ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি বিএনপি নেতার মৃত্যু, অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার রাজধানীর তিন পয়েন্ট অবরোধের ঘোষণা সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের

ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। এরই মধ্যে দেশটির প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভ। অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ হঠাৎ করেই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ইরান সরকারের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের উসকানি ও মদত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের বদলে নির্বিচারে সরকারি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। এছাড়াও তারা দেশটির অন্তত অর্ধশতাধিক মসজিদে আগুন দিয়েছে। ধ্বংস করেছে ১৮০ অ্যাম্বুলেন্স।

সোমবার তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে মোট ৫৩টি মসজিদ ও ১৮০টি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়া হয়েছে। তার মতে, কোনও ইরানি কখনও মসজিদে হামলা চালাতে পারে না।

গত সপ্তাহে তেহরানের আবুজার মসজিদের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরা প্রায় এক ডজন ব্যক্তি মসজিদটি তছনছ করছে, বইপত্র মেঝেতে ছুড়ে ফেলছে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, গত ৯ জানুয়ারি মসজিদটিতে আগুন দেওয়া হয়।

এদিকে সোমবার সরকারের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছেন লাখ লাখ ইরানি। দেশটির প্রধান শহরগুলোতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা যেমন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, তেমনি ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের’ বিরুদ্ধেও স্লোগান দিয়েছেন তারা।

ইরানের বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই দেশটির সরকারকে উদ্দেশ্য করে একের পর এক ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে ‘বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে’ তিনি সেখানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন। জবাবে ইরানও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে।

তবে এই বাগযুদ্ধের মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, “আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের (স্টিভ উইটকফ) মধ্যে যোগাযোগের চ্যানেল খোলা রয়েছে। প্রয়োজন হলে বার্তা আদান-প্রদানও করা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওজন কমানোর ইনজেকশনে স্বাস্থ্য ঝুঁকি হতে পারে: ইউসিএল

ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা

আপডেট সময় ০৮:৪০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। এরই মধ্যে দেশটির প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভ। অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ হঠাৎ করেই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ইরান সরকারের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের উসকানি ও মদত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের বদলে নির্বিচারে সরকারি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। এছাড়াও তারা দেশটির অন্তত অর্ধশতাধিক মসজিদে আগুন দিয়েছে। ধ্বংস করেছে ১৮০ অ্যাম্বুলেন্স।

সোমবার তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে মোট ৫৩টি মসজিদ ও ১৮০টি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়া হয়েছে। তার মতে, কোনও ইরানি কখনও মসজিদে হামলা চালাতে পারে না।

গত সপ্তাহে তেহরানের আবুজার মসজিদের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরা প্রায় এক ডজন ব্যক্তি মসজিদটি তছনছ করছে, বইপত্র মেঝেতে ছুড়ে ফেলছে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, গত ৯ জানুয়ারি মসজিদটিতে আগুন দেওয়া হয়।

এদিকে সোমবার সরকারের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছেন লাখ লাখ ইরানি। দেশটির প্রধান শহরগুলোতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা যেমন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, তেমনি ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের’ বিরুদ্ধেও স্লোগান দিয়েছেন তারা।

ইরানের বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই দেশটির সরকারকে উদ্দেশ্য করে একের পর এক ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে ‘বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে’ তিনি সেখানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন। জবাবে ইরানও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে।

তবে এই বাগযুদ্ধের মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, “আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের (স্টিভ উইটকফ) মধ্যে যোগাযোগের চ্যানেল খোলা রয়েছে। প্রয়োজন হলে বার্তা আদান-প্রদানও করা হচ্ছে।