ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার: প্রেস সচিব শুক্রবার সংঘর্ষে ১৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন : ডিএমপি কমিশনার নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে ৫১৯ জন ঋণগ্রহীতা, বেশি বিএনপির আমিও এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য: জামায়াত আমির হামাসের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডিং বন্ধ: পেন্টাগন বাংলাদেশকে ছাড়া বিশ্বকাপ অপূর্ণ একটি দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে: মাহদী আমিন শাহবাগ এলাকায় পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ: তারেক রহমান মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গুলিতে আহত সেই শিশুকে বাঁচানো গেল না

নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে ৫১৯ জন ঋণগ্রহীতা, বেশি বিএনপির

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট ২০২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫১৯ জন অর্থাৎ ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশই ঋণগ্রহীতা। তাদের মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন ৭৫ জন, যা মোট প্রার্থীর ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সর্বোচ্চ ঋণগ্রহীতা প্রার্থী রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি), যার সংখ্যা ১৬৭ জন এবং মোট প্রার্থীর ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হার ছিল ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার তা কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৯৩ শতাংশে।

সুজনের সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার।

সুজনের তথ্যে জানানো হয়, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই স্বল্প আয়ের। প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮৩২ জনেরই বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার নিচে, যা শতকরা হিসাবে ৪১ শতাংশ। আর ৯৫ জনের আয় এক কোটি টাকার বেশি।

নির্বাচনে শীর্ষ আয়কারীদের তালিকাও তুলে ধরা হয়েছে সুজনের তথ্যে। সুজন জানিয়েছে, ৭৪১ জন প্রার্থীর আয় ৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা। ২৫ লাখের বেশি থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ১৩২ জন। ৭১ জনের আয় ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে। হলফনামায় আয়ের ঘর পূরণ করেননি এমন প্রার্থীর সংখ্যা ১৫৫ জন।

সুজনের তথ্য বলছে, বছরে কোটি টাকার বেশি আয় করেন এমন প্রার্থীদের মধ্যে ৫১ জনই বিএনপির। ২৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ৫ জন জাতীয় পার্টি মনোনীত।

বিশ্লেষণে সুজন দেখিয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় কোটি টাকার বেশি আয়ের প্রার্থী এবং ৫ লাখ টাকার কম আয়ের প্রার্থীর হার সংখ্যা কিছুটা কমেছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হার ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং ৪৫ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে তা যথাক্রমে ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ ও ৪১ শতাংশ।

নির্বাচনে শীর্ষ আয়কারীদের তালিকাও তুলে ধরা হয়েছে সুজনের তথ্যে। এ তালিকায় ৬ জনই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। তিনজন স্বতন্ত্র ও একজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা–৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে টাঙ্গাইল–১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আসাদুল ইসলাম। তাঁর আয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা। প্রায় ১৯ কোটি টাকা বার্ষিক আয় নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে আছেন লক্ষ্মীপুর–১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জাকির হোসেন পাটওয়ারী।

তালিকায় চতুর্থ বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তাঁর আয় ৯ কোটি টাকার বেশি। ৮ কোটি টাকার বেশি আয় নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে আছেন টাঙ্গাইল–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর।

তালিকায় থাকা বাকি পাঁচজন হলেন যথাক্রমে কক্সবাজার–১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ, কুমিল্লা–৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিন, নেত্রকোনা–১ আসনের বিএনপির প্রার্থী কায়সার কামাল, চট্টগ্রাম–১৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী এবং কুমিল্লা–৭ আসনের বিএনপির প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদ। তাঁদের সবার আয় চার থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকার মধ্যে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার: প্রেস সচিব

নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে ৫১৯ জন ঋণগ্রহীতা, বেশি বিএনপির

আপডেট সময় ০৩:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট ২০২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫১৯ জন অর্থাৎ ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশই ঋণগ্রহীতা। তাদের মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন ৭৫ জন, যা মোট প্রার্থীর ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সর্বোচ্চ ঋণগ্রহীতা প্রার্থী রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি), যার সংখ্যা ১৬৭ জন এবং মোট প্রার্থীর ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হার ছিল ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার তা কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৯৩ শতাংশে।

সুজনের সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার।

সুজনের তথ্যে জানানো হয়, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই স্বল্প আয়ের। প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮৩২ জনেরই বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার নিচে, যা শতকরা হিসাবে ৪১ শতাংশ। আর ৯৫ জনের আয় এক কোটি টাকার বেশি।

নির্বাচনে শীর্ষ আয়কারীদের তালিকাও তুলে ধরা হয়েছে সুজনের তথ্যে। সুজন জানিয়েছে, ৭৪১ জন প্রার্থীর আয় ৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা। ২৫ লাখের বেশি থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ১৩২ জন। ৭১ জনের আয় ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে। হলফনামায় আয়ের ঘর পূরণ করেননি এমন প্রার্থীর সংখ্যা ১৫৫ জন।

সুজনের তথ্য বলছে, বছরে কোটি টাকার বেশি আয় করেন এমন প্রার্থীদের মধ্যে ৫১ জনই বিএনপির। ২৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ৫ জন জাতীয় পার্টি মনোনীত।

বিশ্লেষণে সুজন দেখিয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় কোটি টাকার বেশি আয়ের প্রার্থী এবং ৫ লাখ টাকার কম আয়ের প্রার্থীর হার সংখ্যা কিছুটা কমেছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হার ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং ৪৫ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে তা যথাক্রমে ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ ও ৪১ শতাংশ।

নির্বাচনে শীর্ষ আয়কারীদের তালিকাও তুলে ধরা হয়েছে সুজনের তথ্যে। এ তালিকায় ৬ জনই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। তিনজন স্বতন্ত্র ও একজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা–৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে টাঙ্গাইল–১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আসাদুল ইসলাম। তাঁর আয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা। প্রায় ১৯ কোটি টাকা বার্ষিক আয় নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে আছেন লক্ষ্মীপুর–১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জাকির হোসেন পাটওয়ারী।

তালিকায় চতুর্থ বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তাঁর আয় ৯ কোটি টাকার বেশি। ৮ কোটি টাকার বেশি আয় নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে আছেন টাঙ্গাইল–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর।

তালিকায় থাকা বাকি পাঁচজন হলেন যথাক্রমে কক্সবাজার–১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ, কুমিল্লা–৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিন, নেত্রকোনা–১ আসনের বিএনপির প্রার্থী কায়সার কামাল, চট্টগ্রাম–১৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী এবং কুমিল্লা–৭ আসনের বিএনপির প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদ। তাঁদের সবার আয় চার থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকার মধ্যে।