ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ভারতের সঙ্গে চুক্তি করায় ইউরোপের ওপর ক্ষেপেছে যুক্তরাষ্ট্র

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন বাণিজ্য চুক্তিকে কেন্দ্র করে সরাসরি ইউরোপের নেতৃত্বকে আক্রমণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ভারতের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে ভূরাজনীতির চেয়ে বাণিজ্যকেই অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদ্য স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কড়া সমালোচনা করে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নিজেদের ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের বাস্তব সিদ্ধান্তের গভীর বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বেসেন্টের মতে, ভূরাজনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার চেয়ে অর্থনৈতিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ইউরোপ।

মার্কিন গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, যেকোনও দেশই নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ অনুসরণ করতেই পারে, তবে (ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে) ইউরোপের সিদ্ধান্ত ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তাদের নীতিগত অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

তিনি বলেন, ইউরোপ ও ভারতের মধ্যে এই বিশাল বাণিজ্য চুক্তি কি আমেরিকার জন্য হুমকি? না। তারা নিজেদের জন্য যা ভালো মনে করে, সেটাই করুক। কিন্তু ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সামনের সারিতে থেকেও ইউরোপ যেসব কাজ করছে, তা হতাশাজনক।

বেসেন্ট অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো পরোক্ষভাবে এমন যুদ্ধেই অর্থ জোগাচ্ছে, যার নিন্দা তারা প্রকাশ্যে করে থাকে। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলেও ভারত ডিসকাউন্টে ব্যাপক হারে রুশ অপরিশোধিত তেল কিনতে শুরু করে। বেসেন্টের অভিযোগ, সেই তেল পরিশোধন হয়ে ইউরোপেই ব্যাপকভাবে বিক্রি করছে ভারত।

তিনি বলেন, ভারত নিষেধাজ্ঞাভুক্ত রুশ তেল কিনতে শুরু করল, আর জানেন কে সেই তেল থেকে তৈরি পণ্য কিনল? ইউরোপ। অর্থাৎ ইউরোপ নিজের বিরুদ্ধেই যুদ্ধের অর্থ জুগিয়েছে, এমন গল্প কেউ বানিয়েও বলতে পারত না।

বেসেন্ট জানান, রুশ তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, কিন্তু ইউরোপ সেই পথে হাঁটেনি। তার মতে, ইউরোপ ইচ্ছাকৃতভাবেই সেই সিদ্ধান্ত এড়িয়েছে, যাতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা ব্যাহত না হয়।

তিনি বলেন, ইউরোপ (ভারতের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এই পদক্ষেপে) আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে চায়নি, কারণ তারা এই বাণিজ্য চুক্তি করতে চেয়েছিল। যখনই ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনের জনগণের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন, মনে রাখতে হবে— তারা ইউক্রেনের মানুষের চেয়ে বাণিজ্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। যুদ্ধ থামানোর চেয়ে ইউরোপীয় বাণিজ্য তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ভারতের সঙ্গে চুক্তি করায় ইউরোপের ওপর ক্ষেপেছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ১১:৪০:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন বাণিজ্য চুক্তিকে কেন্দ্র করে সরাসরি ইউরোপের নেতৃত্বকে আক্রমণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ভারতের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে ভূরাজনীতির চেয়ে বাণিজ্যকেই অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদ্য স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কড়া সমালোচনা করে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নিজেদের ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের বাস্তব সিদ্ধান্তের গভীর বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বেসেন্টের মতে, ভূরাজনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার চেয়ে অর্থনৈতিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ইউরোপ।

মার্কিন গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, যেকোনও দেশই নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ অনুসরণ করতেই পারে, তবে (ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে) ইউরোপের সিদ্ধান্ত ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তাদের নীতিগত অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

তিনি বলেন, ইউরোপ ও ভারতের মধ্যে এই বিশাল বাণিজ্য চুক্তি কি আমেরিকার জন্য হুমকি? না। তারা নিজেদের জন্য যা ভালো মনে করে, সেটাই করুক। কিন্তু ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সামনের সারিতে থেকেও ইউরোপ যেসব কাজ করছে, তা হতাশাজনক।

বেসেন্ট অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো পরোক্ষভাবে এমন যুদ্ধেই অর্থ জোগাচ্ছে, যার নিন্দা তারা প্রকাশ্যে করে থাকে। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলেও ভারত ডিসকাউন্টে ব্যাপক হারে রুশ অপরিশোধিত তেল কিনতে শুরু করে। বেসেন্টের অভিযোগ, সেই তেল পরিশোধন হয়ে ইউরোপেই ব্যাপকভাবে বিক্রি করছে ভারত।

তিনি বলেন, ভারত নিষেধাজ্ঞাভুক্ত রুশ তেল কিনতে শুরু করল, আর জানেন কে সেই তেল থেকে তৈরি পণ্য কিনল? ইউরোপ। অর্থাৎ ইউরোপ নিজের বিরুদ্ধেই যুদ্ধের অর্থ জুগিয়েছে, এমন গল্প কেউ বানিয়েও বলতে পারত না।

বেসেন্ট জানান, রুশ তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, কিন্তু ইউরোপ সেই পথে হাঁটেনি। তার মতে, ইউরোপ ইচ্ছাকৃতভাবেই সেই সিদ্ধান্ত এড়িয়েছে, যাতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা ব্যাহত না হয়।

তিনি বলেন, ইউরোপ (ভারতের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এই পদক্ষেপে) আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে চায়নি, কারণ তারা এই বাণিজ্য চুক্তি করতে চেয়েছিল। যখনই ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনের জনগণের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন, মনে রাখতে হবে— তারা ইউক্রেনের মানুষের চেয়ে বাণিজ্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। যুদ্ধ থামানোর চেয়ে ইউরোপীয় বাণিজ্য তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।