ঢাকা ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি সরকার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ সায়েদাবাদ হবে শুধু সিটি টার্মিনাল, আন্তঃজেলা বাস যাবে কাঁচপুরে: দক্ষিণ সিটি প্রশাসক সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডায় জামায়াতের কাছে আওয়ামী লীগ শিশু: রাশেদ খাঁন শেষ ১৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব করতে সরকার সবকিছু করবে: মাহদী আমিন চীনে জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮ আসামি মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ হেরে যাওয়ায় ব্রাজিলের সাপোর্টাররা হতাশ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশ হোক সব প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল: প্রধানমন্ত্রী

অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন হলে যা করবেন

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মনে হয় পুরো পৃথিবীটা ঘুরছে। চোখে ঝাপসা ভাব, মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগছে, পা কাঁপছে। তখন অনেকে ভাবেন ক্লান্তি বা ঘুম কম হওয়ার জন্য হয়েছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ‘অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন’ বা ‘পোস্চুরাল হাইপোটেনশন’।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, অনেকক্ষণ বসে বা শুয়ে থাকার পর হুট করে দাঁড়ালে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায়। এতে মস্তিষ্কে রক্তের প্রবাহ কমে, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞানের মতো অবস্থা হয়। এটি সাধারণত সাময়িক, কিন্তু ঘন ঘন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

যেসব কারণে হয় এই সমস্যা:

স্বাভাবিক অবস্থায় শুয়ে বা বসে থাকলে অভিকর্ষের টানে রক্ত কিছুটা পা ও পেটের দিকে জমা হয়। শরীর এই অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেয়। তবে হঠাৎ দাঁড়ালে রক্ত নিচের দিকে চলে যায়, মাথা ও হৃৎপিণ্ডে রক্তের প্রবাহ কমে।

ফলে রক্তচাপ পড়ে যায়, মস্তিষ্কে অক্সিজেন কম পৌঁছায়— মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা ভাব, দুর্বল লাগা বা অজ্ঞানের মতো অবস্থা হয়।

বয়স বাড়লে এই সমস্যা বেশি হয়, কারণ রক্তনালীর নমনীয়তা কমে। এছাড়া পানিশূন্যতা, কম পানি পান, ভারী খাবার খাওয়া, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকাও এর কারণ।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজন হয় না। জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে এই সমস্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

ধীরে ধীরে ওঠা শোয়া বা বসা থেকে উঠে দাঁড়ানোর সময় তাড়াহুড়া করা যাবে না। প্রথমে বিছানার পাশে বা চেয়ারে কয়েক সেকেন্ড বসে থাকতে হবে, পা দুটো ঝুলিয়ে রেখে। তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াতে হবে। এতে শরীর দুটি অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেবে।

পেট ভরে খেলে হজমের জন্য অন্ত্রে রক্তপ্রবাহ বাড়ে। ফলে মাথা ও হৃৎপিণ্ডে রক্ত কম পৌঁছায়। খাওয়ার পর হঠাৎ উঠলে মাথা ঘোরার সম্ভাবনা বেশি। তাই পেট ভরে না খেয়ে কিছুটা খালি রাখাতে হবে।

একবারে না খেয়ে, সারাদিনে অল্প অল্প করে খাওয়া উপকারী। সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি। দিনে কমপক্ষে দুই তিন লিটার। পানিশূন্যতা থাকলে রক্তের আয়তন কমে যায়, রক্তচাপ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। গরমে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

লেবুর শরবত, ডাবের পানি বা ওরস্যালাইন গ্রহণ করলে ভালো হয়। প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম— হাঁটা, যোগ বা স্ট্রেচিং— রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। পায়ের পেশি শক্তিশালী হলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য এটি খুব উপকারী।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া:

এটি হৃদরোগ, পানিশূন্যতা, অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা কিংবা কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার লক্ষণও হতে পারে। অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন সাধারণত বিপজ্জনক নয়। তবে অবহেলা করলে পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙা বা মাথায় আঘাতের ঝুঁকি থাকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন হলে যা করবেন

আপডেট সময় ০৫:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মনে হয় পুরো পৃথিবীটা ঘুরছে। চোখে ঝাপসা ভাব, মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগছে, পা কাঁপছে। তখন অনেকে ভাবেন ক্লান্তি বা ঘুম কম হওয়ার জন্য হয়েছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ‘অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন’ বা ‘পোস্চুরাল হাইপোটেনশন’।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, অনেকক্ষণ বসে বা শুয়ে থাকার পর হুট করে দাঁড়ালে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায়। এতে মস্তিষ্কে রক্তের প্রবাহ কমে, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞানের মতো অবস্থা হয়। এটি সাধারণত সাময়িক, কিন্তু ঘন ঘন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

যেসব কারণে হয় এই সমস্যা:

স্বাভাবিক অবস্থায় শুয়ে বা বসে থাকলে অভিকর্ষের টানে রক্ত কিছুটা পা ও পেটের দিকে জমা হয়। শরীর এই অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেয়। তবে হঠাৎ দাঁড়ালে রক্ত নিচের দিকে চলে যায়, মাথা ও হৃৎপিণ্ডে রক্তের প্রবাহ কমে।

ফলে রক্তচাপ পড়ে যায়, মস্তিষ্কে অক্সিজেন কম পৌঁছায়— মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা ভাব, দুর্বল লাগা বা অজ্ঞানের মতো অবস্থা হয়।

বয়স বাড়লে এই সমস্যা বেশি হয়, কারণ রক্তনালীর নমনীয়তা কমে। এছাড়া পানিশূন্যতা, কম পানি পান, ভারী খাবার খাওয়া, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকাও এর কারণ।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজন হয় না। জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে এই সমস্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

ধীরে ধীরে ওঠা শোয়া বা বসা থেকে উঠে দাঁড়ানোর সময় তাড়াহুড়া করা যাবে না। প্রথমে বিছানার পাশে বা চেয়ারে কয়েক সেকেন্ড বসে থাকতে হবে, পা দুটো ঝুলিয়ে রেখে। তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াতে হবে। এতে শরীর দুটি অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেবে।

পেট ভরে খেলে হজমের জন্য অন্ত্রে রক্তপ্রবাহ বাড়ে। ফলে মাথা ও হৃৎপিণ্ডে রক্ত কম পৌঁছায়। খাওয়ার পর হঠাৎ উঠলে মাথা ঘোরার সম্ভাবনা বেশি। তাই পেট ভরে না খেয়ে কিছুটা খালি রাখাতে হবে।

একবারে না খেয়ে, সারাদিনে অল্প অল্প করে খাওয়া উপকারী। সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি। দিনে কমপক্ষে দুই তিন লিটার। পানিশূন্যতা থাকলে রক্তের আয়তন কমে যায়, রক্তচাপ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। গরমে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

লেবুর শরবত, ডাবের পানি বা ওরস্যালাইন গ্রহণ করলে ভালো হয়। প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম— হাঁটা, যোগ বা স্ট্রেচিং— রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। পায়ের পেশি শক্তিশালী হলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য এটি খুব উপকারী।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া:

এটি হৃদরোগ, পানিশূন্যতা, অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা কিংবা কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার লক্ষণও হতে পারে। অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন সাধারণত বিপজ্জনক নয়। তবে অবহেলা করলে পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙা বা মাথায় আঘাতের ঝুঁকি থাকে।