ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের বর্ণবাদী ভিডিও বিতর্কে ‘রাজনীতির শালীনতা হারাচ্ছে’: ওবামা রামপুরায় গুলি ও হত্যা: হাবিবসহ ৫ আসামির রায় ৪ মার্চ ৩২ আসনে ভোট পুনঃগণনার দাবি জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য নির্বাচনের পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর: রাশিয়ার সিইসি ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগে সাবেক এমপিকে অবরুদ্ধ করে গাড়ি ভাঙচুর আদালতের নির্দেশে ছেলেদের সঙ্গে কথা বললেন ইমরান খান, দ্রুত চিকিৎসার দাবি পরিবারের সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় নারী নিহত, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ আজ ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামের বাসায় যাবেন তারেক রহমান চেক ডিজঅনার মামলায় এনসিপি নেতা ও সাংবাদিক আসাদুল্লাহ গ্রেফতার কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

অভিবাসন নীতি কঠোরে আইন করছে ইতালি

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

নতুন খসড়া আইন অনুমোদন করেছে ইতালির ডানপন্থী সরকার, যা অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করবে। এই আইনের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী জাহাজ আটকানো এবং নির্দিষ্ট শর্তে তাদের জলসীমায় প্রবেশ রোধ করার সুযোগ থাকবে।

অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলা ও অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার লক্ষ্যে দেশটির মন্ত্রিসভা ওই বিলে সবুজ সংকেত দিয়েছে। এই প্রস্তাবের অধীনে, জর্জিয়া মেলোনির সরকার যাকে ব্যতিক্রমী চাপ বলে উল্লেখ করেছে খসড়াটিতে, সেইসব ক্ষেত্রে অভিবাসী জাহাজগুলোকে ইতালির আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশে বাধা দেওয়া যেতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি বলে মনে করলে, সেই সংক্রান্ত নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

মধ্য-ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমনের ফলে সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে পড়া ইউরোপীয় দেশগুলোর অন্যতম ইতালি। প্রতি বছর হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী ইতালিতে পৌঁছান। এর ফলে সমুদ্রপথে পারাপার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মেলোনির সরকার।

বুধবার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। এই বিলটি আইন হিসাবে কার্যকর হওয়ার আগে সংসদের উভয় কক্ষে আলোচনা হবে। তারপর দুটি কক্ষেই সেটি অনুমোদন করতে হবে।

বিল পাস হলে অর্থাৎ আইন হিসাবে এটি কার্যকর হলে অভিবাসীদের ইতালিতে পা রাখার আগে আলবেনিয়ার কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় দাবি প্রক্রিয়াকরণের সরকারি পরিকল্পনা ফের চালু হতে পারে। বেশ কয়েকটি আদালতের রায়ে আলবেনিয়ায় আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ‘আউটসোর্সিং’ বন্ধ করে দেওয়ার পর সরকারের নেওয়া ওই উদ্যোগ আপাতত স্থগিত রয়েছে।

নতুন বিলে সমুদ্রে আটকে পড়া অভিবাসীদের এমন দেশগুলোতে স্থানান্তর করার কথাও বলা হয়েছে, অভিবাসী আটক বা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে রোমের সঙ্গে যাদের চুক্তি রয়েছে। যদি তাদের ইতালির জলসীমায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় তাহলেই স্থানান্তরের কথা ভাবা হবে।

নতুন অভিবাসন আইনের মধ্যে সীমান্তে কঠোর নজরদারি এবং ইউরোপীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সহযোগিতার কথা রয়েছে। অভিবাসন ও আশ্রয় সংক্রান্ত নতুন ইইউ চুক্তি অনুমোদনের একদিন পরই এই খসড়া আইন পাস হয়েছে। একে আইন হিসাবে দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে রোম।

আইনটি পাস হলে ইতালি কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট শর্তে সে দেশের আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসী জাহাজের উপর ‘নৌ-অবরোধ’ আরোপ করতে পারবে।

নতুন আইন পাস হলে ৩০ দিন পর্যন্ত ইতালির জলসীমায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে পারে কর্তৃপক্ষ। যেখানে অভিবাসী জাহাজ ‘জনগণ বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি’ তৈরি করে, যেমন ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশের সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি’ রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করলে জলসীমায় অভিবাসী জাহাজ প্রবেশ করতে পারবে না। নৌ-অবরোধ সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।

বিলটি আইনে পরিণত হলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে এই জাহাজগুলোকে আর ইতালির জলসীমায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কারণ তা সীমান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে।

যারা নিয়ম লঙ্ঘন করবে তাদের ৫০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা এবং বারবার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাদের নৌকা বাজেয়াপ্ত করা হবে। দাতব্য সংস্থার উদ্ধারকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সেক্ষেত্রে আটক অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ‘তাদের নিজের দেশ বা উৎপত্তিস্থল ছাড়া অন্য তৃতীয় দেশে পাঠানো যেতে পারে। অর্থাৎ যাদের সঙ্গে ইতালি নির্দিষ্ট চুক্তিতে প্রবেশ করেছে।’ ইনফোমাইগ্রেন্টস।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ট্রাম্পের বর্ণবাদী ভিডিও বিতর্কে ‘রাজনীতির শালীনতা হারাচ্ছে’: ওবামা

অভিবাসন নীতি কঠোরে আইন করছে ইতালি

আপডেট সময় ১১:১০:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

নতুন খসড়া আইন অনুমোদন করেছে ইতালির ডানপন্থী সরকার, যা অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করবে। এই আইনের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী জাহাজ আটকানো এবং নির্দিষ্ট শর্তে তাদের জলসীমায় প্রবেশ রোধ করার সুযোগ থাকবে।

অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলা ও অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার লক্ষ্যে দেশটির মন্ত্রিসভা ওই বিলে সবুজ সংকেত দিয়েছে। এই প্রস্তাবের অধীনে, জর্জিয়া মেলোনির সরকার যাকে ব্যতিক্রমী চাপ বলে উল্লেখ করেছে খসড়াটিতে, সেইসব ক্ষেত্রে অভিবাসী জাহাজগুলোকে ইতালির আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশে বাধা দেওয়া যেতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি বলে মনে করলে, সেই সংক্রান্ত নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

মধ্য-ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমনের ফলে সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে পড়া ইউরোপীয় দেশগুলোর অন্যতম ইতালি। প্রতি বছর হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী ইতালিতে পৌঁছান। এর ফলে সমুদ্রপথে পারাপার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মেলোনির সরকার।

বুধবার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। এই বিলটি আইন হিসাবে কার্যকর হওয়ার আগে সংসদের উভয় কক্ষে আলোচনা হবে। তারপর দুটি কক্ষেই সেটি অনুমোদন করতে হবে।

বিল পাস হলে অর্থাৎ আইন হিসাবে এটি কার্যকর হলে অভিবাসীদের ইতালিতে পা রাখার আগে আলবেনিয়ার কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় দাবি প্রক্রিয়াকরণের সরকারি পরিকল্পনা ফের চালু হতে পারে। বেশ কয়েকটি আদালতের রায়ে আলবেনিয়ায় আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ‘আউটসোর্সিং’ বন্ধ করে দেওয়ার পর সরকারের নেওয়া ওই উদ্যোগ আপাতত স্থগিত রয়েছে।

নতুন বিলে সমুদ্রে আটকে পড়া অভিবাসীদের এমন দেশগুলোতে স্থানান্তর করার কথাও বলা হয়েছে, অভিবাসী আটক বা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে রোমের সঙ্গে যাদের চুক্তি রয়েছে। যদি তাদের ইতালির জলসীমায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় তাহলেই স্থানান্তরের কথা ভাবা হবে।

নতুন অভিবাসন আইনের মধ্যে সীমান্তে কঠোর নজরদারি এবং ইউরোপীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সহযোগিতার কথা রয়েছে। অভিবাসন ও আশ্রয় সংক্রান্ত নতুন ইইউ চুক্তি অনুমোদনের একদিন পরই এই খসড়া আইন পাস হয়েছে। একে আইন হিসাবে দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে রোম।

আইনটি পাস হলে ইতালি কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট শর্তে সে দেশের আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসী জাহাজের উপর ‘নৌ-অবরোধ’ আরোপ করতে পারবে।

নতুন আইন পাস হলে ৩০ দিন পর্যন্ত ইতালির জলসীমায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে পারে কর্তৃপক্ষ। যেখানে অভিবাসী জাহাজ ‘জনগণ বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি’ তৈরি করে, যেমন ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশের সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি’ রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করলে জলসীমায় অভিবাসী জাহাজ প্রবেশ করতে পারবে না। নৌ-অবরোধ সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।

বিলটি আইনে পরিণত হলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে এই জাহাজগুলোকে আর ইতালির জলসীমায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কারণ তা সীমান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে।

যারা নিয়ম লঙ্ঘন করবে তাদের ৫০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা এবং বারবার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাদের নৌকা বাজেয়াপ্ত করা হবে। দাতব্য সংস্থার উদ্ধারকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সেক্ষেত্রে আটক অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ‘তাদের নিজের দেশ বা উৎপত্তিস্থল ছাড়া অন্য তৃতীয় দেশে পাঠানো যেতে পারে। অর্থাৎ যাদের সঙ্গে ইতালি নির্দিষ্ট চুক্তিতে প্রবেশ করেছে।’ ইনফোমাইগ্রেন্টস।