ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রমজানে আল-আকসায় মুসলিমদের প্রবেশ সীমিত করবে দখলদার ইসরাইল

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের প্রবেশাধিকার সংকুচিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে দখলদার ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।

জেরুজালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি এবং সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান শেখ ইকরিমা সাবরি আনাদোলু নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে রমজান শুরু হতে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে শেখ সাবরি জানান, দখলদার কর্তৃপক্ষ ইবাদতকারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইলের উগ্র-ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই জানুয়ারির শুরুতে পূর্ব জেরুজালেমে নতুন পুলিশ কমান্ডার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পবিত্র এই স্থানটিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলাই ইসরাইলি প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

প্রতি বছর রমজানে পশ্চিম তীরের লাখ লাখ ফিলিস্তিনি আল-আকসায় নামাজ আদায় করতে আসলেও, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সেখানে কঠোর সামরিক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

শেখ সাবরি জানান, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে শত শত ফিলিস্তিনি যুবককে মসজিদে প্রবেশে বাধা প্রদান করেছে এবং পশ্চিম তীর থেকে আসা ইবাদতকারীদের জন্য কোনো বিশেষ শিথিলতার ঘোষণা দেয়নি। এর ফলে গত বছরগুলোর তুলনায় এবার মুসল্লির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা ধর্মীয় স্বাধীনতার সরাসরি লঙ্ঘন।

কেবল প্রবেশাধিকার সীমিত করাই নয়, ইসরাইলি সরকার আল-আকসার দীর্ঘদিনের ‘স্থিতাবস্থা’ পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ২০০৩ সাল থেকে ইসরাইলি পুলিশ উগ্রপন্থিদের জোরপূর্বক মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে আসছে।

শেখ সাবরি সতর্ক করে বলেন, কট্টরপন্থি ইসরাইলি সরকার এখন এই পবিত্র স্থানের ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রকাশ্য চেষ্টা চালাচ্ছে এবং ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা হ্রাসের পরিকল্পনা করছে।

এর পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও ধ্বংসের নীতির সমালোচনা করে একে ‘বর্ণবাদী ও অমানবিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন সাবেক এই গ্র্যান্ড মুফতি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি বিশ্বের মুসলিম নেতাদের আল-আকসা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের রক্ষায় নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

রমজানে আল-আকসায় মুসলিমদের প্রবেশ সীমিত করবে দখলদার ইসরাইল

আপডেট সময় ০১:০০:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের প্রবেশাধিকার সংকুচিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে দখলদার ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।

জেরুজালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি এবং সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান শেখ ইকরিমা সাবরি আনাদোলু নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে রমজান শুরু হতে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে শেখ সাবরি জানান, দখলদার কর্তৃপক্ষ ইবাদতকারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইলের উগ্র-ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই জানুয়ারির শুরুতে পূর্ব জেরুজালেমে নতুন পুলিশ কমান্ডার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পবিত্র এই স্থানটিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলাই ইসরাইলি প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

প্রতি বছর রমজানে পশ্চিম তীরের লাখ লাখ ফিলিস্তিনি আল-আকসায় নামাজ আদায় করতে আসলেও, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সেখানে কঠোর সামরিক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

শেখ সাবরি জানান, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে শত শত ফিলিস্তিনি যুবককে মসজিদে প্রবেশে বাধা প্রদান করেছে এবং পশ্চিম তীর থেকে আসা ইবাদতকারীদের জন্য কোনো বিশেষ শিথিলতার ঘোষণা দেয়নি। এর ফলে গত বছরগুলোর তুলনায় এবার মুসল্লির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা ধর্মীয় স্বাধীনতার সরাসরি লঙ্ঘন।

কেবল প্রবেশাধিকার সীমিত করাই নয়, ইসরাইলি সরকার আল-আকসার দীর্ঘদিনের ‘স্থিতাবস্থা’ পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ২০০৩ সাল থেকে ইসরাইলি পুলিশ উগ্রপন্থিদের জোরপূর্বক মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে আসছে।

শেখ সাবরি সতর্ক করে বলেন, কট্টরপন্থি ইসরাইলি সরকার এখন এই পবিত্র স্থানের ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রকাশ্য চেষ্টা চালাচ্ছে এবং ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা হ্রাসের পরিকল্পনা করছে।

এর পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও ধ্বংসের নীতির সমালোচনা করে একে ‘বর্ণবাদী ও অমানবিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন সাবেক এই গ্র্যান্ড মুফতি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি বিশ্বের মুসলিম নেতাদের আল-আকসা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের রক্ষায় নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।