ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে ৫১৯ জন ঋণগ্রহীতা, বেশি বিএনপির আমিও এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য: জামায়াত আমির হামাসের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডিং বন্ধ: পেন্টাগন বাংলাদেশকে ছাড়া বিশ্বকাপ অপূর্ণ একটি দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে: মাহদী আমিন শাহবাগ এলাকায় পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ: তারেক রহমান মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গুলিতে আহত সেই শিশুকে বাঁচানো গেল না ইসলামাবাদে মসজিদে হামলার দায় স্বীকার করলো আইএস ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভায় জনস্রোত

হামাসের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডিং বন্ধ: পেন্টাগন

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের সব প্রকার সামরিক প্রশিক্ষণ, ফেলোশিপ এবং সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে হার্ভার্ডের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘ভয়াবহ’ এবং ‘উদারপন্থি উগ্রবাদ’ দ্বারা আক্রান্ত বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে হেগসেথ স্পষ্ট করেন যে পেন্টাগনের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো সামরিক বাহিনীকে এমন রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রভাব থেকে দূরে রাখা যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সহায়ক নয়।

পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্তের ফলে হার্ভার্ডের কেনেডি স্কুল এবং বিজনেস স্কুলে চলমান বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফেলোস প্রোগ্রাম’, যেখানে সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিতেন।

হেগসেথ অভিযোগ করেছেন যে হার্ভার্ড ক্যাম্পাস এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে যেখানে মার্কিন সেনাবাহিনীর গৌরব উজ্জ্বল করার পরিবর্তে সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয় এবং প্রথাগত মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটানো হয়। এছাড়া গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে গড়ে ওঠা হামাসপন্থি আন্দোলন এবং ইহুদিবিদ্বেষ দমনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাকেও এই বিচ্ছেদের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, দশকের পর দশক ধরে সামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা জাতীয় প্রতিরক্ষায় বড় অবদান রেখে আসছিল।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং পেন্টাগনের অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা হার্ভার্ডের জন্য কেবল মর্যাদাহানিই নয়, বরং বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতিরও কারণ হতে পারে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর সরকারের এই চাপ প্রয়োগকে একটি নতুন ‘সংস্কৃতি যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে ৫১৯ জন ঋণগ্রহীতা, বেশি বিএনপির

হামাসের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডিং বন্ধ: পেন্টাগন

আপডেট সময় ০২:৩৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের সব প্রকার সামরিক প্রশিক্ষণ, ফেলোশিপ এবং সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে হার্ভার্ডের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘ভয়াবহ’ এবং ‘উদারপন্থি উগ্রবাদ’ দ্বারা আক্রান্ত বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে হেগসেথ স্পষ্ট করেন যে পেন্টাগনের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো সামরিক বাহিনীকে এমন রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রভাব থেকে দূরে রাখা যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সহায়ক নয়।

পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্তের ফলে হার্ভার্ডের কেনেডি স্কুল এবং বিজনেস স্কুলে চলমান বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফেলোস প্রোগ্রাম’, যেখানে সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিতেন।

হেগসেথ অভিযোগ করেছেন যে হার্ভার্ড ক্যাম্পাস এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে যেখানে মার্কিন সেনাবাহিনীর গৌরব উজ্জ্বল করার পরিবর্তে সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয় এবং প্রথাগত মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটানো হয়। এছাড়া গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে গড়ে ওঠা হামাসপন্থি আন্দোলন এবং ইহুদিবিদ্বেষ দমনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাকেও এই বিচ্ছেদের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, দশকের পর দশক ধরে সামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা জাতীয় প্রতিরক্ষায় বড় অবদান রেখে আসছিল।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং পেন্টাগনের অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা হার্ভার্ডের জন্য কেবল মর্যাদাহানিই নয়, বরং বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতিরও কারণ হতে পারে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর সরকারের এই চাপ প্রয়োগকে একটি নতুন ‘সংস্কৃতি যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।