ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ মুজিবুর পাকিস্তান রাষ্ট্রকে একসঙ্গে রাখার চেষ্টা করেছিলেন: আবদুর রব ইরানের ৪২ যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে দিল্লি: প্রণয় ভার্মা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিলেই আক্রমণ, প্রতিবেশীদের হুঁশিয়ারি ইরানের শেখ হাসিনা সরকারের প্রবণতা এই সরকারেও দেখতে পাচ্ছি: নাহিদ ইসলাম সরকার ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে: জোনায়েদ সাকি কুমিল্লায় মন্দিরে দুর্বৃত্তের রেখে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণ, পুরোহিতসহ আহত ৪ আবেগি পোস্ট দিয়ে দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত নেতা জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ কোটি ডলারের রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে ইরান: ব্লুমবার্গ চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের মুখে আজকের মুসলিম বিশ্ব: মামুনুল হক

ইরাকে গিয়েও স্বপ্ন পূরণ হলো না নাহিদের

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের মেহেদি হাসান নাহিদ (২১) পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ৫ মাস আগে পাড়ি জমান ইরাক। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের আগেই নিভে গেল তার প্রাণ। ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের আরবিল শহরে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় নাহিদসহ তিন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইফতারের পরে নাহিদ ও তার সঙ্গে থাকা আরও তিন বাংলাদেশি একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওইরাতে নাহিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ তারেক (৪৫) ও তার ছেলে মো. সাব্বিরসহ (২২) তিনজন হাসপাতাল থেকে বাসায় গিয়ে সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে বাসায় গিয়ে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত নাহিদ ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের দেবীপুর বিসিক শিল্পনগরী এলাকার মৃধা বাড়ির মোহাম্মদ মাহবুবুল হকের ছেলে। মাহবুবুল হকের দুই ছেলে মেয়ের মধ্যে নাহিদ ছোট।

পরিবার সূত্রে গেছে, মাহবুবুল হক ৮ বছর ধরে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে কর্মরত। গত বছরের অক্টোবর মাসে বাবার হাত ধরে কাজের সন্ধানে সেখানে যান নাহিদ।

বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের চাচা মনিরুজ্জামান বলেন, পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে ১০ লাখ টাকা ঋণ করে তার বাবার মাধ্যমে নাহিদকে প্রবাসে পাঠানো হয়েছিল। তার পরিবার আর্থিকভাবে খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সরকার যদি তাদের পাশে দাঁড়ায় পরিবারটি অনেক উপকৃত হবে।

নাহিদের মা হোসনে আরা বলেন, শেষবারের মতো আমার সন্তানের মুখ দেখতে চাই। তাকে দেশে আনার বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। অর্থনৈতিকভাবে আমার পরিবার একদম শেষ হয়ে গেছে। আমি সবার সহযোগিতা চাই।

এ ব্যাপারে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি এখনো অবগত না। পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের জানানো হয়নি। অবগত হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী সহায়তা করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ মুজিবুর পাকিস্তান রাষ্ট্রকে একসঙ্গে রাখার চেষ্টা করেছিলেন: আবদুর রব

ইরাকে গিয়েও স্বপ্ন পূরণ হলো না নাহিদের

আপডেট সময় ০৬:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের মেহেদি হাসান নাহিদ (২১) পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ৫ মাস আগে পাড়ি জমান ইরাক। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের আগেই নিভে গেল তার প্রাণ। ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের আরবিল শহরে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় নাহিদসহ তিন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইফতারের পরে নাহিদ ও তার সঙ্গে থাকা আরও তিন বাংলাদেশি একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওইরাতে নাহিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ তারেক (৪৫) ও তার ছেলে মো. সাব্বিরসহ (২২) তিনজন হাসপাতাল থেকে বাসায় গিয়ে সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে বাসায় গিয়ে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত নাহিদ ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের দেবীপুর বিসিক শিল্পনগরী এলাকার মৃধা বাড়ির মোহাম্মদ মাহবুবুল হকের ছেলে। মাহবুবুল হকের দুই ছেলে মেয়ের মধ্যে নাহিদ ছোট।

পরিবার সূত্রে গেছে, মাহবুবুল হক ৮ বছর ধরে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে কর্মরত। গত বছরের অক্টোবর মাসে বাবার হাত ধরে কাজের সন্ধানে সেখানে যান নাহিদ।

বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের চাচা মনিরুজ্জামান বলেন, পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে ১০ লাখ টাকা ঋণ করে তার বাবার মাধ্যমে নাহিদকে প্রবাসে পাঠানো হয়েছিল। তার পরিবার আর্থিকভাবে খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সরকার যদি তাদের পাশে দাঁড়ায় পরিবারটি অনেক উপকৃত হবে।

নাহিদের মা হোসনে আরা বলেন, শেষবারের মতো আমার সন্তানের মুখ দেখতে চাই। তাকে দেশে আনার বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। অর্থনৈতিকভাবে আমার পরিবার একদম শেষ হয়ে গেছে। আমি সবার সহযোগিতা চাই।

এ ব্যাপারে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি এখনো অবগত না। পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের জানানো হয়নি। অবগত হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী সহায়তা করা হবে।