আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিরোধীদলের নেতা হচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। উপনেতা হবেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হবেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।
আজ মঙ্গলবার নবনির্বাচিত এমপিদের শপথের পর বিরোধীদলের সংসদীয় দলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
জামায়াত এবারের নির্বাচনে ৭৭ আসনে জয়ী হয়েছে। মঙ্গলবার জামায়াতের ৬৮, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২ এবং খেলাফত মজলিসের ১ এমপি একসঙ্গে শপথ গ্রহণ করেন। তাদের সঙ্গে স্বতন্ত্র এমপিরা এবং বিএনপির একজন এমপিও শপথ নেন। পৃথক সংসদীয় দল গঠন করতে যাওয়া এনসিপির ৬ এমপি পরে শপথ নেন। তবে ১১ দলের এমপিরা একসঙ্গে বৈঠক করেন। এতে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন জামায়াত আমির। তিনি বাংলাদেশের দ্বাদশ বিরোধীদলীয় নেতা হতে যাচ্ছেন। সভায় উপনেতা নির্বাচিত ডা. তাহের। চিফ হুইপ মনোনীত হন নাহিদ ইসলাম। তবে এখনও তাঁরা স্বীকৃতি পাবেন না। সংসদের অধিবেশন বসার পর, স্পিকার তাঁদেরকে স্বীকৃতি দেবেন।
বিরোধীদলীয় নেতার পদটি মন্ত্রী মর্যাদার। একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন তিনি। উপনেতা পদটি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার। সরকারি দলের চিফ হুইপ মন্ত্রী মর্যাদার হলেও, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের এই মর্যাদা নেই। ৭৭ সদস্যের বিরোধী দলীয় জোট ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনও পাবে। কয়েকজন হুইপও পাবে বিরোধীদল।
১৯৭৩ সালে গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সংসদে বিরোধীদল শূন্য ছিল। ১৯৭৯ সালে গঠিত দ্বিতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান। ১৯৮৬ সালে গঠিত তৃতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা।
১৯৮৮ সালে বিএনপি-আওয়ামী লীগবিহীন একতরফা নির্বাচনে গঠিত চতুর্থ সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন আ স ম আবদুর রহমান। সেই সংসদের বিরোধীদল গৃহপালিত তকমা পায়। ১৯৯১ সালে গঠিত পঞ্চম সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গঠিত স্বল্প মেয়াদী ষষ্ঠ সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পদ শূন্য ছিল। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে নির্বাচনে গঠিত সপ্তম সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন খালেদা জিয়া। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে নির্বাচনে গঠিত অষ্টম সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে গঠিত নবম সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন খালেদা জিয়া।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপিবিহীন নির্বাচনে গঠিত দশম সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হন জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ। গৃহপালিত বিরোধীদল হিসেবে তকমা পায় জাতীয় পার্টি। রাতের ভোটখ্যাত ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে গঠিত একাদশ সংসদ সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। তাঁর মৃত্যুর পর আবারও বিরোধীদলীয় নেতা হন রওশন এরশাদ। ডামি নির্বাচনখ্যাত ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে বিরোধীদলীয় নেতা হন জাতীয় পার্টির জি এম কাদের। জুলাই অভ্যুত্থানে সংসদ বিলুপ্ত তিনি পদ হারান।
জামায়াত বাংলাদেশের ইতিহাসে চতুর্থ বৃহত্তম বিরোধীদল হতে যাচ্ছে। সপ্তম সংসদে ১১৬ আসন পেয়ে ইতিহাসের বৃহত্তম বিরোধীদল দল ছিল বিএনপি। ১৯১১ সালে পঞ্চম সংসদের বিরোধীদল আওয়ামী লীগের আসন ছিল ৮৮। ১৯৮৬ সালে বিরোধী দলে বসা আওয়ামী লীগের আসন ছিল ৭৬।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















