ঢাকা ১২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে পতন সিজারিয়ান সংস্কৃতি কমিয়ে স্বাভাবিক প্রসবে জোর দিচ্ছে সরকার : স্বাস্থ্যমন্ত্রী গৌরনদীতে একযোগে আড়াইহাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী চুক্তির কাছাকাছি ছিলাম, এমন সময় ইরান হঠাৎ জাহাজে হামলা করল: ট্রাম্প সরকার সবসময় দুর্গত মানুষের পাশে আছে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী একটি মহলের অতি লোভের কারণে ইসলাম বিজয়ী হয়নি: চরমোনাই পীর ২৫ বছরের আগে পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধা পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা চলতি বছরেই প্রতি উপজেলা হাসপাতালে স্থাপন হবে ক্যাথ ল্যাব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ

নির্বাচনে বিএনপিকে জনগণ লাল কার্ড দেখাবে: জামায়াত আমির

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে জনগণ লাল কার্ড দেখাবে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশ একটি নতুন বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু করবে, যেখানে থাকবে ন্যায়, ইনসাফ ও জবাবদিহিভিত্তিক শাসনব্যবস্থা।

সোমবার (২ ফেব্রয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকালে তিনি মহেশখালী উপজেলায় পৃথক আরেকটি জনসভায় অংশ নেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজার ছেলে রাজা হবে—এই রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই। এ দেশে এমপি, মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী—যেই হোক না কেন, অপরাধ করলে তার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইন সবার জন্য সমান—এই নীতিই আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

তিনি বলেন, কক্সবাজার একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ, পর্যটন এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে এই জেলা দেশের অন্যতম উন্নয়নকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। তবে তার জন্য প্রয়োজন সৎ, যোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব।

নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা নিজেরা হ্যাঁ ভোট দেব এবং দেশের জনগণকেও হ্যাঁ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করব। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে কক্সবাজার আলোকিত হবে।

তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের নয়, এটি জাতির দিক পরিবর্তনের নির্বাচন।

তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন। এটি মা-বোনদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে নারীরা নিরাপদ থাকবে, তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কথা দিয়ে কথা রাখি। আমরা বেঁচে থাকলে কোনো ওয়াদা ভঙ্গ হবে না, ইনশাআল্লাহ। এ সময় তিনি জনসভায় উপস্থিত জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

যুব সমাজকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তোমরা প্রস্তুত হয়ে যাও। এই বাংলাদেশ তোমাদের জন্যই তৈরি করা হচ্ছে। নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য, দেশ গড়ার জন্য তোমাদেরই সামনে আসতে হবে।

এর আগে মহেশখালীর জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, আমরা শুধু জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমরা চাই এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। জনগণের বিজয় হলেই সেটাই হবে প্রকৃত বিজয়, আমিও সেই বিজয়ের একজন অংশীদার হতে চাই।

সোমবার সকাল ১০টায় কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। জেলা জামায়াত সভাপতি অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক, কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর, কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মাহমুদা মিতু, জাগপার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মো. সিগবাতুল্লাহ সিফাত এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো. পারভেজ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে বিএনপিকে জনগণ লাল কার্ড দেখাবে: জামায়াত আমির

আপডেট সময় ০৪:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে জনগণ লাল কার্ড দেখাবে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশ একটি নতুন বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু করবে, যেখানে থাকবে ন্যায়, ইনসাফ ও জবাবদিহিভিত্তিক শাসনব্যবস্থা।

সোমবার (২ ফেব্রয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকালে তিনি মহেশখালী উপজেলায় পৃথক আরেকটি জনসভায় অংশ নেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজার ছেলে রাজা হবে—এই রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই। এ দেশে এমপি, মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী—যেই হোক না কেন, অপরাধ করলে তার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইন সবার জন্য সমান—এই নীতিই আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

তিনি বলেন, কক্সবাজার একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ, পর্যটন এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে এই জেলা দেশের অন্যতম উন্নয়নকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। তবে তার জন্য প্রয়োজন সৎ, যোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব।

নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা নিজেরা হ্যাঁ ভোট দেব এবং দেশের জনগণকেও হ্যাঁ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করব। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে কক্সবাজার আলোকিত হবে।

তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের নয়, এটি জাতির দিক পরিবর্তনের নির্বাচন।

তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন। এটি মা-বোনদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে নারীরা নিরাপদ থাকবে, তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কথা দিয়ে কথা রাখি। আমরা বেঁচে থাকলে কোনো ওয়াদা ভঙ্গ হবে না, ইনশাআল্লাহ। এ সময় তিনি জনসভায় উপস্থিত জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

যুব সমাজকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তোমরা প্রস্তুত হয়ে যাও। এই বাংলাদেশ তোমাদের জন্যই তৈরি করা হচ্ছে। নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য, দেশ গড়ার জন্য তোমাদেরই সামনে আসতে হবে।

এর আগে মহেশখালীর জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, আমরা শুধু জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমরা চাই এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। জনগণের বিজয় হলেই সেটাই হবে প্রকৃত বিজয়, আমিও সেই বিজয়ের একজন অংশীদার হতে চাই।

সোমবার সকাল ১০টায় কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। জেলা জামায়াত সভাপতি অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক, কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর, কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মাহমুদা মিতু, জাগপার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মো. সিগবাতুল্লাহ সিফাত এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো. পারভেজ।