ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে: ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেছেন, ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য এবং দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে; যা গণতান্ত্রিক শাসন এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করে।

আজ শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পর্যবেক্ষক মিশনের প্রাথমিক রিপোর্ট তুলে ধরার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ইভার্স ইজাবস বলেন, ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো, নির্বাচন সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক ছিল, একটি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়েছিল; যা মূলত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে মর্যাদাপূর্ণ করে। বিক্ষিপ্ত স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতা, যাইহোক না কেন, প্রায়শই ম্যানিপুলেটেড অনলাইন আখ্যান দ্বারা সৃষ্ট হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্থ করে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে ও স্বচ্ছভাবে স্টেকহোল্ডারদের আস্থা বজায় রেখে এবং নির্বাচনের অখণ্ডতা সমুন্নত রেখে কাজ করেছে। মিশনটি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, নির্বাচনী আইনি কাঠামো গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনার জন্য পরিচালিত হয় এবং ২০২৫ সালের সংশোধনী অন্তর্ভুক্তি এবং বিশ্বাসযোগ্যতাকে শক্তিশালী করে। আইনি নিশ্চয়তা বাড়ানোর জন্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা হ্রাস করে এমন ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করার জন্য আরও সংস্কার প্রয়োজন।

ইইউ মিশনের প্রধান বলেন, আমরা দেখেছি, সদ্য নিযুক্ত নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য একটি সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে এবং আমরা লক্ষ্য করেছি, অন্তর্বর্তী সরকার এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা কমিশনকে যে সমর্থন দিয়েছিলেন কমিশন স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছে, সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের দ্রুত জবাব দিয়েছে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য ভাগ করে নিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছে।

ইভার্স ইজাবস বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষকরা সবার কাছে কথা বলেছে। নারীরা জুলাই অভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন৷ কিন্তু ২১ মাস পরে নারীরা ইনভিজিবল। মাত্র ৪ শতাংশ নারীদের দেখা গেছে। ডিজিটাল হয়রানি, বৈষম্য হয়েছে নারীদের সাথে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণও ডিসএপয়েন্টিং। নারী প্রার্থীদের হয়রানি করা হয়েছে ডিজিটাল মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চায় শারীরিক বা ডিজিটাল কোনোভাবেই নারীদের হয়রানির সুযোগ নেই। গণমাধ্যম সংস্কারের বিষয়টিও এখনও ভারনারেবল। ৮১ জন ইউরোপীয় নাগরিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে।

ইভার্স ইজাবস আরও বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক চর্চা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিবার্চনে ভালোভাবে নির্বাচন আয়োজন করেছে। যদিও নারীদের সাথে এখনও নতুন সরকারের মানবাধিকার এবং জবাবদিহিতার নিশ্চিতে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক নেতাদের ধৈর্য এবং শান্ত ব্যবহারকে আমরা স্বাগত জানাই।

ইইউ প্রধান বলেন, সব দেশেই কিছু স্পর্শকাতর ঘটনা আছে। কিন্তু সবকিছু নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন গণভোট পর্যবেক্ষণ করছে না। আমরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এসেছি।

অংশগ্রহণ মানে সব রাজনৈতিক সামাজিক দলের অংশগ্রহণ। ভোটের হার বড় ইস্যু না। ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশ এখনই ছাড়ছে না। প্রাথমিক প্রতিবেদন এখন দিচ্ছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হার্ট অ্যাটাকে হাসপাতালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছখ্যাত বিজয়

নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে: ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন

আপডেট সময় ০১:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেছেন, ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য এবং দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে; যা গণতান্ত্রিক শাসন এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করে।

আজ শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পর্যবেক্ষক মিশনের প্রাথমিক রিপোর্ট তুলে ধরার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ইভার্স ইজাবস বলেন, ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো, নির্বাচন সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক ছিল, একটি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়েছিল; যা মূলত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে মর্যাদাপূর্ণ করে। বিক্ষিপ্ত স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতা, যাইহোক না কেন, প্রায়শই ম্যানিপুলেটেড অনলাইন আখ্যান দ্বারা সৃষ্ট হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্থ করে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে ও স্বচ্ছভাবে স্টেকহোল্ডারদের আস্থা বজায় রেখে এবং নির্বাচনের অখণ্ডতা সমুন্নত রেখে কাজ করেছে। মিশনটি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, নির্বাচনী আইনি কাঠামো গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনার জন্য পরিচালিত হয় এবং ২০২৫ সালের সংশোধনী অন্তর্ভুক্তি এবং বিশ্বাসযোগ্যতাকে শক্তিশালী করে। আইনি নিশ্চয়তা বাড়ানোর জন্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা হ্রাস করে এমন ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করার জন্য আরও সংস্কার প্রয়োজন।

ইইউ মিশনের প্রধান বলেন, আমরা দেখেছি, সদ্য নিযুক্ত নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য একটি সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে এবং আমরা লক্ষ্য করেছি, অন্তর্বর্তী সরকার এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা কমিশনকে যে সমর্থন দিয়েছিলেন কমিশন স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছে, সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের দ্রুত জবাব দিয়েছে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য ভাগ করে নিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছে।

ইভার্স ইজাবস বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষকরা সবার কাছে কথা বলেছে। নারীরা জুলাই অভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন৷ কিন্তু ২১ মাস পরে নারীরা ইনভিজিবল। মাত্র ৪ শতাংশ নারীদের দেখা গেছে। ডিজিটাল হয়রানি, বৈষম্য হয়েছে নারীদের সাথে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণও ডিসএপয়েন্টিং। নারী প্রার্থীদের হয়রানি করা হয়েছে ডিজিটাল মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চায় শারীরিক বা ডিজিটাল কোনোভাবেই নারীদের হয়রানির সুযোগ নেই। গণমাধ্যম সংস্কারের বিষয়টিও এখনও ভারনারেবল। ৮১ জন ইউরোপীয় নাগরিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে।

ইভার্স ইজাবস আরও বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক চর্চা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিবার্চনে ভালোভাবে নির্বাচন আয়োজন করেছে। যদিও নারীদের সাথে এখনও নতুন সরকারের মানবাধিকার এবং জবাবদিহিতার নিশ্চিতে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক নেতাদের ধৈর্য এবং শান্ত ব্যবহারকে আমরা স্বাগত জানাই।

ইইউ প্রধান বলেন, সব দেশেই কিছু স্পর্শকাতর ঘটনা আছে। কিন্তু সবকিছু নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন গণভোট পর্যবেক্ষণ করছে না। আমরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এসেছি।

অংশগ্রহণ মানে সব রাজনৈতিক সামাজিক দলের অংশগ্রহণ। ভোটের হার বড় ইস্যু না। ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশ এখনই ছাড়ছে না। প্রাথমিক প্রতিবেদন এখন দিচ্ছি।