ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন ফেসবুক স্ট্যাটাসে ৯ দফার ঘোষক কাদের: ফিমেল জোন যেন ফিমেল উইংয়ের ‘টিএসসি শাখা অফিস’ না হয় ৩০০ এমপিকে হাওড় ঘুরে আসার আহ্বান নাহিদের ভয়াবহ দাবানল : ফ্রান্সে সরানো হলো ৬৩ হাজার মানুষ, স্পেনে জরুরি অবস্থা মোহাম্মদপুরে এসআইয়ের পিঠে ছুরিকাঘাত, লেগেছে ৪৩ সেলাই আসিয়ানকে আরও শক্তিশালী করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধর্মের নামে যারা বিভক্তি চায়, তারা জাতি ও ঈশ্বরের শত্রু: তথ্যমন্ত্রী স্পিকারের দায়িত্বে কায়সার কামাল বিনিয়োগনির্ভর উৎপাদন ও কর্মসংস্থানই বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি: তিতুমীর মাফিয়া আমলে নির্বাচিত হলেও সাহাবুদ্দিনের বর্তমান সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল: স্পিকার

চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে আটকে নির্যাতন, দুজন গ্রেপ্তার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মো. এয়াছিন নামে এক ফল ব্যবসায়ীকে চাঁদার দাবিতে আটক করে দিনভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে থানার পাশের একটি পরিত্যক্ত স্কুলভবনে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ভুক্তভোগী এয়াছিন ফেনী সদর এলাকার অলুকিয়া গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে চৌদ্দগ্রাম বাজারে ফল ব্যবসা করে আসছেন তিনি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার লক্ষীপুর গ্রামের জিল্লুর রহমান ও পূর্ব চান্দিশকরা গ্রামের সোহাগ।

মামলায় এয়াছিন উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে চৌদ্দগ্রাম বাজারে ফুটপাতে ফল ব্যবসা করে আসছেন তিনি। জিল্লুর রহমান, সোহাগ ও তাদের সহযোগীরা চৌদ্দগ্রাম বাজারে বিভিন্ন পরিবহন থেকে চাদা আদায় করতেন। বুধবার দুপুরে জিল্লুর রহমান তার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ২০০ টাকা ধার দিতে বলেন। তাতে রাজি হলে চৌদ্দগ্রাম থানা থেকে কিছুটা দূরে পারাবত স্কুলের সামনে গিয়ে টাকা পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেন। তিনি সেখানে গেলে জিল্লুর, সোহাগসহ ৪-৫ জন মিলে জোর করে স্কুলের একটি পরিত্যাক্ত কক্ষে নিয়ে আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে মারধর শুরু করেন তারা। দিনভর চলে নির্যাতন। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। জ্ঞান ফিরলে দেখেন পাশের কক্ষে অবস্থান করছেন তারা। সুযোগ বুঝে পালানোর চেষ্টা করলে তারা পেছন পেছন দৌঁড়ে ঝাপটে ধরে মারধর শুরু করেন। এসময় ডাক-চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে স্থানীয় জনতার সহয়তায় তাকে উদ্ধার করে এবং জিল্লুর ও সোহাগকে আটক করে। এর আগে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাহিম, মনির ও টুটুল পালিয়ে যায়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কায়সার হোসেন জানান, ইয়াছিন নামে চৌদ্দগ্রাম বাজারের এক ফল ব্যবসায়ীকে টাকা ধারের বায়না ধরে ৫ ব্যক্তি আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে দিনভর নির্যাতন করে। একপর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার এবং জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পালিয়ে যাওয়া তিনজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন

চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে আটকে নির্যাতন, দুজন গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৫:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মো. এয়াছিন নামে এক ফল ব্যবসায়ীকে চাঁদার দাবিতে আটক করে দিনভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে থানার পাশের একটি পরিত্যক্ত স্কুলভবনে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ভুক্তভোগী এয়াছিন ফেনী সদর এলাকার অলুকিয়া গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে চৌদ্দগ্রাম বাজারে ফল ব্যবসা করে আসছেন তিনি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার লক্ষীপুর গ্রামের জিল্লুর রহমান ও পূর্ব চান্দিশকরা গ্রামের সোহাগ।

মামলায় এয়াছিন উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে চৌদ্দগ্রাম বাজারে ফুটপাতে ফল ব্যবসা করে আসছেন তিনি। জিল্লুর রহমান, সোহাগ ও তাদের সহযোগীরা চৌদ্দগ্রাম বাজারে বিভিন্ন পরিবহন থেকে চাদা আদায় করতেন। বুধবার দুপুরে জিল্লুর রহমান তার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ২০০ টাকা ধার দিতে বলেন। তাতে রাজি হলে চৌদ্দগ্রাম থানা থেকে কিছুটা দূরে পারাবত স্কুলের সামনে গিয়ে টাকা পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেন। তিনি সেখানে গেলে জিল্লুর, সোহাগসহ ৪-৫ জন মিলে জোর করে স্কুলের একটি পরিত্যাক্ত কক্ষে নিয়ে আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে মারধর শুরু করেন তারা। দিনভর চলে নির্যাতন। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। জ্ঞান ফিরলে দেখেন পাশের কক্ষে অবস্থান করছেন তারা। সুযোগ বুঝে পালানোর চেষ্টা করলে তারা পেছন পেছন দৌঁড়ে ঝাপটে ধরে মারধর শুরু করেন। এসময় ডাক-চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে স্থানীয় জনতার সহয়তায় তাকে উদ্ধার করে এবং জিল্লুর ও সোহাগকে আটক করে। এর আগে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাহিম, মনির ও টুটুল পালিয়ে যায়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কায়সার হোসেন জানান, ইয়াছিন নামে চৌদ্দগ্রাম বাজারের এক ফল ব্যবসায়ীকে টাকা ধারের বায়না ধরে ৫ ব্যক্তি আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে দিনভর নির্যাতন করে। একপর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার এবং জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পালিয়ে যাওয়া তিনজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।