সিনেমাটি করার পেছনে কি শুধু রায়হান রাফীর সিনেমা এটাই কারণ ছিল?

নাহ, এই ধরনের গল্প আমাকে অনেক বেশি টানে। কারণ অনেকদিন ধরে চাচ্ছিলাম যে এমন একটা ফিল্ম করি, যেখানে নারীরা প্রধান বা সিটি লাইফ; যেখানে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ আছে। অবশেষে এই সিনেমায় কীভাবে যেন সবকিছু হয়ে গেল! এটি, হাইপারলিংকড স্টোরির সিনেমা; যেখানে নারীর একটা বিশাল জায়গা রয়েছে। এখানে আমার বন্ধুরা, সহকর্মীরা অভিনয় করেছেন। সব মিলিয়ে একজন নারী হিসেবে সিনেমাটা আমার জন্য আনন্দের। সুযোগটা আমি মিস করতে চাইনি।

সিনেমাটি যে আশা নিয়ে করেছিলেন তা কতটা পূরণ হয়েছে?

দেখুন, আমি জীবনে একটা জিনিসই হতে চেয়েছি–অভিনেত্রী। আমি সেটি হতে পেরেছি কিনা জানি না, তবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। ‘প্রেশার কুকার’-এও আমি একজন অভিনেত্রী হিসেবেই নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছি। হলে গিয়ে যখন দেখছি দর্শকরা আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলছেন, আমার চরিত্রটি তাদের মনে ধরেছে তখন মনে হয়েছে মনে হয় পূরণ হয়েছে।

আপনার সিনেমার নাম প্রেশার কুকার। আপনার প্রেশার কুকারে রান্নার অভ্যাস কেমন?

এটা কিন্তু সিনেমার প্রতীকী নাম। মানে নারীদের জন্য শহরটা একটা প্রেশার কুকারের মতো গরম, যন্ত্রণার এমন কিছু একটা বোঝানো হয়েছে। রান্নার সঙ্গে সিনেমার গল্পের কিন্তু কোনো সম্পর্ক নেই। তবে আমি রান্নায় খুব বেশি থাকি না। প্রেশার কুকারে খুব বেশি রান্না করাও হয়নি। আসলে আমি এমনিতেই কম রান্না করি। তবে রান্নার অভিজ্ঞতা খারাপ না।

আপনার অভিনীত ‘রইদ’ সিনেমাটি কবে মুক্তি পাবে?

রঈদ তো পুরোপুরি মুক্তির জন্য প্রস্তুত। এখন আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যালগুলোতে ঘুরছে। কবে মুক্তি পাবে এটা ঈদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানাবে।