ঢাকা ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি সরকার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ সায়েদাবাদ হবে শুধু সিটি টার্মিনাল, আন্তঃজেলা বাস যাবে কাঁচপুরে: দক্ষিণ সিটি প্রশাসক সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডায় জামায়াতের কাছে আওয়ামী লীগ শিশু: রাশেদ খাঁন শেষ ১৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব করতে সরকার সবকিছু করবে: মাহদী আমিন চীনে জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮ আসামি মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ হেরে যাওয়ায় ব্রাজিলের সাপোর্টাররা হতাশ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশ হোক সব প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল: প্রধানমন্ত্রী

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে কী করবেন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

অস্টিওপোরোসিস হলো হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। যার ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং অল্প আঘাতেই ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এটি বিশেষ করে বয়স্ক নারী-পুরুষের মধ্যে বেশি দেখা যায়। অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই হাড় ক্ষয় হতে থাকে।

তাই একে নীরব রোগও বলা হয়। হাড়ের ঘনত্ব মূলত কৈশোর ও তারুণ্যে বৃদ্ধি পায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঘনত্ব কমতে শুরু করে। ৪০ বছরের পর থেকে হাড় ক্ষয়ের হার বাড়ে। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ায় হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডির ঘাটতি, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং কিছু হরমোনজনিত রোগ অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

এই রোগে সাধারণত হঠাৎ উচ্চতা কমে যাওয়া, কোমর বা পিঠে ব্যথা এবং কবজি, শিরদাঁড়া বা নিতম্বে হাড় ভাঙার ঘটনা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই ফ্র্যাকচার হওয়ার আগে রোগী বুঝতেই পারেন না যে তাঁর হাড় দুর্বল হয়ে গেছে। অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটা বা ভার বহনকারী ব্যায়াম হাড়কে শক্তিশালী করে।

খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে। পর্যাপ্ত রোদে থাকার মাধ্যমে ভিটামিন-ডির ঘাটতি পূরণ করা যায়। ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করাও জরুরি। সচেতন জীবনযাপন ও সময়মতো ঝুঁকি চিহ্নিত করতে পারলেই অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

অস্টিওপোরোসিস নির্ণয়ে চিকিৎসকরা ‘ডেক্সা স্ক্যান’ নামক একটি পরীক্ষা করে থাকেন, যা হাড়ের ঘনত্বের সঠিক অবস্থা জানিয়ে দেয়। মানুষের হাড়ের সর্বোচ্চ ঘনত্ব বা ‘পিক বোন মাস’ অর্জিত হয় ৩০ বছর বয়সের মধ্যে। তাই এ সময়ের আগে থেকেই পর্যাপ্ত পুষ্টি ও ব্যায়াম নিশ্চিত করা দরকার। শুধু ক্যালসিয়াম খেলেই হবে না, তা শোষণের জন্য শরীরে ভিটামিন-ডি ও ভিটামিন-K2 থাকা আবশ্যক, বিশেষ করে বয়স্কদের ঘরের পরিবেশ নিরাপদ রাখতে হবে। যেমন পিচ্ছিল মেঝে বা অগোছালো আসবাবপত্র এড়িয়ে চলা, যাতে পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙে না যায়। একবার হিপ জয়েন্ট বা শিরদাঁড়ার হাড় ভেঙে গেলে তা বয়স্কদের মৃত্যুঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত দুধ, ছোট মাছ, ডিম এবং সবুজ শাকসবজি খাওয়ার পাশাপাশি কায়িক পরিশ্রম অব্যাহত রাখা হাড়ের সুরক্ষার প্রধান উপায়।

লেখক : অর্থোপেডিক ট্রমা ও স্পাইন সার্জন এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে কী করবেন

আপডেট সময় ১১:০০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

অস্টিওপোরোসিস হলো হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। যার ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং অল্প আঘাতেই ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এটি বিশেষ করে বয়স্ক নারী-পুরুষের মধ্যে বেশি দেখা যায়। অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই হাড় ক্ষয় হতে থাকে।

তাই একে নীরব রোগও বলা হয়। হাড়ের ঘনত্ব মূলত কৈশোর ও তারুণ্যে বৃদ্ধি পায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঘনত্ব কমতে শুরু করে। ৪০ বছরের পর থেকে হাড় ক্ষয়ের হার বাড়ে। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ায় হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডির ঘাটতি, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং কিছু হরমোনজনিত রোগ অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

এই রোগে সাধারণত হঠাৎ উচ্চতা কমে যাওয়া, কোমর বা পিঠে ব্যথা এবং কবজি, শিরদাঁড়া বা নিতম্বে হাড় ভাঙার ঘটনা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই ফ্র্যাকচার হওয়ার আগে রোগী বুঝতেই পারেন না যে তাঁর হাড় দুর্বল হয়ে গেছে। অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটা বা ভার বহনকারী ব্যায়াম হাড়কে শক্তিশালী করে।

খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে। পর্যাপ্ত রোদে থাকার মাধ্যমে ভিটামিন-ডির ঘাটতি পূরণ করা যায়। ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করাও জরুরি। সচেতন জীবনযাপন ও সময়মতো ঝুঁকি চিহ্নিত করতে পারলেই অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

অস্টিওপোরোসিস নির্ণয়ে চিকিৎসকরা ‘ডেক্সা স্ক্যান’ নামক একটি পরীক্ষা করে থাকেন, যা হাড়ের ঘনত্বের সঠিক অবস্থা জানিয়ে দেয়। মানুষের হাড়ের সর্বোচ্চ ঘনত্ব বা ‘পিক বোন মাস’ অর্জিত হয় ৩০ বছর বয়সের মধ্যে। তাই এ সময়ের আগে থেকেই পর্যাপ্ত পুষ্টি ও ব্যায়াম নিশ্চিত করা দরকার। শুধু ক্যালসিয়াম খেলেই হবে না, তা শোষণের জন্য শরীরে ভিটামিন-ডি ও ভিটামিন-K2 থাকা আবশ্যক, বিশেষ করে বয়স্কদের ঘরের পরিবেশ নিরাপদ রাখতে হবে। যেমন পিচ্ছিল মেঝে বা অগোছালো আসবাবপত্র এড়িয়ে চলা, যাতে পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙে না যায়। একবার হিপ জয়েন্ট বা শিরদাঁড়ার হাড় ভেঙে গেলে তা বয়স্কদের মৃত্যুঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত দুধ, ছোট মাছ, ডিম এবং সবুজ শাকসবজি খাওয়ার পাশাপাশি কায়িক পরিশ্রম অব্যাহত রাখা হাড়ের সুরক্ষার প্রধান উপায়।

লেখক : অর্থোপেডিক ট্রমা ও স্পাইন সার্জন এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট।